
জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের সুস্থতা তাদের দলের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। শনিবার রাতে এক গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “শুক্রবার কাকরাইলে সংঘর্ষে আমাদের ২৯ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, কয়েকজন গুরুতর। শনিবারও আমাদের কার্যালয়ে আগুন ও ভাঙচুরের চেষ্টা হয়েছে। এটা দেশকে বিশৃঙ্খলার দিকে নিয়ে যাওয়ার পাঁয়তারা।”
শুক্রবার সন্ধ্যায় গণঅধিকার পরিষদের জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ ও মশাল মিছিলের সময় সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী লাঠিচার্জ করে। এতে নুরুল হক নুর মাথা ও নাকে আঘাত পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় পার্টির কাকরাইল কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, আগুন ও এইচ এম এরশাদের ছবির ফলক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জলকামান দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে।
শামীম হায়দার বলেন, “আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা করছি। নুরের সুস্থতার জন্য দোয়া করছি। পরিস্থিতি শান্ত হোক, এটাই আমরা চাই।” তিনি আরো বলেন, “নির্বাচনের তফসিলের আগে এমন বিশৃঙ্খলা ভোটের পরিবেশ নষ্ট করছে। বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে।”
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, এবি পার্টি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকিসহ বিভিন্ন দলের নেতারা নুরের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। জামায়াত ও এনসিপি ঘরানার দলগুলো অভিযোগ করছে, জাতীয় পার্টিকে আগামী নির্বাচনে বিরোধী দল করার পরিকল্পনা চলছে। বিএনপি মনে করে, নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের অংশ এই অস্থিরতা।
জাতীয় পার্টির এক শীর্ষ নেতা বলেন, “আমরা সরকার ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের ধৈর্য ধরতে বলেছে। জিএম কাদের জুলাই আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন। আমরা ক্ষমতায় যেতে চাই, দোসর হতে নয়।”
Comments