হাতিয়ার মানুষ নদী ভাঙনে নিঃস্ব, লাল পোল ব্রিজ হাহাকারের নীরব সাক্ষী

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নের লাল পোল ব্রিজ এখন মেঘনা নদীর বুকে একাকী দাঁড়িয়ে। মেঘনার অব্যাহত ভাঙনে সংযোগ সড়ক, বাড়িঘর, বাজার সবই নদীগর্ভে তলিয়ে গেলেও ব্রিজটি রয়ে গেছে হাহাকারের নীরব সাক্ষী হিসেবে। এক সময় এই সেতু দিয়ে হাজারো মানুষ কালাদূর থেকে ভূমিহীন বাজারে যাতায়াত করতেন, কিন্তু এখন এটি শুধুই স্মৃতির অংশ।
স্থানীয় বৃদ্ধ কৃষক নুরুল আমিন বলেন, “এই ব্রিজ দিয়ে আমরা বহুবার বাজারে গেছি। নদী সব গ্রাস করলেও ব্রিজটি আমাদের দুঃখের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।” মো. ইলিয়াস হোসেন জানান, “ভাঙনের ফলে আমরা নিঃস্ব। যাতায়াত, কৃষি, ব্যবসা সব ধ্বংস হয়ে গেছে। বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।”
চানন্দী ইউনিয়নের ব্যবসায়ী মো. ফাহিম বলেন, “নদী শুধু ঘরবাড়ি নয়, আমাদের জীবিকাও কেড়ে নিয়েছে। মানববন্ধন, সভা করেও কোনো সুরাহা পাইনি। সরকার টেকসই বাঁধ না দিলে পুরো ইউনিয়ন হারিয়ে যাবে।”
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হাতিয়ায় ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। টেকসই পরিকল্পনা ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।”
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নোয়াখালী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হালিম সালেহী জানান, “ব্রিজটি প্রায় এক বছর আগে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ছয় কিলোমিটার প্রতিরক্ষা প্রকল্প একনেকে পাস হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে ভাঙন কমবে। তবে ব্রিজটির জন্য কিছু করার নেই।”
স্থানীয়রা দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে ভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
Comments