সংসদে আইনমন্ত্রী

খালেদাকে বিদেশ যেতে আগে জেলে ফিরতে হবে


  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১৭ নভেম্বর ২০২১, ১১:৫৭

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে ফিরে আবেদন করলে তার বিদেশে চিকিত্সার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

জাতীয় সংসদে গতকাল মঙ্গলবার একটি বিল পাসের সময় আলোচনায় বিএনপির সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, এখন যে অবস্থায় আছেন তাতে আবেদন নতুন করে বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই। এই আবেদনটি ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। নিষ্পত্তিকৃত দরখাস্তের ওপর আর কোনো পদক্ষেপ নেয়া যাবে না। তবে ফিরে গিয়ে চিকিত্সার জন্য বিদেশ যাওয়ার আবেদন করলে সরকার বিষয়টি বিবেচনা করবে।

কয়েকবার প্রত্যাখ্যাত হয়েও হাসপাতালে ভর্তি খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিত্সার জন্য বিদেশে নিতে গত বৃহস্পতিবার তা ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার আবারো আবেদন করেন— যা সোমবার প্রকাশ পায়। সর্বশেষ ৬ মে বোনকে বিদেশে নেয়ার অনুমতি চেয়ে তার আবেদন বিবেচনা করেনি আইন মন্ত্রণালয়। তখনো দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত খালেদা জিয়াকে কারাগারে ফেরার শর্ত দেয়া হয়েছিল।

দেশে করোনা ভাইরাস মহামারী শুরুর পর পরিবারের আবেদনে সাড়া দিয়ে গত বছরের ২৫ মার্চ এক নির্বাহী আদেশে দেশে থাকার শর্তে খালেদাকে সাময়িক মুক্তি দেয় সরকার। পরিবারের ওই আবেদনটি নিষ্পত্তি হয়ে গেছে বলে নতুন আবেদন করতে হলে খালেদা জিয়াকে কারাগারে ফিরতে হবে বলে যুক্তি দেখান আনিসুল হক। কারাগার থেকে বেরিয়ে খালেদা জিয়া ওঠেন গুলশানের বাসা ফিরোজায়। এরপর করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে এ বছরের মাঝামাঝিতে তিনি প্রায় দুই মাস হাসপাতালে চিকিত্সা নিয়েছিলেন তিনি।

‘বিরোধী দলের নেতা ও উপনেতা (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) বিল-২০২১’ বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির রুমিন ফারহানা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে ‘আইনগতভাবে’ তাকে বিদেশে চিকিত্সা নেয়ার সুযোগ দেয়ার দাবি করেন। দণ্ডবিধির ৪০১ ধারামতে এই সুযোগ দেয়ার এখতিয়ার রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তার বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে আনিসুল হক বলেন, আমি কখনো বলিনি, ৪০১ ধারা মতে খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে দেয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু উনি বর্তমানে সাজা স্থগিতপূর্বক বাসায় আছেন— সেটা ৪০১ ধারার ভিত্তিতেই। খালেদা জিয়ার পক্ষে যে আবেদন হয়েছিল, সেখানে কোনো ধারার উল্লেখ ছিল না। সরকার খুঁজে এই ধারাটি বের করেছে। তিনি বলেন, আবেদনটি ৪০১ ধারার আলোকেই নিষ্পত্তি হয়েছে। আর একটি আবেদন যে ধারার অধীনে নিষ্পত্তি হয়েছে, একই ধারায় বিষয়টি পুনর্বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই।

আইনমন্ত্রী যখন এই বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন তার সামনের আসনে ছিলেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি পেছন ফিরে বিএনপির অতীত কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। আইনমন্ত্রী বলেন, বিএনপি বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুনর্বাসন ও পুরস্কৃত করেছিল। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। ওই মামলার প্রধান আসামি তারেক জিয়া। তার পরও খালেদা জিয়ার প্রতি দয়া করা হচ্ছে, সুচিকিত্সা করা হচ্ছে।

আইন সবার জন্য সমান হলেও খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত কয়েদিদের চেয়ে বেশি সুবিধা ভোগ করছেন মন্তব্য করে আনিসুল হক বলেন, এটি পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিকতার কারণে। সাজা স্থগিত রেখে মুক্তির শর্তে তার বাসায় অবস্থান করা এবং বাসায় থেকে চিকিত্সা নেয়ার কথা থাকলেও উনি হাসপাতালে গিয়ে চিকিত্সা নিয়েছেন। সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরছেন, কোনো বাধা দেয়া হয়নি।


poisha bazar

ads
ads