Image description

রিয়াদ আল-গাজালি। যুদ্ধের আগে তার ওজন ছিল ৭৮ কেজি। খাবারের অভাবে সেই ওজন কমে মাত্র ৪২ কেজিতে দাঁড়িয়েছে। পর্যাপ্ত খাবার নেই। কোনো কিছু কেনার মতো সামর্থ্যও নেই। রিয়াদ আল-জাজিরাকে বলেছেন, ‘আমি প্রতিদিন অর্ধেক রুটি খাই। কারণ এর বেশি আমাদের কাছে নেই। কখনো কখনো শুধু লবণ খেয়ে থাকি।’ 

তিনি আরও বলেছেন, ‘আগে আমার হাত মাংসে ভরপুর ও শক্তিশালী ছিল। এখন সেগুলো কেবল চামড়া আর হাড়।’ শুধু রিয়াদই নন, ক্ষুধার কারণে চরম দুর্দশার মুখে পড়েছেন গাজার বৃদ্ধরা। শুকিয়ে দিন দিন কঙ্কালসার হচ্ছেন তারা। ‘জীবন্ত কঙ্কাল’ হয়েই কোনোরকমে নিঃশ্বাস নিচ্ছেন যুদ্ধবিধ্বস্ত উপত্যকাটিতে। আলজাজিরা, এএফপি।

রিয়াদের স্ত্রী নাদিয়া আবু শাবান বলেছেন, ‘কখনো কখনো রাতের খাবার ছাড়াই আমরা ঘুমাই। আমাদের কাছে সত্যিই খাবার নেই।’ 

এদিকে গাজার বৃদ্ধাশ্রমগুলোতেও বয়স্কদের সেবা করার সুযোগ কমে গেছে। একটি বৃদ্ধাশ্রমের পরিচালক আশরাফ হামাদা আলজাজিরাকে বলেছেন, ‘গত কয়েক মাসে আমরা ক্ষুধা ও অনাহারের কারণে পাঁচজন বৃদ্ধকে হারিয়েছি। আমাদের কাছে কোনো মৌলিক জিনিসপত্র নেই। বাজারে বা দাতব্য রান্নাঘরেও কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না।’ 

ক্ষুধায় ভুগছে গাজার শিশুরাও। বুধবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক বিশেষ বৈঠকে সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রধান ইঙ্গার অ্যাশিং গাজায় দুর্ভিক্ষের হৃদয়বিদারক বর্ণনা দিয়ে বলেছেন, ‘এই দুর্ভিক্ষ কেবল একটি প্রযুক্তিগত শব্দ নয়। এটি শিশুদের ধীরে ধীরে যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যুর দিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে। তারা এতটাই দুর্বল যে কান্নাও করতে পারে না।’ 

ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে বুধবার পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ২ জন শিশু। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে মোট মৃত্যু হয়েছে ৩১৭ জনের। এদের মধ্যে ১২১ জনই শিশু।