অপহরণের ১৩ দিন পর শিশু জোনায়েদের লাশ উদ্ধার, পুলিশের অবহেলার অভিযোগ

ঢাকার আশুলিয়ায় অপহরণের ১৩ দিন পর জোনায়েদ (০৫) নামের এক শিশুর গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে র্যাব-৪, অপহরণকারী ঘাতক মোরসালিনকে আটক করা হয়েছে। এদিকে পরিবারের অভিযোগ পুলিশের অবহেলায় জীবত উদ্ধার হয়নি তাদের সন্তান জোনায়েদ।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাত ৮ টার দিকে আশুলিয়ার শ্রীপুরের এজিজগেটের ফারুক নগর এলাকার বড়টেক জঙ্গল থেকে অপহরণের ১৩ দিন পর শিশু জোনায়েদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত জোনায়েদ গাইবান্ধা জেলা সদরের খামার বোয়ালি গ্রামের সাগর মিয়ার ছেলে। পোশাক শ্রমিক বাবা-মায়ের সাথে আশুলিয়ার শ্রীপুরের এজিজ গেট এলাকায় মিয়াজ উদ্দিন ভান্ডারির বাড়িতে ভাড়া থাকতো।
র্যাব জানায়, গত ১৬ আগস্ট ওই এলাকা থেকে খেলাধুলার কথা বলে জোনায়েদকে নিয়ে একটি জঙ্গলে আটকে রাখে মোরসালিন। পরে জোনায়েদের পরিহিত টি-শার্ট দিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করেন। এসময় জোনায়েদ মারা গেলে তাকে ওই জঙ্গলে ফেলে রেখে চলে যায় মোরসালিন। পরদিন আবার ঘটনাস্থলে গিয়ে জোনায়েদের মরদেহ লতাপাতা দিয়ে ঢেকে রেখে চলে যায় ঘাতক। এর পর থেকে আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে আর যায় নি মোরসালিন। পরে গতকাল ২৮ আগস্ট জোনায়েদের মায়ের কাছে ফোন করে ১০ হাজার টাকা দাবি করে, শিশুকে ফেরত দিলে বাকি ৩০ হাজার পরিশোধের জন্য বলে মোরসালিন। সেই ফোনের সূত্র ধরে আজ মোরসালিনকে আটক করে জোনায়েদর মৃতদেহ উদ্ধার করে র্যাব ৪।
আটক মোরসালিন রাজশাহী জেলার গোদাগারী থানার কাপাসিয়া পাড়ার মামুন আলীর ছেলে। তিনি আশুলিয়ার শ্রীপুরের এজিজ গেট এলাকায় মিয়াজ উদ্দিন ভান্ডারির বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
শিশুটির মা জাহানারা বেগম ও তার খালা পরী বেগম বলেন, আমার ছেলে গত ১৬ আগস্ট নিখোঁজ হয়। পরে এই দিনেই আশুলিয়া থানায় নিখোঁজ ডায়রি আমরা করি। তবে নিখোঁজ ডায়েরির পরও পুলিশ কোন তদন্ত করে না। আমরা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করতে বললে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক মাসুদ রানা আমার একজন লোককে বলেন, যদি ১০ হাজার টাকা দেন তাহলে কাজটা আমরা দ্রুত গতিতে করবো।
জোনায়েদের বাবা সাগর মিয়া বলেন, ঘটনার পরের দিন আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক মাসুদ রানা তদন্ত করতে আসেন। পরে তিনি টাকা দাবি করলে আমরা ১৫০০ টাকা দেই। তখন তিনি বলেন, এসব কি খুচরা টাকা দেন। আবার একদিন থানায় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখার জন্য গেলে সেদিনই আমাদের কাছে টাকা দাবি করেন। আমরা সামান্য কিছু টাকা দিলে এদিনও বলেন এসব কি খুচরা টাকা দেন। এসআই মাসুদকে আমরা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখার অনুরোধ করলে তিনি আমাদের ওপরই সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখার দায়িত্ব দেন।
তিনি বলেন, আপনারা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে থানায় নিয়ে আসেন। পুলিশ শুধু এরকম করেন, পুলিশের ওপর আমাদের কোন আস্থাই নাই, যে পুলিশ দিয়ে আমাদের কোন উপকার হবে। পুলিশ ঠিকঠাক কাজ করলে আমরা আমাদের সন্তানকে হয়তো জীবিত অবস্থায় পেতাম।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের পিছনে প্রায় ১২ দিন ঘুরে অবশেষে আমরা র্যাবের কাছে যাই। পরে র্যাব আজ সন্ধ্যায় ফারুক নগরের একটি জঙ্গল থেকে আমার ছেলের হাড়গোড় উদ্ধার করে। আমরা ছেলের টিশার্ট দেখে জোনায়েদকে শনাক্ত করি। র্যাব আমার ছেলের হত্যাকারীকে আটকও করেছেন। আমরা মোরসালিনের ফাঁসি চাই।
এব্যাপারে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন তিনি। পরবর্তীতে তার সাথে আবারও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে আর পাওয়া যায় নি।
আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, এধরনের একটি তথ্য আমার কাছেও এসেছে। এব্যাপারে ভুক্তভোগী যদি তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া হত্যাকান্ড ও অপহরণের ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
র্যাব-৪ সিপিসি-২ এর স্কোয়াড্রন লিডার মোঃ নাজমুল ইসলাম বলেন, আটক মোরসালিন প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন যে, তার বেশ কিছু টাকা ঋণ হলে জোনায়েদকে অপহরণ করে আটকে রাখে। উদ্দেশ্য ছিল অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায় করে ঋণের টাকা পরিশোধ করা। তিনি বলেন, আমরা আজ মুক্তিপণের টাকা দাবি করা ফোন কলের সূত্র ধরে জোনায়েদের মরদেহ উদ্ধার করি এবং ঘাতক মোরসালিনকে আটক করি।
নিহত শিশু জোনায়েদ এর পরিবারের দাবী, তার শিশুর হত্যাকাণ্ডের সাথে যে জড়িত তাকে দ্রুত শাস্তির আওতায় এনে আদালতের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা।
Comments