যে কারণে সব খোয়ালেন

র‌্যাব ও ডিবির জেরার মুখে নায়ক ইমন


  • শাহীন করিম
  • ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ১৫:২৩,  আপডেট: ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ১৫:৩১

বেশ কয়েকদিন ধরেই চরম আপত্তিকর মন্তব্য ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জেরে আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সদ্য পদত্যাগী তথ্যপ্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। বিশেষ করে রাষ্ট্রধর্ম, খালেদা জিয়ার নাতনি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক নারী নেত্রীদের ব্যাপারে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও সবশেষ ফোনালাপ ফাঁস নিয়ে সর্বত্র তার বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে মুরাদ হাসান দাবি করেছিলেন, ‘যা কিছু করছি, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে করছি এবং তিনি সবকিছু জানেন।’

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফলে নিজের অপকর্মের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে জড়ানোর অপচেষ্টা ও চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির সঙ্গে চরম আপত্তিকর ফোনালাপ ফাঁস- এই দুই কারণই কাল হয়ে প্রতিমন্ত্রী পদ হারিয়েছেন বলে মনে করছেন অনেকে। এদিকে মুরাদের সঙ্গে নায়িকা মাহির ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনার জেরে চিত্রনায়ক মামনুন হাসান ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে র‌্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। কেন ওই নায়িকা সাবেক প্রতিমন্ত্রীর কাছে হোটেলে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন- এ বিষয়ে তাকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে র‌্যাব ও ডিবি সূত্র জানায়। এ ছাড়া সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ডা. মুরাদকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশিদ।

র‌্যাব সূত্র জানায়, ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়িকা মাহিয়া মাহির সঙ্গে ডা. মুরাদের সঙ্গে অশ্লীল ফোনালাপের অডিও ক্লিপ ফাঁসের ঘটনায় চিত্রনায়ক ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল মঙ্গলবার বিকালে র‌্যাব সদর দফতরে ডাকা হয়। সেখানে বেশ কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন ঊর্ধ্বতন র‌্যাব কর্মকর্তারা। পরে রাতে ইমনকে ছেড়ে দেয়া হয়। এর আগে গত সোমবার রাত আটটার দিকে ইমনকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। যদিও ইমন দাবি করেছেন, অভিনেত্রী মাহিয়া মাহিকে কেন্দ্র করে তথ্যপ্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের সঙ্গে অডিও প্রকাশ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির অবসানের জন্য আইনি পরামর্শ নিতে ডিবি অফিসে গিয়েছিলেন। অডিও প্রকাশের পর অসহায়ত্ব বোধ করছিলেন। চলচ্চিত্রের সহকর্মীরাও তাকে ভুল বুঝতে থাকেন। ইমনের দাবি, ফোনালাপ দু-তিনবার শুনলে বোঝা যাবে তিনি মন্ত্রীকে ওই পরিস্থিতিতে সামাল দেয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, ‘যুগ্ম কমিশনার হারুন ভাই আমার পূর্ব পরিচিত। তার সঙ্গে এর আগে নানা সময়ে আমার দেখা ও কথা হয়েছে।’

এদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশিদ বলেছেন, প্রয়োজনে সদ্য পদত্যাগপত্র জমা দেয়া তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। মুরাদের সঙ্গে নায়িকা মাহিয়া মাহির ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনার জেরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। মাহি যদি দেশে আসে তাকেও আপনারা জিজ্ঞাসাবাদ করবেন কি না-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে এই ডিবি কর্মকর্তা বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা মাহিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করবো।’ সেদিন ফোনালাপের পরে ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছিল কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবির যুগ্ম কমিশনার বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ আমাদের কাছে এখনো আসেনি। আমরা প্রয়োজনে সবার সঙ্গেই কথা বলব।’

গত রবিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথ্যপ্র্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, চিত্র নায়ক মামনুন হাসান ইমন ও নায়িকা মাহিয়া মাহির একটি ফোনালাপ ভাইরাল হয়। যেখানে মুরাদ মাহিয়া মাহির সঙ্গে অশ্লীলভাবে কথা বলেন ও তাকে নিজের কাছে আসতে বলেন। ওই কথোপকথনে তথ্যপ্রতিমন্ত্রী মাহিকে ধর্ষণের হুমকি দেয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় তুলে আনার হুমকি দেন। পুরো বক্তব্যে ‘অশ্রাব্য’ কিছু শব্দ উচ্চারিত হয়। বিষয়টি দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়।

