
সফলতা মানুষের জীবনের অন্যতম আকাঙ্ক্ষিত বিষয়। তবে কোরআনের দৃষ্টিতে এই সফলতার সংজ্ঞা ভিন্ন, যেখানে পার্থিব অর্জনের চেয়ে আত্মিক ও নৈতিক গুণাবলীকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনের সুরা লুকমানে আল্লাহ তাআলা সফল ও হেদায়েতপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তিনটি অপরিহার্য গুণের কথা উল্লেখ করেছেন। এই গুণগুলো হলো নামাজ প্রতিষ্ঠা করা, যাকাত প্রদান করা এবং পরকালে দৃঢ় বিশ্বাস রাখা।
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে,“যারা সালাত কায়েম করে এবং যাকাত দেয়, আর তারাই আখিরাতে নিশ্চিত বিশ্বাসী। তারাই তাদের রবের পক্ষ থেকে হিদায়াতের উপর আছে এবং তারাই সফলকাম।”(সুরা লুকমান ৪-৫ )
কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী, নিয়মিত নামাজ আদায় সফলতার প্রথম স্তম্ভ। নামাজ কেবল একটি আনুষ্ঠানিক ইবাদত নয়, এটি মানুষকে আল্লাহর আদেশ মেনে চলার এবং তার প্রতি ভয় ও বিনয় প্রদর্শনের এক স্থায়ী অভ্যাসে পরিণত করে। এই অভ্যাস মানুষকে অন্যায় ও গর্হিত কাজ থেকে দূরে রাখে। এর মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর সঙ্গে তার সম্পর্ককে শক্তিশালী করে তোলে এবং তার প্রতিটি কর্ম আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়।
সফলতার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ গুণ হলো যাকাত প্রদান। এটি কেবল একটি আর্থিক বাধ্যবাধকতা নয়, বরং আত্মিক পরিশুদ্ধি ও আত্মত্যাগের এক অনন্য মাধ্যম। হিসাব করে যাকাত দেওয়ার মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে পার্থিব সম্পদের প্রতি যে মোহ থাকে তা দমন হয় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হয়। এর মাধ্যমে একজন মানুষ তার সম্পদকে পবিত্র করে তোলে এবং সমাজের দরিদ্র ও অভাবী মানুষের প্রতি তার দায়িত্ব পালন করে।
পরকালে বিশ্বাস সফলতার তৃতীয় অপরিহার্য গুণ। আখেরাতে দৃঢ় বিশ্বাস মানুষকে তার প্রতিটি কাজের জন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে—এই অনুভূতি দেয়। এই বিশ্বাস একজন মানুষকে স্বেচ্ছাচারী জীবনযাপন থেকে বিরত রাখে এবং সে নিজেকে এমন একজন হিসেবে গড়ে তোলে যে মনে করে, সে এক মহান প্রভুর গোলাম এবং তার প্রতিটি কাজের জন্য তাকে জবাবদিহি করতে বাধ্য। এই দায়িত্ববোধ তাকে নৈতিক ও ন্যায়নিষ্ঠ জীবনযাপনে উৎসাহিত করে।
Comments