নতুন করোনার বিরুদ্ধে টিকা কতোটা কার্যকর?

করোনার ভ্যাকসিন - ছবি: সংগৃহীত

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২২ ডিসেম্বর ২০২০, ১৪:০৮,  আপডেট: ২২ ডিসেম্বর ২০২০, ১৪:১১

ব্রিটেনে ছড়াচ্ছে করোনার একটি নতুন প্রকরণ। স্বাস্থ্য উপদেষ্টারা বলছেন, এটির সংক্রমণ ক্ষমতা আরও বেশি হতে পারে।

ভাইরাসটি নিয়ে গবেষণা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও এরই মধ্যে কিছু কিছু জিনিস জানা গেছে।

করোনার উদ্ভাবিত টিকাগুলো এখনও এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করলেও তারা আশঙ্কা করছেন, এটি টিকা এড়িয়ে যাওয়ার পথে যাত্রা শুরু করেছে। এটির মধ্যে আরও বদল ঘটলে (মিউটেশন) এর বিরুদ্ধে টিকা কাজ করবে না।

ভাইরাসটির নতুন বৈশিষ্ট্য নিয়ে প্রাথমিক একটি বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছে। এতে ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হয়েছে বলে বিবিসির একটি প্রতিবেদনে জানা গেছে।

ভাইরাসটির স্পাইক প্রোটিনে পরিবর্তন এসেছে। আর স্পাইক প্রোটিনের মাধ্যমেই ভাইরাসটি মানুষের শরীরে প্রবেশ করে থাকে। ‘এন৫০১ওয়াই’ নামে চিহ্নিত একটি জিনের পরিবর্তনে স্পাইকের জায়গায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে, যা ‘রিসেপ্টর-বাইন্ডিং ডোমেইন’ নামে পরিচিত।

ভাইরাসের স্পাইক মানুষের ত্বকের সঙ্গে প্রথম সংযোগ ঘটায়। এ ধরনের পরিবর্তন ভাইরাসটিকে শরীরে সহজে প্রবেশ করতে সুবিধা দেবে, যা ভাইরাসটিকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।

অনুমান করা হচ্ছে, ভাইরাসটি এমন এক রোগীর দেহে প্রথম মিউটেট করেছে, যার রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাইরাসটির বিরুদ্ধে একদমই লড়াই করতে পারেনি। উল্টো সেই রোগীর দেহ ভাইরাসটির নতুন প্রকরণের উর্বর ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করেছে। তবে এখনও এর উদ্ভব সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেননি গবেষকরা।

এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, এটি করোনার সংক্রমণকে আরও প্রাণঘাতী করে তুলবে। তবে এটিকে পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। যদি বেশি হারে সংক্রমণ ঘটতে থাকে তাহলে হাসপাতালগুলোর জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

কারণ নতুন প্রকরণটি যদি আরও বেশি মানুষকে আক্রান্ত করে, তাহলে হাসপাতালগুলোর সেবা দেয়ার সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে।

প্রফেসর লোমান বিবিসিকে জানান, ‘এটিকে এখন পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অভিযোজন বলে মনে হচ্ছে।’

এখন পর্যন্ত যে তিনটি টিকা বাজারে এসেছে তার সবকটিই বর্তমানে থাকা ভাইরাসটির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম। ভাইরাসের বিভিন্ন অংশকে আক্রমণ করতে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সাহায্য করে টিকা। তাই ভাইরাসটির কিছু অংশ যদি পরিবর্তিত হয়েও যায়, তার বিরুদ্ধেও কাজ করতে পারার কথা এসব টিকার।

অধ্যাপক গুপ্তা বিবিসিকে বলেন, ‘কিন্তু যদি আরও বেশি পরিবর্তন বা বিভাজন ঘটতে দেয়া হয়, তাহলে তখন দুঃশ্চিন্তা করতেই হবে।’

তিনি বলেন, ‘ভাইরাসটি এমন একটি পথে রয়েছে, যেখানে হয়তো সে টিকা এড়িয়ে যেতে পারে। আর সেদিকেই কয়েক ধাপ এগিয়েছে ভাইরাসটি।’

টিকা এড়িয়ে যাওয়ার মানে হচ্ছে, ভাইরাসটি পরিবর্তিত হচ্ছে, যার কারণে টিকা পুরোপুরি কার্যকর হয় না এবং ভাইরাসটি তখন মানুষকে সংক্রমিত করতে থাকে।

এখন ভাইরাসটি যে অবস্থায় আছে তাতে এই বিষয়টিই সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হয়ে দেখা দিয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অব গ্লাসগোর অধ্যাপক ডেভিড রবার্টসন বিবিসিকে বলেন, ‘এই ভাইরাসটি সম্ভবত নিজেকে এমনভাবে পরিবর্তন করবে, যাতে সে ভ্যাকসিন এড়াতে পারে।’



poisha bazar

ads
ads