এমন প্রেক্ষাপটে গত সোমবার রাতে মুরাদ হাসানকে মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করতে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, মুরাদের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানতেন না। গত তিন মাস ধরে তার আচরণে পরিবর্তন দেখেছি। তার সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য দলের সঙ্গে আলোচনা না করেই তিনি দিয়েছেন। দল বা সরকার বিব্রত হয় এমন কোনো কিছুই প্রধানমন্ত্রী সহ্য করেন না।

না বলে হোটেল ছেড়েছেন মুরাদ: চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির সঙ্গে অশ্লীল কথোপকথনের রেকর্ড ফাঁসের রাতেই ঢাকা ছাড়েন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। গত সোমবার গোপনে চট্টগ্রামে পাঁচতারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে উঠেছিলেন তিনি। ওই দিন রাতেই কাউকে কিছু না জানিয়ে হোটেল ছেড়ে চলে গেছেন। এ সময় তার সঙ্গে কোনো প্রটোকল ছিল না বলে হোটেল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

রেডিসন ব্লু বে ভিউ হোটেলের ব্যবস্থাপক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা রাফাত সালমান বলেন, উনি দুপুর (সোমবার) নাগাদ আমাদের হোটেলে এসেছিলেন। ওনার জন্য একটি রুম বুকড (অগ্রিম ভাড়া) করা ছিল। সেখানেই ওঠেন তিনি। তবে মধ্যরাতের আগে কাউকে কিছু না বলে তিনি চলে যান। আমাদের অভ্যর্থনার দায়িত্বে থাকা কেউই ওনার হোটেল ছাড়ার বিষয়টি জানতেন না। হোটেল সূত্র বলেছে, ডা. মুরাদ হাসান হোটেলের এক রাতের বিল আগেই পরিশোধ করেছিলেন। রাতে হোটেল থেকে বের হওয়ার সময় নিয়মানুযায়ী চেকআউট করার কথা থাকলেও তিনি তা না করেই চলে গেছেন। তবে এক বন্ধুর অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রীর যাওয়ার কথা ছিল। জানা যায়, তথ্য প্রতিমন্ত্রীর চট্টগ্রামে আসার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকেও অবহিত করা হয়নি। এ বিষয়ে অবগত না থাকায় তাকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কোনো প্রটোকলও দেয়া হয়নি। সূত্র জানায়, সোমবার দুপুরে বিমানে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান। তবে বিমানবন্দরে দায়িত্বরতদের এ বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি।

মৌসুমী-শাকিবকে নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন মুরাদ: চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহিকে কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা ও ভয়ভীতি দেখানো ছাড়া ডা. মুরাদ হাসান ঢালিউডের দুই জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পীকে নিয়েও মানহানিকর মন্তব্য করেছিল পদত্যাগী তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। একটি সংবাদ সম্মেলনে ক্ষমতায় থাকাকালে চিত্রনায়িকা মৌসুমীর শারীরিক গঠন নিয়ে কটাক্ষ করেছেন। আরেকটি সংবাদ সম্মেলনে ঢালিউডের সবচেয়ে জনপ্রিয় নায়ক শাকিব খানকে নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। একটি সংবাদ সম্মেলনে মুরাদ হাসান বলেছেন, শাকিব খান তেলাপোকার মতো অভিনয় করেন

সম্প্রতি যেসব কর্মকাণ্ডে ভাইরাল হন মুরাদ: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে গতকাল দুপুরে ইমেইলে নিজের স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন ডা. মুরাদ হাসান। ব্যক্তিগত কারণে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চান বলে পদত্যাগপত্রে জানিয়েছেন তিনি। দায়িত্ব পাওয়ার পর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ডা. মুরাদের চটুল বক্তব্যে নেতাকর্মীরা বিরক্ত হলেও এতদিন আলোচনায় ছিলেন সদ্য পদত্যাগপত্র জমা দেয়া এই প্রতিমন্ত্রী।
সবশেষ রাষ্ট্রধর্ম ও ’৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাওয়া নিয়ে বক্তব্য দিয়ে প্রথম আলোচনায় আসেন তথ্য ও সম্প্রচার ডা. মুরাদ হাসান। গত অক্টোবরে প্রথম রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের বিরোধিতা করে আলোচনায় আসেন মুরাদ হাসান। সে সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোনো ধর্ম ব্যবসায়ী, মৌলবাদীদের আস্তানা হতে পারে না। যে কোনো মূল্যে ’৭২-এর সংবিধানে ফিরে যেতে হবে। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর আগে সদ্য বরখাস্ত হওয়া গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীরের ২২ লাখ টাকা মূল্যের অবৈধ মোটরসাইকেলে হেলমেট ছাড়া ঘুরে সমালোচনার জন্ম দিয়েছিলেন তিনি।

