বড় ফ্যাক্টর বন্দরের ভোট

দলীয় প্রতীকের চেয়ে আস্থায় ব্যক্তি ইমেজ


  • সাইফুল ইসলাম
  • ১৫ জানুয়ারি ২০২২, ১৪:০৩

কে হাসবেন শেষ হাসি— এ প্রশ্নই মুখে মুখে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এবারের সমীকরণ ভিন্ন। সাধারণ ভোটারের ভোট নাকি রাজনৈতিক কৌশল, কোনটি নির্ধারণ করবে নগরীর ভাগ্য? এমন সমীকরণ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে নানা কৌশলে এগোচ্ছেন প্রার্থীরা। পাড়ার চায়ের দোকান থেকে অফিসপাড়া— সব জায়গায় চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। নগরপিতা নির্বাচনে আগামীকাল রবিবারই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে দলীয় প্রতীকের চেয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজকেই পছন্দ ভোটারদের। সিটির তিনটি থানার মধ্যে ‘নগরপিতা’ নির্বাচনে বন্দরের ভোটই মূল ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সুজন-এর নারায়ণগঞ্জ জেলার সম্পাদক জিমান সাহা জুয়েল মানবকণ্ঠকে বলেন, ‘বন্দরের ভোটই নগরপিতা নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর। এখানে সেলিনা হায়াত্ আইভীর কাজ বেশি হয়েছে। ফলে বন্দরের ভোট আইভীর পক্ষে বেশি যেতে পারে। আমার ধারণা, এ থানার ভোটই জয়-পরাজয় নির্ধারণ করবে। আবার যদি মনে করি, তাহলে দেখা যাবে এখানে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপিরও প্রভাব আছে। সিদ্ধিরগঞ্জে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের কারণে প্রভাব পড়তে পারে। তবে সদরে কোনো প্রভাব পড়বে না। সদরের মানুষ অধিক সচেতন। তারা জেনে-বুঝেই ভোট দেবেন। জয়-পরাজয় নির্ধারণে ওই দুটি থানা বড় ভূমিকা রাখবে।’ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৭ হাজার ৩৬১ জন। এ সিটি করপোরেশন তিনটি থানা নিয়ে গঠিত। জাতীয় সংসদের দুটি আসন রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-৪ ও ৫ আসন। তিনটি থানা যথাক্রমে—সিদ্ধিরগঞ্জ, সদর ও বন্দর। এর মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৫৬ হাজার, সদর থানায় ২ লাখ ৩৪ হাজার ও বন্দরে ১ লাখ ২৫ হাজারের অধিক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তিন থানার মধ্যে বেশি ভোট নারায়ণগঞ্জ সদরে। তারপরও জয়-পরাজয়ে এ থানা বড় প্রভাব ফেলবে না।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। তিনি সব সময়ই নৌকার পক্ষে কাজ করেন। কিন্তু শামীম ওসমান ব্যক্তি আইভীর বিপক্ষে। নির্বাচনের শুরুতে তার অনুসারীদের মাঠে দেখা যায়নি। কেন্দ্রের চাপে শেষমেশ তারা মাঠে নামেন। নৌকার পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিলেও তারা আইভীর পক্ষে নামেননি! ভোটাররা সবই বোঝেন।

অন্যদিকে এ আসনেই বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন গিয়াস উদ্দিন। দলীয় প্রতীকের প্রার্থী না হলেও তৈমুর আলমের জন্য কাজ করছেন এখানকার বিএনপি নেতাকর্মীরা। এখানে আইভী ও তৈমুরের ভোটের পাল্লা সমানে সমান হতেও পারে। এছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবি ও সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদের বাড়ি। তাদের প্রভাবও ভোটের মাঠে পড়বে।

অন্যদিকে দুই প্রার্থীর বাড়িই নারায়ণগঞ্জ সদরে। এ কারণে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইটাও হবে এখানে। বন্দর থানার ভোটেই নির্বাচিত হবেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র। এ থানাকে কেন্দ্র করেই দুই প্রার্থী প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন। ভোটার সংখ্যা কম হলেও এ থানা জয়-পরাজয় নির্ধারণ করবে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াত্ আইভীর উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু এখানেই। আবার স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমুর আলম এক সময়ে শ্রমিক নেতা ছিলেন। শ্রমিকরা বন্দরের আশপাশে বসবাস করছেন। সে কারণে এখানেও তৈমুর আলমের একটি ভোট বাক্স রয়েছে।


poisha bazar


ads