জনবল সংকটে মুখ থুবড়ে পড়েছে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাত্র ৩ (তিন) জন চিকিৎসকের মধ্যে এক জনকে বদলি করা হয়েছে। এনিয়ে উপজেলার সাধারণের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। প্রায় ৩ লাখ মানুষের জন্য ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটিতে বর্তমানে চিকিৎসক সংকট থেকে শুরু করে সরঞ্জাম, অ্যাম্বুলেন্সসহ নানাবিধ সমস্যার কারণে রোগীরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। পদ থাকলেও নেই সার্জারি, নাক, কান, গলা ও চক্ষু কনসালটেন্ট। যেখানে চিকিৎসকের পদ ৩১টি, সেখানে কর্মরত মাত্র ২ জন। ৩৪ জন নার্স কর্তৃক সেবাদানের কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র ১৫ জন।
একইভাবে জরুরি সেবার জন্য ডিজিটাল এক্সরে মেশিন, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, ইসিজি যন্ত্র, অপারেশন থিয়েটার থাকা সত্তেও জনবল সংকটে সেগুলো অকেজো হয়ে পড়ে আছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বললে অধিকাংশই পাটগ্রাম হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা নিয়ে অসন্তুষ্ট।
এক বৃদ্ধ বলেন, এই হাসপাতালের কথা বলে কি লাভ। হাসপাতালের টয়লেটে নাক চেপে ঢুকতে হয়। মানববন্ধন, প্রতিবাদ করে কি করবেন? আজ পর্যন্ত কোনো উন্নতি হয়েছে বলেন? যতই বলেন না কেনো ডাক্তার, টেস্ট, যন্ত্রের সমস্যা কোনোদিনও দুর হবে না।
স্থানীয় বাসিন্দা রহিমা বেগম জানান, আমার ছেলেকে জ্বর-ডায়রিয়া নিয়ে সকাল ৯টায় হাসপাতালে এসেছিলাম। দুপুর ২টা পর্যন্ত বসে থেকেও ডাক্তার পাইনি। শেষে বাধ্য হয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যেতে হয়েছে।
আরেক রোগী মাহবুবুর রহমান বলেন, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চিকিৎসা মেলে না। অনেক সময় নার্সদের কাছ থেকেই ওষুধ লিখে নিতে হয়।
আকবর নামে একজন বলেন, একজন গর্ভবতী নারী আসলে নার্সরা অন্যখানে পাঠিয়ে দেন। তাহলে আপনারা এখানে কেনো আছেন? আপনাদের কি এখানে রাখা হয়েছে অন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টার আর দাইদের দালালি করার জন্য?
প্রকৃতপক্ষে দীর্ঘদিনের এই সমস্যা নিয়ে ইতোমধ্যে নানানভাবে প্রতিবাদ হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নামেমাত্র ভবন দাড়িয়ে আছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (২৬ আগষ্ট) পাটগ্রাম উপজেলা হাসপাতাল চত্বরে পাটগ্রামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কর্তৃক আয়োজিত এক মানববন্ধনে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। সেখানে একইভাবে বক্তারা হাসপাতালের সার্বিক ভঙ্গুর পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিআইসি) ডা. দেবব্রত কুমার রায় জানান, চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি আমরা বারবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। অনুমোদিত ৩৩টি পদের মধ্যে অধিকাংশই শূন্য। বারবার চাহিদা পাঠানো হলেও এখনো কোনো প্রকার আশ্বাস মেলেনি।
পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার দাশ বলেন, আমরা হাসপাতালের সার্বিক বিষয় জেনেছি। কার্যকর ব্যবস্থা যাতে করে নেওয়া যায় সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। আশা করা যায় সেবার মান নিশ্চিতে সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।
Comments