
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর লাঠিপেটার ঘটনাকে ‘নৃশংস’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শনিবার এক বিবৃতিতে সরকার জানিয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা নুরের ওপর হামলায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের সংঘর্ষের পর রাত সাড়ে ৯টায় মশাল মিছিলের আয়োজন করে গণঅধিকার পরিষদ। এরপর দলীয় কার্যালয়ের সামনে ব্রিফিংকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিপেটা করে বলে দাবি করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। এ ঘটনায় আহত নুরুল হক নুর বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, পুলিশের সহযোগিতার অনুরোধে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে সম্পৃক্ত হয়। ‘শান্তিপূর্ণ সমাধানের সব চেষ্টা ব্যর্থ’ হওয়ায় ‘মব ভায়োলেন্স’ ঠেকাতে বলপ্রয়োগ করা হয়। এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর পাঁচ সদস্যও আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়।
এ ঘটনায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিন্দা জানিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা।
সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, “এই নৃশংস ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হবে। প্রভাব বা পদমর্যাদা যাই হোক, কেউ জবাবদিহিতা থেকে রেহাই পাবে না।” নুর ও তার দলের আহত সদস্যদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে রাষ্ট্রীয় খরচে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নুরের ‘ঐতিহাসিক ভূমিকা’র কথা উল্লেখ করে সরকার বলেছে, “তার সাহস ও আত্মত্যাগ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের প্রতীক।” সরকার জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘জনবিরোধী ষড়যন্ত্র’ প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়েছে।
Comments