Image description

নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) ছয় কর্মকর্তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করেছে কমিশন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ২৯৮তম কমিশন সভায় এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ওএসডি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন মহাপরিচালক আশীষ কুমার কুণ্ডু, পরিচালক এম এ তালেব হোসেন, পরিচালক আফতাব মো. রাশেদুল ওয়াদুদ, পরিচালক মো. এয়াকুব আলী ভূঁইয়া, উপপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান এবং উপপরিচালক বেগম শারমিন সুলতানা।

জানা গেছে, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের তিনটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ৩০ জুলাই এ নির্দেশনা আসে। অভিযুক্ত প্রত্যেককেই আলাদা করে ওএসডি চিঠি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা অফিসে সংযুক্ত থাকলেও তাদের স্বাক্ষর ক্ষমতা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। শ্বেতপত্র কমিটির রিপোর্ট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, নিয়োগ কমিটির সুপারিশ ও কমিশন সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৯ জন প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ১৫ জন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতার নিরিখে আবেদন ও নিয়োগ পাওয়ার অযোগ্য ছিলেন। বিটিআরসি সূত্র জানায়, অযোগ্য প্রমাণিতদের মধ্যে বেশির ভাগই ইতোমধ্যে চাকরি ছেড়েছেন।

তদন্তে সাবেক কমিশনার ড. মুশফিক মান্নান চৌধুরীর বিরুদ্ধেও অনিয়মের প্রমাণ মেলে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি সরকারের সঙ্গে কোনো চুক্তি ছাড়াই কমিশনার পদে দায়িত্ব পালন করেন এবং এ সময়ে বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ বিটিআরসিকে এ অর্থ ফেরত আনার জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে।

অভিযোগের মধ্যে আরও রয়েছে– মহাপরিচালক আশীষ কুমার কুণ্ডু কমিশন সভার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব ছাড়াই সিদ্ধান্ত বিলম্বিত করেছেন। পরিচালক এম এ তালেব হোসেন যথাযথ চাকরির মেয়াদ পূরণ না করেও পদোন্নতি নেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এবং প্রভাব খাটিয়ে পদোন্নতি নিয়েছেন। একইভাবে পরিচালক আফতাব মো. রাশেদুল ওয়াদুদ মাত্র এক বছর ২২ দিন চাকরি করার পরই পদোন্নতি পান, আর মো. এয়াকুব আলী ভূঁইয়া মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই উপপরিচালক থেকে পরিচালক হন।

অভিযোগ রয়েছে, উপপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ পান। অন্যদিকে বেগম শারমিন সুলতানা বয়স ও যোগ্যতা না মেলালেও সহকারী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান এবং পরে নিয়ম বহির্ভূতভাবে স্থায়ীকরণ ও পদোন্নতি লাভ করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, বিটিআরসির আরও যেসব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তাদের কাছ থেকে ব্যাখ্যা তলব করার বিষয়েও কমিশনের সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।