
দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ঘটনা টেনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেছেন, ‘গত এক বছরে মাজার, বাউল, নারী আদিবাসীদের ওপর হামলা দেখেছি। সম্প্রতি নুরুল হক নূরের ওপর যে নির্মম আক্রমণ হয়েছে, এরপরে আর এই সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদে থাকার কোনো নৈতিক ভিত্তি নেই।’
আজ রোববার (৩১ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ‘সারাদেশে শিক্ষকদের ওপর নিপীড়ন, নাগরিক কর্মসূচিতে হামলা এবং নুরুল হক নুরের ওপর সেনা-পুলিশি নির্যাতনের বিরুদ্ধে’ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক আয়োজিত প্রতিবাদী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে বক্তারা ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সভা করতে গিয়ে হামলা এবং ঢাবি অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরাপত্তা বিধানে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
সামিনা লুৎফা বলেন, ‘পুরো বছরটা জুড়ে যখন শ্রমিক, তথ্য আপা, ইবতেদায়ী মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে তখন কিন্তু কাউকে আমরা কথা বলতে দেখিনি। এখন যেহেতু সরকারের উপদেষ্টারা নিন্দা জানাচ্ছেন যেখানে তাদের দায় হচ্ছে মানুষের নিরাপত্তা বিধান করা। সেটা করতে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। এই ব্যর্থতার দায় তাদেরকে নিতে হবে।’
সামিনা লুৎফা আরও বলেন, কিছু রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহল আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগে বাংলাদেশকে অস্থির করে তুলছে। এই অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে সরকার সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। এর চাইতে আর কোনো জঘন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আমরা দেখিনি। প্রতিদিন আমাদেরকে জান হাতে নিয়ে বের হতে হচ্ছে।
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন বলেন, চব্বিশ ছিল কথা বলার স্বাধীনতা। কথা বলতে গিয়ে এখন মানুষ বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে। হঠাৎ করে পাঁচ আগস্টের পর নিজেদেরকে ক্ষমতায়িত মনে করছে একটি গোষ্ঠী দেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। মত প্রকাশের পরিসর ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। এই সংকোচন দেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এজন্যই বলি দেশের ঘাড়ে আসলে ভূত চেপেছে। এই ভুত আমাদের সরাইতে হবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক নাসির উদ্দীন বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময় নুরের ওপর যেভাবে পুলিশ এবং সেনা সদস্যরা হামলা করেছে, বুয়েটের ছাত্রদের ওপর যেভাবে আক্রমণ হয়েছে সেটা অনাকাঙ্ক্ষিত। এই চরিত্র আমরা রাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রত্যাশা করিনি। অন্তর্বর্তী সরকারের এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে।’
Comments