Image description

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মুশুলী ইউনিয়নের তারেরঘাট এলাকায় পাথর মহালের ২৯টি পাথর ভাঙার মেশিন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না থাকায় গত ২৩ জুলাই পরিচালিত এক ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযানে পাথর ব্যবসায়ী সমিতিকে এক লাখ টাকা জরিমানা এবং বেশ কিছু যন্ত্রপাতি ও পাথর জব্দ করা হয়।

ইউএনওর পদক্ষেপ ঘিরে এলাকায় যেমন আইনের প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তেমনি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কারণ, তারেরঘাট কেন্দ্রিক পাথর মহাল ঘিরেই জীবিকা নির্বাহ করেন অসংখ্য শ্রমিক ও পরিবার। যাদের মধ্যে আছেন দিনমজুর, গাড়িচালক, হেলপার, লেবার ও খুচরা ব্যবসায়ী।

ব্যবসায়ীরা বলেন, বিগত ৭০ বছর কখনো এমন হয়নি। নিয়ম মেনেই ব্যবসায় করে আসছি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী রায়হান আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, “জরিমানার টাকা আমরা পরিশোধ করেছি। পরিবেশ ছাড়পত্র নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে। অথচ কোনো সময় না দিয়েই মালামাল জব্দ করে নিলামে তোলা হচ্ছে,এটা সম্পূর্ণ অন্যায়। আমরা চেয়েছিলাম আমাদের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সময় দেওয়া হোক, কিন্তু তা দেওয়া হয়নি।”

তিনি আরও বলেন: “আমরা নিয়ম মানতেই প্রস্তুত, প্রশাসন কেবল আমাদের কাগজপত্র যাচাই করুক, সেই সুযোগটুকু দিক।”

জানা গেছে, ইতোমধ্যে গত ২৭ জুলাই তিনটি জাতীয় দৈনিকে জব্দকৃত মালামাল নিলামের বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে, যা নিয়ে ব্যবসায়ী ও শ্রমিক মহলে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পাথরঘাট বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা বেকার অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

শ্রমিক রফিকুল ইসলাম বলেন: “আমরা জানি পরিবেশ রক্ষা জরুরি, কিন্তু হঠাৎ কাজ বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের খাবার জোটে না। আগে তো বাঁচতে হবে তারপর তো নিয়ম মানা যাবে।”

স্থানীয় বৃদ্ধ শ্রমিক সোলেমান মিয়া বলেন, “এই বয়সে আর কোথায় যাব? পাথর না ভাঙলে খামু কী? প্রশাসনের কাছে হাতজোড় করে বলি, দয়া করে একটু সময় দিন।”

একইভাবে মহিলা শ্রমিক রেহেনা বেগম বলেন, “আমি প্রতিদিনের মজুরিতে সংসার চালাই। এখন কাজ নেই। প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ, যেন আমরা নিয়ম মেনে আবার কাজে ফিরতে পারি।”

পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান বাচ্চু বলেন, “আমরা আইন মেনে ব্যবসা করতে চাই। পরিবেশ ছাড়পত্র পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করেছি এবং আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু আমাদের মালামাল জব্দ করে হঠাৎ নিলামে তোলা হলে আমরা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবো। এর সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদেরও কর্মহীন হয়ে অনাহারে দিন কাটাতে হবে।”

পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব আইয়ুব আলী খান বলেন,আমরা প্রতারক ইউএনওর প্রত্যাহার চাই। সে আমাদের কাছ থেকে দুই দিন সময় নিয়ে আবার নিলাম বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। আমাদের নিজের টাকা দিয়ে কেনা পাথর সে কি নিলাম দিতে পারে বলেন? সে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন আমরা তার বিচার চাই, আজকের মধ্যে যদি ব্যবসায়ীদের রুজি রোজগারের ব্যবস্থা না করা হয় কাল থেকে রাস্তা ঘাট সব কিছু বন্ধ করে দেওয়া হবে। ইউএনওকে প্রত্যাহার না করা হলে আন্দোলন চলবেই।

উপজেলা জামায়াতে ইসলামী আমীর কাজী শামসুদ্দীন বলেন, আমি ইউএনওর সাথে কথা বলেছি আপাতত ব্যবসা চলমান থাকবে এবং জব্দকৃত মালামালের বিষয়ে কথা বলে সিদ্ধান্ত করা হবে। যেহেতু ব্যবসায়ীরা হাইকোর্টে রিট করেছে এবং ব্যবসায়ীদের পাথর কেনার কাগজপত্র আছে সেহেতু তাদের পাথর ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সারমিনা সাত্তার জানান,“পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া যন্ত্রচালিত পাথর ভাঙা কার্যক্রম আইনবিরুদ্ধ। তবে আমরা শ্রমিকদের স্বাভাবিক, হাতে পাথর ভাঙা বা লোড-আনলোডের বৈধ কাজ বন্ধ করিনি। “আমাদের উদ্দেশ্য দমন নয়, বরং নিয়মের মধ্যে থেকেই সবাইকে নিয়ে চলা। যারা পরিবেশ ছাড়পত্র সংগ্রহ করবেন, তারা নিয়ম মেনে পুনরায় কাজ শুরু করতে পারবেন।”