
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মাঝে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। চীনের উত্তরাঞ্চলীয় বন্দরনগরী তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট।
রোববার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে চিরবৈরী প্রতিবেশী চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, শুল্ক ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের অচলাবস্থার মাঝে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, সীমান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ জোরদার করার উপায় নিয়েও আলোচনা করেছেন এ দুই নেতা।
ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, ‘‘বিস্তারিত তথ্য-উপাত্তে না গিয়েই আমি বলব, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ ইস্যু উত্থাপন করেছিলেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, সন্ত্রাসবাদ এমন এক অভিশাপ যার শিকার ভারত ও চীন দু’দেশই।’’
মিশ্রি বলেন, এই সংকট মোকাবিলায় চীনের সমর্থন চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। চীনও এতে সমর্থন জানিয়েছে।
পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে চীন গত জুনে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনের যৌথ ঘোষণায় পেহেলগাম হামলার বিষয়টি উল্লেখ করেনি। যে কারণে সেই সময় যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল ভারত। যৌথ ঘোষণায় পেহেলগাম হামলার ঘটনার পরিবর্তে বেলুচিস্তানে হামলার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছিল। বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় পরোক্ষভাবে ভারতের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর ভারত ও চীনের সম্পর্কে নতুন মোড় নিয়েছে। এর ফলে নয়াদিল্লি ও বেইজিং একসঙ্গে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ভারত ও চীন উভয়ই কৌশলগত স্বশাসন অনুসরণ এবং তাদের সম্পর্ককে ‘তৃতীয় কোনও দেশের দৃষ্টিকোণ’ থেকে দেখা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।
বিবৃতিতে বলা হয়, দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে একই অবস্থানে থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন নরেন্দ্র মোদি ও শি জিনপিং।
সোমবার সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলা ও অপারেশন সিন্দুরের পর প্রতিবেশী এ দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মাঝে প্রথম বৈঠক হতে যাচ্ছে এটি।
Comments