এক ‘সৈয়দ আশরাফ’কে খুঁজছে আওয়ামী লীগ


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৪ মার্চ ২০২২, ১৯:২৭

মো. সাইফুল ইসলাম

মারা যাওয়ার কয়েক বছর হয়ে গেলেও এখনো সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের অভাব বোধ করছেন আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। দলের প্রতি নিষ্ঠা, বঙ্গবন্ধু পরিবারের প্রতি আনুগত্য এবং নেতাকর্মীদের ‘পালস’ বুঝতে পারার প্রত্যুত্পন্নমতি গুণই ক্ষমতাসীন দলের এই প্রয়াত নেতার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারছেন তারা। আগামীতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এমন গুণী নেতার মতোই নেতৃত্ব চাচ্ছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। আগামী নির্বাচনেও এমন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নেতার মতোই নেতৃত্বের প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকেই। তাদের ধারণা, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বেঁচে থাকলে নৌকা নিয়ে আগামী নির্বাচনী বৈতরণী পাড় হওয়াটা আরো সহজ হতো। দলের সভাপতিও নিশ্চিন্ত থাকতেন।

১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিজয় দিয়ে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে রাজনীতিতে অবিস্মরণীয় প্রত্যাবর্তন হয় সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের। এই প্রত্যাবর্তনে একজন ভদ্র, বিনয়ী ও অজাতশত্রু রাজনীতিবিদ হিসেবে দলের সবার শ্রদ্ধা ও স্নেহ কুড়াতে বেশি সময় নেননি তিনি। তারপর থেকে একের পর এক ভোটের মাঠে বিজয়, বিভিন্ন সময়ে দলকে সংকট থেকে উদ্ধারের কাজেও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি।

২০১৯ সালের ৩ জানুয়ারি পাড়ি জমান না ফেরার দেশে। তবে রেখে গেছেন দলের প্রতি ভালোবাসা, বঙ্গবন্ধু পরিবারের প্রতি আনুগত্য ও সততা।

জানা গেছে, এক-এগারোতে সেনা সমর্থিত সরকার রাজনীতি থেকে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে মাইনাস করার নীল-নকশা নিয়ে যখন এগোচ্ছিল তখন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেন সৈয়দ আশরাফ। সেই ক্রান্তিলগ্নে দৃঢ়চিত্ত আর রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন হওয়া থেকে উদ্ধার করেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে মুক্ত ও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে অবিস্মরণীয় অবদান রাখেন তিনি। এ কারণে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ বর্তমানে কোনো সমস্যায় পড়লে নেতাদের মনে যার কথা স্মরণ হয় তিনি সৈয়দ আশরাফ। তারা তুলে ধরেন তার ম্যাজিকের কথা।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্মৃতিচারণ করে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, ‘সৈয়দ আশরাফ যখন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, তখন দলে গ্রুপিং ছিল না, লবিং ছিল না। আমরা সৈয়দ আশরাফের নেতৃত্বে দলকে শেখ হাসিনামুখী করেছিলাম, ঐক্যবদ্ধ করেছিলাম। সৈয়দ আশরাফের মতো গ্রহণযোগ্য, সৃজনশীল নেতা বাংলাদেশে আর পাওয়া যাবে না।’ আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকায় মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশ সরকারে বঙ্গবন্ধুর শূন্যতা পূরণ করেছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। এক-এগারোতে সেনা সমর্থিত সরকার আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করলে সৈয়দ আশরাফ তার শূন্যতা পূরণ করেছিলেন। রাজনীতিতে দুই প্রজন্মে এমন অকৃত্রিম বন্ধু পাওয়ার মতো সৌভাগ্য কেবল আওয়ামী লীগেরই হয়েছে। এ দলে অনেক নেতার জন্ম হয়েছে, কিন্তু সৈয়দ আশরাফের গুণে গুণান্বিত নেতার কালেভদ্রে পাওয়া যায়।

দলীয় সূত্র মতে, আগামী ডিসেম্বরে হবে আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল। এই কাউন্সিলকে ঘিরে নতুন নেতৃত্ব উপহার দিয়ে থাকে ক্ষমতাসীন দলটি। এবারো এর ব্যতিক্রম হবে না বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা। তবে সামনের দ্বাদশ নির্বাচনকে ঘিরে এবারের কাউন্সিলের গুরুত্ব অনেকটাই বেশি বলে দাবি করছেন দলের সিনিয়র নেতারা। সেজন্য আগামী নেতৃত্ব হবে আওয়ামী লীগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব। তার জন্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মতো মেধাবী, সত্, সাহসী ও যোগ্য নেতৃত্ব চায় দলটির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

জানা গেছে, ২০০৯ সালের ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ১৮তম জাতীয় কাউন্সিলে সৈয়দ আশরাফ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ১৯তম জাতীয় কাউন্সিলে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০তম কাউন্সিলে তিনি জায়গা পান প্রেসিডিয়ামে। তখন আরেক দফা তার প্রতি নেতাকর্মীদের আবেগ অনুভূতি ও সমর্থন দৃশ্যমান হয়। ব্যাপক জনপ্রিয়তা নিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বিদায় নিয়েছিলেন তিনি। কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে টানা পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে সংসদে একবারই মাত্র বিরোধী দলের আসনে বসতে হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৮ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর শপথ নেয়ার আগেই পাড়ি জমান না ফেরার দেশে। বাকি তিনবারই তিনি বসেছেন সংসদের ট্রেজারি বেঞ্চে। এই তিন সরকারে মন্ত্রিত্ব ছাড়াও টানা দুইবার তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।


poisha bazar