সম্প্রতি ফেসবুক লাইভে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক রহমান ও নাতনি জাইমা রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি। প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের এক প্রশ্নের জবাবে হাস্যরস করতে করতে নারীদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করতে দেখা যায় তাকে।
এরপর নারীবাদী সংগঠন থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলে এমপি মুরাদের শাস্তির দাবি ওঠে। কয়েকটি নারী সংগঠন বিবৃতিও দিয়েছে এ বিষয়ে। এ ছাড়া বিএনপির পক্ষ থেকে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও নাতনি জাইমা রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদ জানানো হয় বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল থেকে। গত শনিবার একটি টিভি টকশোতে উপস্থিত বিএনপির একজন সাবেক নারী এমপিকে ‘মানসিক রোগী’ বলে অভিহিত করে তার সঙ্গে বিতর্কে জড়ান তিনি।

রবিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চিত্র নায়ক মামনুন হাসান ইমন ও নায়িকা মাহিয়া মাহি একটি ফোনালাপ ভাইরাল হলে দেশজুড় নিন্দার ঝড় ওঠে। এ ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া এবং শামসুন নাহার হলের ছাত্রলীগ নেত্রীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেও আলোচনায় আসেন এ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তারা শিষ্টাচারের সংজ্ঞাটা আমাদের শেখাতে চাচ্ছে। তসলিমা নাসরিনের মতো অনেক তসলিমা নাসরিন বাংলাদেশে আছে, দুঃখ লাগে কোনটা জানেন? এরা আবার জয় বাংলার কথা বলে। এরা ছাত্রলীগ করছে নাকি, এরা আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে, এরা নাকি আবার নেত্রী ছিল কোনো কোনো হলে। কিন্তু রাতের বেলা এরা নিজেদের হলে থাকতেন না, ঘুমাতেন হোটেলে হোটেলে। কারণ ফাইভ স্টার হোটেলে থাকার মজা, আর রোকেয়া হল ও শামসুন নাহার হলে থাকাটা কি এক কথা? আমি এর চেয়ে বেশি বললে মিছিল শুরু হয়ে যেতে পারে। আমি আর বেশি কিছু বলব না।’

কে এই মুরাদ: মুরাদ হাসান পেশায় চিকিৎসক ও আওয়ামী লীগপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত সরকারে প্রথমে মুরাদ হাসানকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়। পরে ২০১৯ সালের মে মাসে স্বাস্থ্য থেকে তাকে তথ্য ও স¤প্রচার মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়। ড. মুরাদ ১০ অক্টোবর ১৯৭৪ সালে জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলাধীন দৌলতপুর গ্রামে জš§গ্রহণ করেন। তার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিয়র রহমান তালুকদার, মাতা মনোয়ারা বেগম।

জামালপুর শহরস্থ কিশলয় আদর্শ বিদ্যা নিকেতনে তার প্রাথমিক শিক্ষা জীবন শুরু। ১৯৯০ সালে তিনি জামালপুর জিলা স্কুল থেকে এসএসসি, ১৯৯৩ সালে নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ২০০০ সালে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। ২০০৪-২০০৫ সালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে ‘প্লাস্টিক ও পুনর্গঠনমূলক সার্জারি’র ওপর স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেলে ২০১১ সালে বিকিরণ ক্যান্সারবিজ্ঞানের ওপর এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যান্সারবিজ্ঞান বিভাগে কনসালট্যান্ট (পরামর্শক) হিসেবে কর্মরত আছেন। তার বাবা অ্যাডভোকেট মতিয়র রহমান তালুকদার মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী বিচারপতি ও জেলা আওয়ামী লীগ ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ছিলেন।

শাহবাগ থানায় অভিযোগ: অপরদিকে সদ্য সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে অশালীন ও শিষ্টাচারবহির্ভূত বক্তব্যের জেরে শাহবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় শাহবাগ থানায় এই অভিযোগ দায়ের করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলিয়াস সিজার তালুকদার নামের এক শিক্ষার্থী। বিষয়টি নিশ্চিত করে শাহবাগ থানার ওসি মওদুদ হাওলাদার জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পক্ষে ওই শিক্ষার্থী ডা. মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে থানায় একটি অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা জিডি করেছি। এরপর এটি সাইবার ক্রাইম বিভাগে পাঠানো হবে। সিজারের অভিযোগ, মুরাদ হাসান দেশের সর্বপ্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাচ্ছিল্য করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে রোকেয়া হল ও শামসুন্নাহার হলের নারী শিক্ষার্থীদের চরিত্র হননের অপচেষ্টা করেছেন।


poisha bazar

ads
ads