বিতর্কিতভাবে বাদ রুবেল ফিরলেন মুশফিক-মোস্তাফিজ


poisha bazar

  • ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০১:০৮

বেশ কিছুদিন ধরেই জাতীয় দলের নির্বাচকদের দিকে তির্যক আঙ্গুল ক্রিকেটপ্রেমীদের। একে তো দল ব্যর্থতার অথৈ সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে। তারই মধ্যে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচকদের দল নির্বাচন প্রক্রিয়া। বিশ্বকাপের আগে পেসার আবু জায়েদ রাহীকে দিয়ে শুরু, এরপর থেকে রীতিমতো যেন হাসির খোরাকে পরিণত হয়েছেন মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর নির্বাচক প্যানেল। এই যেমন বাংলাদেশের শেষ খেলা রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে হঠাৎ করে দলে ডাকা হয় রুবেল হোসেনকে। তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো পারফরমেন্স না থাকলেও প্রায় দুই বছর পর তাকে টেস্ট দলের জন্য বিবেচিত করে নির্বাচক কমিটি।

পিন্ডি টেস্টে বাংলাদেশ হারে ইনিংস ও ৪৪ রানে। এক ইনিংস বল করে দলের হয়ে ৩ উইকেট শিকার করেন তিনি। খরুচে বোলিং করলেও রাহীর (৩ উইকেট) পর দলের সেরা বোলার ছিলেন তিনি। অথচ বিস্ময় জাগিয়ে দুই বছর পর টেস্টে ফেরানো রুবেলকে ঘরের মাঠে জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে আসন্ন একমাত্র টেস্টের দল থেকে আবারো ছাঁটাই করা হয়েছে। প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক, মাত্র এক টেস্ট খেলিয়েই আবার তাকে বাদ দেয়া কেন? এমন তো না যে খুব খারাপ বোলিং করেছেন এ পেসার।

মিনহাজুলের কাছে এ ব্যাপারে প্রশ্ন রাখা হলে তিনি জানিয়েছেন, আপাতত টিম ম্যানেজমেন্টের লাল বলের পরিকল্পনায় নাকি নেই রুবেল! তবে কেনই তাকে এতদিন পর ফিরিয়ে মাত্র একটি টেস্টেই সুযোগ দেয়া?

টানা ব্যর্থতায় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল থেকে বাদ পড়াটা সুনিশ্চিত ছিল। অভ্যন্তরীণ খবর, আর কখনো হয়তো টাইগার টেস্ট দলে দেখা যাবে না তাকে। কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো এরই মধ্যে তাকে সাদা পোশাকের ক্রিকেট নিয়ে ভাবতে বলেছেন। মনোযোগ দিতে বলেছেন, সংক্ষিপ্ত ওভারের ক্রিকেটে। পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ দল দেশে ফেরার পরই চাউর হয়, জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে দলে রাখা হবে না মাহমুদউল্লাহকে। গতকাল ঢাকা টেস্টের জন্য ১৬ সদস্যের দল ঘোষণার পর গুজবের সত্যতা মেলে।

রুবেল হোসেনের সঙ্গে টেস্ট দল থেকে বাদ পড়েছেন ‘পঞ্চপাণ্ডব’ এর এক মাহমুদউল্লাহ। শেষ ১০ টেস্ট ইনিংসে এই ডানহাতির আছে কেবল একটি ফিফটি। সাম্প্রতিক সময়ে তার আউট হওয়ার ধরন বেশ দৃষ্টিকটু। মাহমুদউল্লাহর বাদ পড়াটা অস্বাভাবিক ছিল না। কিন্তু রুবেলের বেলায় যেভাবে মিনহাজুল জানালেন, তিনি দলের পরিকল্পনায় নেই, মাহমুদউল্লাহর বেলায় সেটি হলো না। টেস্টে তার কাছ থেকে প্রত্যাশিত পারফরমেন্স দলে পাচ্ছে না সেটি স্বীকার করে নিলেও নান্নুর কূটনৈতিক ব্যাখ্যা, ‘আমরা লাল বলে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে বিশ্রাম দিয়েছি। আমাদের মনে হয়েছে তার লাল বলে বিশ্রামের প্রয়োজন।’

মাহমুদউল্লাহ-রুবেল ছাড়াও গত পাকিস্তান সফরের দল থেকে আরো বাদ পড়েছেন পেসার আল আমিন হোসেন ও সৌম্য সরকার। চোটে থাকায় আল আমিনকে দলে রাখা হয়নি। সৌম্য অবশ্য বাদ নয়, পেয়েছেন ছুটি। এ মাসেই যে সাত পাকে বাধা পড়তে যাচ্ছেন এ বাঁহাতি। এই তো গেল দল থেকে বাদ পড়া চারজনের নাম। তাদের পরিবর্তে দলে ঢোকাদের নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন!

