Image description

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগে চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর নতুন ধারা ৯খ-এর আওতায় সারাদেশে ২১০টি মামলা দায়ের হয়েছে। এই ধারায় বিয়ের প্রলোভনে যৌনকর্মের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনায়, রংপুরের তাজহাট থানায় গত ২২ এপ্রিল এক নারী তাঁর সহকর্মী প্রেমিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অভিযোগে বলা হয়, ২০২২ সালে চাকরির সুবাদে পরিচয়ের পর ২০২৩ সালে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার যৌন সম্পর্ক স্থাপনের পর প্রেমিক তাঁকে রংপুরে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে হোটেলে ধর্ষণ করেন এবং পরে পালিয়ে যান। নারী প্রেমিকের গ্রামের বাড়িতে চার দিন অনশন করেন, কিন্তু প্রতিকার না পেয়ে মামলা করেন। তাজহাট থানার ওসি মো. শাহজাহান আলী জানান, আসামি হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছেন, এবং মামলার অভিযোগপত্র তৈরির কাজ চলছে।

অন্য এক মামলায়, গত ১ জুলাই চট্টগ্রামের এক তরুণী মতিঝিল থানায় ফেসবুকে পরিচিত এক তরুণের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ করেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নতুন ধারা ৯খ সংযোজনের বিষয়ে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, বিয়ের প্রলোভনে যৌনকর্মের মামলাগুলো ধর্ষণের প্রচলিত সংজ্ঞার মধ্যে থাকলেও এগুলোর বিচার দ্রুত করতে এবং নৃশংস ধর্ষণের মামলার বিচারে বিলম্ব এড়াতে এই ধারা আলাদা করা হয়েছে। তবে তিনি জানান, প্রতারণামূলক সম্মতি ছাড়া অন্যান্য ধর্ষণের মামলা প্রচলিত সংজ্ঞা অনুযায়ী বিচার হবে।

আইন বিশ্লেষক ফউজুল আজিম বলেন, নতুন ধারা ভুক্তভোগী নারীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে এবং অপরাধীদের শাস্তি হবে। তবে তিনি এই ধারার অপব্যবহারের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেন। উদাহরণ হিসেবে, পল্লবী থানায় গত ১৮ জুন এক নারীর দায়ের করা মামলা তদন্তে ‘ভুয়া’ প্রমাণিত হয়েছে। পুলিশ জানায়, নারী পূর্বের একটি সমঝোতার পর বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছিলেন, যা তিনি পরে স্বীকার করেন।

আইন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সারা দেশে ধর্ষণের মামলা হয়েছে ২ হাজার ৭৪৪টি। সংশোধিত অধ্যাদেশে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার জন্য ক্ষতিপূরণ ও সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।