নতুন মোড়কে বাসের ‘ওয়েবিল সিস্টেম’

- ফাইল ছবি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১৭ নভেম্বর ২০২১, ১১:৫৭

জ্বালানি তেলের বর্ধিত দামের সঙ্গে ভাড়া সমন্বয় করা হলেও নানা অজুহাতে এর চেয়েও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে রাজধানীর গণপরিবহনগুলো। ‘সিটিং সার্ভিস’ ও ‘ওয়েবিলের’ নামে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অধিক আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।

মালিক সমিতি জানিয়েছিল, সিটিং সার্ভিস ও ওয়েবিল থাকবে না। কিন্তু এর পরও এখনো ‘ওয়েবিল সিস্টেম’ চালু রয়েছে। যদিও মালিকপক্ষ দাবি করছে, নতুন করে নির্ধারণ করা ভাড়াই নেয়া হচ্ছে, ওয়েবিল রাখা হয়েছে শুধু হিসাবের জন্য। কোনো সুরাহা না হওয়ায় এ নিয়ে প্রতিদিনই বাসের স্টাফদের সঙ্গে যাত্রীদের বসচা হচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁও টু গুলিস্তানের গাড়িতে সরেজমিন দেখা যায়, গাড়িটিতে একাধিক যাত্রীর সঙ্গে বাহাস হচ্ছে বাস স্টাফদের।

বাস কর্মীদের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে মুজিবুর রহমান নামে এক যাত্রীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘সরকার থেকে যে ভাড়া নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে, সেই ভাড়াই দেব। চার্টে উল্লেখ করাই আছে কত ভাড়া দিতে হবে। এর বাইরে কেন দেব।’

আসাদুজ্জামান নামে আরেক যাত্রী বলেন, ‘ভাড়া বাড়ছে পয়সায়, তারা বাড়াচ্ছে টাকায়। শুরুতে চার্ট দেখতো না মানুষ, এখন সবাই চার্ট দেখছে। আগে থেকেই এরা ভাড়া বাড়িয়ে নিতো। এখনো তারা ভাড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রে মূল ভাড়া থেকে হিসাব না করে আগের বাড়তি বাড়ার ওপর অতিরিক্ত ভাড়া হিসাব করে। তখন ভাড়া চার্টের ভাড়ার চেয়েও বেশি হয়ে যায়।’

বাসের কর্মীরা ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে পরিবহন মালিক এবং ওয়েবিল পদ্ধতিকে দায়ী করে কৈফিয়ত দিচ্ছেন প্রায়শই। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেন পল্টনের শিকড় বাসের ওয়েবিল কাটার দায়িত্বে থাকা নাজমুল হোসেন। তিনি বলেন, ‘আগের ওয়েবিল পদ্ধতি বাদ। এখন আমরা শুধু ওয়েবিল কাটি হিসাব রাখার জন্য কতজন যাত্রী আছে বাসে। যেন দিন শেষে মালিকের বুঝতে সুবিধা হয়, দিনে কতজন যাত্রী ওঠানামা করেছেন। ভাড়ার সঙ্গে বর্তমান ওয়েবিলের কোনো সম্পর্ক নেই। চার্ট অনুযায়ীই ভাড়া কাটার নির্দেশ দেয়া আছে।’

অতিরিক্ত বাস ভাড়া নেয়ার ক্ষেত্রে বাস মালিকদের থেকে এ রকম কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি বলে দাবি করেন শিকড় পরিবহনের এমডি মোহম্মদ শাহজালাল। তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিবহন সেক্টরের স্টাফরা বেশিরভাগই শিক্ষিত নন। তারা নতুন ভাড়ার বিষয়ে এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট না। আমরা প্রতিদিন রাতে তাদের কাউন্সেলিং করি। ধীরে ধীরে বোঝে যাবে বলে আশা রাখি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আগে মূলত মিরপুর থেকে ফার্মগেট, ফার্মগেট থেকে গুলিস্তান-এই তিন স্ল্যাবে ভাড়া নির্ধারণ করতাম। এখন আমরা প্রত্যেক স্টপেজে স্ল্যাব রেখেছি। এখন মোট স্ল্যাব ১২টি। তাদের ভাড়াও কাটতে হচ্ছে ১২ স্ল্যাবে। তাই ঝামেলার সৃষ্টি হচ্ছে। আবার অনেক যাত্রী নির্ধারিত সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকার যে নিয়ম— সেটাও মানতে চাইছেন না। তাই বাস হেল্পারদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে যাচ্ছেন। আমরা চেষ্টায় আছি ধীরে ধীরে এই সমস্যা দূর করতে। ভাড়ার বিষয়টা পরিষ্কার হবে।’


poisha bazar

ads
ads