সাদুল্লাপুরে বিএনপির জেলা সভাপতির অপসারণের দাবিতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. মইনুল হাসান সাদিকের অপসারণ দাবিকে কেন্দ্র করে দলীয় দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য, সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুরে সাদুল্লাপুর শহরে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল ও উপজেলা বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়। সেইসাথে, উত্তেজিত নেতাকর্মীরা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ছামছুল হাসান ও সদস্য সচিব আব্দুস ছালাম মিয়াসহ সহস্রাধিক নেতাকর্মী অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মাঠে নামে। সাদুল্লাপুর শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
প্রত্যক্ষসুত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকেলে বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. ময়নুল হাসান সাদিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সাদুল্লাপুর উপজেলা বিএনপি। তারই জেরে আজ সকাল থেকে বিএনপির একপক্ষ উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে বিভিন্ন ইউনিয়নে ও বনগ্রাম ইউনিয়নের পকেট কমিটি এবং ফ্যাসিবাদ পূর্ণবাসনকারী জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. ময়নুল হাসান সাদিকের অপসারণ চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি সাদুল্লাপুর চৌমাথা এসে পৌঁছিলে সেনা বাহিনী ও পুলিশ সংঘর্ষ এরাতে মিছিলটি ফিরিয়ে দেয়। পরে মিছিলটি শহীদ মিনারে অবস্থান করে। পরে ডাঃ সাদিকের লোকজন ও উপজেলা আহ্বায়ক ছামছুল হাসান ছামছুল ও সালামের সমর্থকরা লাঠি নিয়ে আস্থায়ী কার্যালয় হতে ধাওয়া করতে করতে শহীদ মিনারে পৌঁছিলে বিপক্ষ গ্রুপের দিকে এলে একপর্যায়ে দলীয় দুই পক্ষের সংঘর্ষে পাল্টাপাল্টি হামলার সৃষ্টি হয়। পরে পাল্টা ধাওয়া করে ডা. সাদিকের লোকজনের উপর। বনগ্রাম ইউনিয়নে নেতাকর্মী লাঠি নিয়ে ভাঙচুর করে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়সহ কয়েকটি মোটরসাইকেল। সেইসঙ্গে অন্তত ১০ জন আহত হন। সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিক শাকিল মিয়াসহ উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করে। এ সময় শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে।
এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর থানার ওসি তাজউদ্দিন খন্দকার বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে শহর শান্ত রয়েছে। তবে এখনও লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।”
Comments