নিরাপত্তার অজুহাতে দলের সঙ্গে পাকিস্তান সফরে যাননি মুশফিকুর রহিম। জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিতে টেস্টে ফিরছেন তিনি। তার ফেরাটা নির্ধারিতই ছিল। তবে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের দল থেকে বাদ পড় মোস্তাফিজুর রহমানকে এক টেস্ট বাদেই আবার ফেরানো হয়েছে।

তাকে বাদ দেয়ার কারণ হিসেবে সেসময় টাইগার কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো জানান, বোলিংয়ে বৈচিত্র্য না আনলে তাকে আর টেস্ট দলের পরিকল্পনায় রাখা হবে না! কিন্তু মাত্র সপ্তাহ দুয়েক না যেতেই সে মোস্তাফিজকে ফের ডাকা হলো। এর মধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের প্রথম রাউন্ডে মোস্তাফিজ ছিলেন না ছন্দে। এক ইনিংসে বল করা এই পেসারের ইকোনমি ছিল চারের ওপর। সিলেটে সবুজ উইকেট পেয়ে সামর্থ্য দেখান তিনি।

তাতেই আবার নির্বাচকদের সুনজরে কাটার মাস্টার। ডোমিঙ্গো এখনো সাদা বলের জন্য ২৪ বছর বয়সী মোস্তাফিজকে বিবেচনায় রাখলেও তাকে লাল বলের ক্রিকেটের জন্য ভাবনায় রেখেছেন নির্বাচকরা, ‘আমাদের নির্বাচক প্যানেল থেকে বলা হয়নি (টেস্টে তাকে না রাখা)। কোচ এটা চিন্তা করেছিল, কিন্তু এখন আমরা চিন্তা করছি বিসিএলে ও (মোস্তাফিজ) যেভাবে ফিরে এসেছে; এখন চিন্তা করছি অবশ্যই তাকে লাল বলে বিবেচনা করা যায়। আজকে (গতকাল) সকালেই কোচের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, তখনই আমরা তাকে অন্তর্ভুক্ত করেছি।

ঘরোয়াতে তিনি (রাসেল ডোমিঙ্গো) খুব একটা ম্যাচ দেখেননি। মোস্তাফিজের পরপর দুটো বিসিএল ম্যাচ দেখেছি এবং সে আগের মতোই বল করেছে’-বলেন মিনহাজুল। মোস্তাফিজ ছাড়াও দলে ফিরেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। আরো বড় চমক তাসকিন আহমেদকেও টেস্ট দলে ফেরানো হয়েছে। চোট কাটিয়ে ফিটনেস প্রমাণ করাতেই ২৭ মাস পর টেস্ট দলে এই ডানহাতি পেসার। সবশেষ ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট খেলার স্মৃতি আছে তাসকিনের। এরপর থেকে ইনজুরির সঙ্গে লড়াই চলছিল তার।

এদিকে সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার হওয়াতে প্রথমবারের মতো টেস্ট দলে ইয়াসির আলী রাব্বি ও হাসান মাহমুদ। গত এক বছরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৬০ এর বেশি গড়ে রান করছেন ইয়াসির। তরুণ পেসার হাসান অবশ্য গত বছর খুব একটা ভালো করতে পারেননি। ৪০ এর বেশি গড়ে নিয়েছেন কেবল ৬ উইকেট। কিন্তু এবারের বঙ্গবন্ধু বিপিএলে গতি দিয়ে নজর কেড়েছিলেন হাসান।

যে কারণে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দলে ডাক পেয়েছিলেন। সে সুবাদে এবার টেস্ট দলেও তিনি। প্রধান নির্বাচকের ব্যাখ্যাও উঠে আসে তাদের পরখ করে দেখার ইচ্ছের কথা, ‘আমাদের মনে হয়েছে যে, হাসান মাহমুদ আর ইয়াসির আলী চৌধুরীর মাঝে যথেষ্ট সম্ভাবনা ও প্রতিশ্রুতি আছে। তারা দুজনই আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় ছিল, আছেও। তাই তাদের একটু পরখ করে দেখার জন্য সুযোগ দেয়া হয়েছে।’

জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের বাংলাদেশ দল : তামিম ইকবাল, সাইফ হাসান, মুমিনুল হক (অধিনায়ক), নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম, লিটন কুমার দাস, মোহাম্মদ মিঠুন, তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান, আবু জায়েদ চৌধুরী, ইবাদত হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ, ইয়াসির আলি চৌধুরী।

 




Loading...
ads






Loading...