করোনা প্রতিরোধী খাবার ওষুধ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে

টিকার বিকল্প নয়


  • সেলিম আহমেদ
  • ১৫ জানুয়ারি ২০২২, ১৪:০৩

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের বাজারেও পাওয়া যাচ্ছে করোনা প্রতিরোধী খাবার ওষুধ। যুক্তরাষ্ট্রে উত্পাদিত ২০০ মিলিগ্রামের ‘মলনুপিরাভির’ (Molnupiravir) নামে ওষুধটি বাংলাদেশে উত্পাদন ও জরুরি বাজারজাতের অনুমোদন পেয়েছে বেক্সিমকো এবং এসকেএফ ফার্মা। ট্যাবলেটটিকে এসকেএফ বাজারে এনেছে ‘মনুভির’ (MONUVIR) আর বেক্সিমকো ‘এমোরিভির’ (EMORIVIR) নামে। এরমধ্যে এসকেএফ প্রতিটি ট্যাবলেটের খুরচা মূল্য রাখছে ৫০ টাকা আর বেক্সিমকো রাখছে ৭০ টাকা। এছাড়াও আরো আটটি কোম্পানি অনুমোদন পাওয়ার পথে। ওষুধটি করোনা রোগীদের মধ্যে প্রয়োগ করে আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিত্সকরা।
মলনুপিরাভিরের রাসায়নিক পদার্থগুলো খুব দ্রুতই রোগীর রক্তের ভেতরে গিয়ে ভাইরাস নির্মূলে কাজ শুরু করে। তবে ওষুধটি সব রোগীর জন্য নয় বলে জানান তারা। করোনা আক্রান্ত যেসব রোগী মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছেন, তাদের জন্য মূলত এ ওষুধ। চিকিত্সকরা এও বলছেন, ওষুধ টিকার বিকল্প নয়। করোনা মোকাবিলা করতে হলে অবশ্যই টিকা নিতে হবে।

রাজধানীর একাধিক ফার্মেসিতে কথা বলে জানা যায, ওষুধটির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ করতে পারছে না কোম্পানিগুলো। এ প্রসঙ্গে রাজধানীর টিবি হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার বলেন, ‘মলনুপিরাভির’ ড্রাগটি এন্ট্রি ভাইরাল। এটি করোনা পজিটিভ সব রোগীর জন্য নয়। যারা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন, তারা চিকিত্সকের পরামর্শ নিয়ে এ ওষুধটি খাবেন। ওষুধের ভালো কার্যকারিতা পাওয়া যাচ্ছে। মনে রাখতে হবে টিকাই করোনার মূল প্রতিরোধী।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির পরিচালক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোহাম্মদ রোবেদ আমিন বলেন, শরীরে যখন করোনা ভাইরাস প্রবেশ করে তখন অনেক কপি করতে হয়। এ কপি করার মূল প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে মলনুপিরাভির। তিনি বলেন, ড্রাগটি বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি তৈরি করে, যাতে জিনগুলো বুঝতে না পারে যে সে কোন প্রোটিন তৈরি করবে। যখন বিভিন্ন প্রজন্মে এ ভাইরাস তৈরি হতে থাকে তখন ত্রুটির সংখ্যাও বাড়তে থাকে। ভাইরাসটি তখনো বুঝতে পারে না তার ভেতরে কি পরিমাণ ত্রুটি প্রবেশ করেছে। কিন্তু ভাইরাসটি মনে করে সে তৈরি করেই যাচ্ছে। একটা সময় ভাইরাসটি নিষ্ক্রিয় হয়ে ধ্বংস হয়ে যায়। মলনুপিরাভিরের যে রাসায়নিক কাঠামো, সেটা দেখতে ভাইরাসের কপি তৈরি করার টেম্পলেট বা নকশার মতো। এ কারণে সে এটাকে ঘুরিয়ে দিতে পারে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের করোনা বিভাগের দায়িত্বরত চিকিত্সক ডা. তুষার মাহমুদ বলেন, এখন পর্যন্ত ওই দুটি ওষুধের ভালোই কার্যকারিতা পাওয়া যাচ্ছে। তবে যে কাউকে এ ওষুধ দেয়া যায় না। পরীক্ষা করে যাদের অবস্থা খারাপ দেখা যায়, তাদের জন্য এ ওষুধ ব্যবহার করা প্রযোজ্য। এ ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই রোগীর কিডনি এবং লিভারের অবস্থা ভালো কিনা সেটা দেখতে হবে। এখন দেখা যাচ্ছে ফার্মেসির দোকানি এ ওষুধ রোগীর শারীরিক অবস্থা না জেনেই দিয়ে দিচ্ছেন- এটা রোগীর জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

করোনা প্রতিরোধে মুখে খাওয়ার ‘মলনুপিরাভির’ নামের ট্যাবলেটটি তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি মার্ক অ্যান্ড কোং। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে করোনার সব ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে কার্যকর ফলাফল দেখিয়েছে মলনুপিরাভির। করোনা প্রতিরোধী এ ট্যাবলেটটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা ভাইরাসের বংশবিস্তার অকার্যকর করতে সক্ষম। কোম্পানিটি দাবি করেছে, ওষুধ করোনা রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি কিংবা মৃত্যুঝুঁকি প্রায় ৫০ ভাগ কমিয়ে আনতে পারে।

এ প্রসঙ্গে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান বলেন, এ ওষুধ টিকার বিকল্প নয়। টিকা নিতে হবে। আর ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিভাইরাল ‘মলনুপিরাভির’ ট্যাবলেট খেতে হবে। ওষুধের ব্যবহারবিধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মুখে খাওয়ার এ ওষুধ পাঁচ দিনের ডোজ। সকালে চারটি। রাতে চারটি। পাঁচ দিনে মোট ৪০টি ট্যাবলেট খেতে হবে।

বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান পাপন সম্প্রতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, বাজারে বর্তমানে করোনা রোগীদের চিকিত্সার জন্য যেসব ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলোর মূল কাজ মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করা, ভাইরাসকে অকার্যকর করা নয়। এক্ষেত্রে মলনুপিরাভির বিশ্বে প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র ওষুধ, যেটি মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি ভাইরাসের প্রজননক্ষমতা অকার্যকর করতে সক্ষম।


poisha bazar

ads
ads