নেত্রকোনায় জমি বিরোধে পৌরসভা কর্মীকে মারপিট, হাতের আঙুল বিচ্ছিন্ন

নেত্রকোনা পৌরসভার পানি রক্ষণাবেক্ষণ শাখার কর্মী ইজ্জত খান রানা (৫১)-কে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারপিট করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ ঘটনায় তার হাতের দুটি আঙুলের অগ্রভাগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনায় রানা বাদী হয়ে সোমবার রাতে নেত্রকোনা সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
বুধবার (৬ আগস্ট) বিকেলে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মো. শাহনেওয়াজ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার (৩ আগস্ট) বিকেলে ইজ্জত খান রানা নেত্রকোনা পৌরসভার পশ্চিম সাতপা এলাকায় তার বাবা মৃত আলী হোসেন খানের নামে বিআরএস রেকর্ডকৃত জমিতে ট্রাক্টর নিয়ে হালচাষ করতে যান। এ সময় মুঘল আজম খান ও শাহনূর খানের লোকজন তার ওপর হামলা করে। হামলায় রানার হাতের দুটি আঙুলের অগ্রভাগ কেটে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় মঙ্গলবার তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ইজ্জত খান রানা নেত্রকোনা পৌরসভার পশ্চিম সাতপা এলাকার মৃত আলী হোসেন খানের ছেলে। জানা গেছে, তার বাবার নামে রেকর্ডকৃত ওই জমি মুঘল আজম খান ও শাহনূর খানের লোকজন দখল করে রেখেছিলেন। এই জমি নিয়ে শাহনূর খানের চাচাতো বোন সালেহা বেগম ২০০৮ সালে নেত্রকোনা আদালতে রেকর্ড সংশোধনের জন্য মামলা দায়ের করেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে মামলার রায় ইজ্জত খানের বাবার পক্ষে যায়।
শাহনূর খান বুধবার বিকেলে মোবাইল ফোনে দাবি করেন, ইজ্জত খান যে জমিতে হালচাষ করতে গিয়েছিলেন, সেটি তার চাচাতো বোন সালেহা বেগমের। তিনি বলেন, “জমিটি একাধিকবার বিক্রি হয়েছে। ইজ্জত খান ও সালেহা বেগম চাচাতো ভাই-বোন। সালেহার বাবার ভাগের জমি ইজ্জতের বাবার নামে রেকর্ড হয়। রেকর্ড সংশোধনের মামলা প্রত্যাহার করে পুনরায় মামলা করা হয়। মারপিটের ঘটনা তেমন কিছু নয়। ইজ্জত খান ট্রাক্টরে হাত লাগিয়ে আঙুলের কিছু অংশ কেটে ফেলেন।”
নেত্রকোনা সদর থানার ওসি কাজী মো. শাহনেওয়াজ জানান, ইজ্জত খান রানার আঙুল কাটার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
Comments