চীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের!


poisha bazar

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • ২৭ জুন ২০২০, ০৯:৪৭

ভারত-চীন উত্তেজনা সহসা থামছে না। অন্তত যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতি দেখে সেটাই মনে হচ্ছে। পূর্ব লাদাখের সংঘাত কেন্দ্র করে ক্রমশ সেখানে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এই সংঘাতের মধ্যেই জাপান মিসাইলের মুখ চীনের দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে। ভারতীয় সেনা বাহিনীও যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত।

দেশটির সেনাপ্রধান নিজে গিয়ে পরিস্থতি ঘুরে দেখে এসেছেন। ভারতের পক্ষ থেকে সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে তা বাস্তবায়নে ব্যর্থতার ব্যাপারে বেইজিংকে হুঁশিয়ারও করে দিয়েছে নয়াদিল্লি। শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়ে এবার বাইরে থেকে বোমা ফাটালেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।

বৃহস্পতিবার ব্রাসেলস ফোরামের ভার্চুয়াল সম্মেলনে তিনি বলেন, দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় চীনের এই আগ্রাসনে যুক্তরাষ্ট্রও হাত-পা গুটিয়ে বসে নেই। চীনের মোকাবিলায় আসছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত-চীন সীমান্ত সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের কথা বললেও, পম্পেও-এর এমন মন্তব্য প্রমাণ করে, যুক্তরাষ্ট্র কার্যত চীনের বিরুদ্ধে নেপথ্য যুদ্ধ প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে।

ভার্চুয়াল সম্মেলনে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সমালোচনাও করে পম্পেও বলেন, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির পদক্ষেপ শুধু ভারতের জন্য হুমকি নয়। ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপিন্সও চীনের হুমকির মুখে। দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের তৎপরতা নিয়েও ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্র। পম্পেওর কথায়, ‘আমাদের সময়ের এই চ্যালেঞ্জ’-এর মোকাবিলা করতেই যুক্তরাষ্ট্রের সেনাকে জার্মানি থেকে সরিয়ে আনা হচ্ছে।

‘আগ্রাসী রাশিয়া’কে ঠেকাতেই পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ৬২ হাজারের উপর যুক্তরাষ্ট্রের সেনা মোতায়েন রয়েছে ইউরেপে। ইউক্রেন সংকট নিয়ে রাশিয়ার সাথে দ্ব›দ্ব শুরু হওয়ার পর ন্যাটোয় এটাই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি সেনা উপস্থিতি।

চীনা হুমকির কথা বলতে গিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের সাথে চীনের রক্তাক্ত সীমান্ত সংঘাত, বেজিংয়ের দক্ষিণ চীন সমুদ্র কার্যকলাপ, চীনের অর্থনৈতিক নীতি প্রমাণ হিসাবে উল্লেখ করেন।

পম্পেও বলেন, আমি চীনা কমিউনিস্ট পার্টির হুমকির কথা বলেছি, ভারতের পক্ষে হুমকি, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ার জন্য হুমকি। ফিলিপিন্সের জন্যও হুমকি। আমরা পিএলএ’র (চিনের পিপল’স লিবারেশন আর্মি) মোকাবিলার জন্য যথাযথভাবে মার্কিন সেনা নিয়োগ করব। আমরা মনে করি, এটা আমাদের সময়ের চ্যালেঞ্জ।

এদিকে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের বরাতে এনডিটিভি জানায়, চীনা বাহিনীকে মোকাবিলা করতেই এবার মার্কিন সেনা আনছে ভারত। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনই মোদি সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

ভারতের হুঁশিয়ারি : এবার চীনকে ভারতের কড়া হুঁশিয়ারি। লাদাখ সীমান্তে চীন ও ভারতীয় সেনাদের মধ্যে সংঘাত এড়ানোর লক্ষ্যে সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে তা বাস্তবায়নে ব্যর্থতার ব্যাপারে বেইজিংকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারত বলেছে, সীমান্তে চলমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ভারতীয় ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়া সেদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক দীর্ঘ বিবৃতির বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার চলমান পরিস্থিতি অনির্দিষ্টকালের জন্য এভাবে চলতে পারে না। এতে আরো বলা হয়, ‘আমরা আশা করি, চীনারা আন্তরিকভাবে এই সমঝোতা মেনে চলবে এবং সীমান্ত অঞ্চলে শান্তির পুনঃস্থাপন নিশ্চিত করবে।’

সম্প্রতি সীমান্তে চীন-ভারত উত্তেজনা নিরসনে বৈঠক শেষ করেন দুই দেশের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, দুই দেশের সেনারা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় সম্মুখ অবস্থান থেকে পরস্পর দূরত্বে অবস্থান করবে।

উল্লেখ্য, ১৫ জুন পূর্ব লাদাখের গলওয়ান উপত্যায় চীনের সাথে সংঘাতে এক অফিসারসহ ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হন এবং সত্তরের উপর সেনা আহত হন। এই সংঘাতকে কেন্দ্র করেই যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছে। দুই দেশের সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে আলোচনার মধ্যেই ব্যাপক যুদ্ধপ্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ভারতীয় ভ‚-খণ্ডের কিছুটা অংশ দখল করে, সেখানে পাকা পরিকাঠামো গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে চীনের বিরুদ্ধে।





ads






Loading...