জিতলো বরিশাল


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২১ জানুয়ারি ২০২২, ১৭:২০,  আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২২, ১৮:৪৭

কাগজে-কলমে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের চেয়ে এগিয়েই ছিলো ফরচুন বরিশাল। তবে চট্টগ্রাম অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ বলেছিলেন, মাঠের ক্রিকেটে যারা ভালো খেলবে তারাই হাসবে শেষ হাসি। সে অনুযায়ী ব্যাটিংয়ে না হলেও, বোলিংয়ে ঠিকই নিজের সেরাটা দিয়েছেন অধিনায়ক মিরাজ।

কিন্তু বাকিদের ব্যর্থতায় বিফলেই গেলো মিরাজের ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। টিম পারফরম্যান্সের প্রদর্শনী দেখিয়ে বিপিএলের অষ্টম আসরের উদ্বোধনী ম্যাচটি জিতে নিয়েছে সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বাধীন ফরচুন বরিশাল।

আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১২৫ রানের সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছিল চট্টগ্রাম। জবাবে ৬ উইকেট হারালেও ১৮.৪ ওভারেই ম্যাচ জিতে নিয়েছে বরিশাল। বল হাতে মাত্র ১৬ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন মিরাজ। কিন্তু থাকতে হলো পরাজিত দলে।

১২৬ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো ছিল না বরিশালের। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই বাঁ-হাতি ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্তকে সরাসরি বোল্ড করে দেন মিরাজ। নাসুম আহমেদ ও মেহেদি মিরাজের ভেলকিতে প্রথম ৪ ওভারে মাত্র ১১ রান তুলতে পারে বরিশাল।

ইনিংসের পঞ্চম ওভারে গিয়ে প্রথম বাউন্ডারির দেখা পায় তারা। বাঁ-হাতি পেসার শরিফুল ইসলামের করা সেই ওভারে একটি করে চার হাঁকান সৈকত আলি ও সাকিব আল হাসান। তবে পাওয়ার প্লে'র শেষ ওভারেই বরিশাল অধিনায়ককে সাজঘরে পাঠিয়ে দেন চট্টগ্রাম অধিনায়ক।

চট্টগ্রামকে ম্যাচে ফেরার আভাস দেন অধিনায়ক মিরাজ। ইনিংসের ১৫তম ওভারে নিজের স্পেল শেষ করতে এসে প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন সৈকত। পরের বলেই তাকে সাজঘরে পাঠিয়ে দেন মিরাজ। ডিপ মিড উইকেট বাউন্ডারিতে দারুণ এক ক্যাচ নিয়ে ৩৯ রান করা সৈকতের বিদায় নিশ্চিত করেন উইল জ্যাকস।

এর আগে মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বরিশাল অধিনায়ক সাকিব। প্রতিপক্ষের আমন্ত্রণে ব্যাটিংয়ে নেমে নাইম হাসানের করা প্রথম বলেই লং অন দিয়ে ছক্কা হাঁকান কেনার লুইস।

তবে প্রতিশোধ নিতে সময় লাগেনি নাইমের। এক বল পরই আবারও কেনারকে ছক্কা হাঁকাতে প্রলুব্ধ করেন নাইম। তবে এবার সীমানা পার করতে পারেননি ক্যারিবীয় ওপেনার, ধরা পড়ে যান লং অন বাউন্ডারিতে। সেই যে শুরু, এরপর আর রানের গতি বাড়েনি চট্টগ্রামের।

পাওয়ার প্লে'র মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে যখন কঠিন বিপদে চট্টগ্রাম, তখন চাপ আরও বাড়িয়ে দলীয় ৪২ রানে সাজঘরের পথ ধরেন আরেক ওপেনার উইল জ্যাকস। তার ব্যাট থেকে আসে এক ছয়ের মারে ২০ বলে ১৬ রান। জ্যাকসের উইকেট নেন বাঁহাতি চায়নাম্যান জ্যাক লিন্টট।

বরিশালের পক্ষে সর্বোচ্চ তিন উইকেট নিয়েছেন আলঝারি জোসেফ, নাইম হাসানের শিকার দুই উইকেট। এছাড়া সাকিব, ব্রাভো ও লিনটটের ঝুলিতে গেছে একটি করে উইকেট।

স্কোর

টস: বরিশাল, বোলিং

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স: ১২৫/৮, ২০ ওভার (বেনি হাওয়েল ৪১, উইল জ্যাক স ১৬, নাঈম ইসলাম ১৫, শামীম পাটোয়ারী ১৪, মেহেদী হাসান মিরাজ ৯; অ্যালজারি জোসেন ৩/৩২, নাঈম হাসান ২/২৫, সাকিব আল হাসান ১/৯, জ্যাক লিনটট ১/১৮ এবং ডোয়াইন ব্র্যাভো ১/৩৯)।

ফরচুন বরিশাল: ১২৬/৬, ১৮.৪ ওভার (সৈকত আলী ৩৯, জিয়াউর রহমান ১৯*, ইরফান শুকুর ১৬, তৌহিত হৃদয় ১৬, সাকিব আল হাসান ১৩, ডোয়াইন ব্র্যাভো ১২*; মেহেদী হাসান মিরাজ ৪/১৬, মুকিদুল ইসলাম ১/২৫)।

ফলাফল: ফরচুন বরিশাল ৪ উইকেটে জয়ী (৮ বল হাতে রেখে)। ম্যাচ সেরা: মেহেদী হাসান মিরাজ (চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স)।


poisha bazar


ads