Image description

চুয়াডাঙ্গা জেলা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে শনিবার সকাল ১০ টার সময় এক গুরুত্বপূর্ণ পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সভার উদ্দেশ্য ছিল দ্রুত বিচারিক সেবা নিশ্চিত করা এবং জেলা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করার লক্ষ্যে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ। কনফারেন্সটি আয়োজন করে চুয়াডাঙ্গা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিমুল কুমার বিশ্বাস, যিনি বলেন, “দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচারিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে এবং সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা আমাদের মূল লক্ষ্য।” 

তিনি আরো বলেন, "আমরা চাই, বিচার প্রক্রিয়া যেন সহজ, সঠিক এবং স্বচ্ছ হয়, যাতে জনগণকে কোনো ধরনের হয়রানি না ভোগ করতে হয়।"

তিনি জেলা পুলিশ এর কর্মকর্তার উদ্দেশ্য বলেন সকল তদন্ত রিপোর্ট দূরত্ব সম্ভব দিতে হবে এছাড়াও মাদক এর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের ড্রপ টেস্ট করতে হবে এবং তাদেরকে দেশের আইন অনুযায়ী সঠিক বিচারের মুখোমুখি নিয়ে আসতে হবে, এছাড়াও কাউকে  মিথ্যা মামলায় হয়রানি করলে তাদের ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাদক পাচার ও স্বর্ণ চোরাচালান প্রসঙ্গে আলোচনা হয়েছিল বিশেষভাবে। চুয়াডাঙ্গা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মারুফ সরোয়ার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "মাদক মামলার আসামিরা দ্রুত জামিন পাচ্ছে, এবং স্বর্ণ ও মাদকের গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। শুধুমাত্র ছোটখাটো পাচারকারীদের গ্রেফতার করলে এই অপরাধ বন্ধ হবে না।"

পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটদের মধ্যে সহযোগিতা প্রসঙ্গে, ম্যাজিস্ট্রেটরা দ্রুত সময়ে সঠিক তদন্ত ও রিপোর্ট জমা দেওয়ার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন, যাতে বিচার কার্যক্রম দ্রুত শেষ করা সম্ভব হয়। তারা জানান, পুলিশের সহযোগিতায় মামলার সাক্ষীদের সঠিক সময়ে আদালতে হাজির করা এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

সভায় অন্যান্য বক্তারা একমত হন যে, ২০১৮ আইন সংশোধনীর পিআর ও অন্যান্য মামলা মাধ্যমে সঠিক এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং সরকারী সেবা যেন জনগণের জন্য সহজ এবং কার্যকর হয়।

এসময় চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণসহ, অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। ম্যাজিস্ট্রেটরা দ্রুত মামলার তদন্ত সম্পন্ন করে স্বচ্ছ ও নির্ভুল রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য পুলিশকে অনুরোধ করেন। তারা বলেন, সঠিক তদন্ত ও রিপোর্ট সময়মতো জমা হলে বিচার কাজ অনেক দ্রুত সম্পন্ন হবে। এর পাশাপাশি, বিচারিক কার্যক্রমে পুলিশ এবং আইনজীবীদের সহযোগিতা কামনা করেন ম্যাজিস্ট্রেটরা। 

এসময় আরো আলোচনা হয় সমন/গ্রেফতারি পরোয়ানা ও ক্রোকি পরোয়ানার দ্রুত তামিল নিয়ে। মামলার সাক্ষীদের যথাসময়ে আদালতে হাজির করা এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ইনকোয়ারি ও ইনভেস্টিগেশনে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা দূর করা, মেডিক্যাল সার্টিফিকেট, ময়না তদন্ত, ফরেনসিক ও ভিসেরা রিপোর্ট সময়মতো জমা দেওয়া, পুলিশ রিমান্ড এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতারের ক্ষেত্রে আপিল বিভাগের নির্দেশনা মেনে চলা সহ নানা বিষয়ে।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, পিবিআই ঝিনাইদহের এসপি গাজী রবিউল ইসলাম,চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কনক কুমার দাস,চুয়াডাঙ্গা কোর্টের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসমিন নাহার, মোঃ তৌহিদুল ইসলাম, লাভলী নাজনীন, মোঃ মোস্তফা কামাল, চুয়াডাঙ্গা জেলখানার জেলার মোঃ ফখর উদ্দিন, চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি খালেদুর রহমান, আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান, দামুড়হুদা থানার পুলিশ পরিদর্শক মোঃ হিমেল রানা, চুয়াডাঙ্গা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাড এস এম শামীম রেজা ডালিম, চুয়াডাঙ্গা কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর মোঃ মারুফ সরোয়ার, সিআইডির ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম
এছাড়াও, জেলা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এই কনফারেন্সের মাধ্যমে পুলিশ ও বিচার বিভাগের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সমন্বয় আরও শক্তিশালী হবে, যা বিচারপ্রার্থীদের জন্য দ্রুত ও সঠিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।