শেয়ারবাজারে মূল্যসূচকের অস্থিরতায় লেনদেনে ধীরগতি


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৩:১০

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে বড় দরপতন ও লেনদেন খরা দেখা দেওয়ার পর দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) লেনদেনের শুরুতে শেয়ারবাজারে মূল্যসূচকে বেশ অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। সেই সঙ্গে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমে গেছে। পাশাপাশি লেনদেনে বেশ ধীরগতি রয়েছে।

প্রথম আধাঘণ্টার লেনদেনে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মাত্র ১৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। এতে প্রধান মূল্যসূচক কমেছে ১ পয়েন্ট। আর লেনদেন হয়েছে ৫০ কোটি টাকার কম।

দেশের অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রথম আধাঘণ্টার লেনদেনে সূচক ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। তবে এ বাজারেও লেনদেনে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। আর দাম বাড়া ও কমার তালিকায় সমান সংখ্যক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এদিন শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেন শুরু হতেই ডিএসইর প্রধান সূচক ৪ পয়েন্ট বেড়ে যায়। লেনদেনের শুরুতে এমন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিলেও সাত মিনিটের মধ্যে প্রধান সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে।

লেনদেনের প্রথম ১৫ মিনিট সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়। এরপর সূচক কিছুটা বাড়লেও প্রথম আধাঘণ্টার লেনদেন শেষ হতেই আবার ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। সূচকে এমন অস্থিরতা দেখা গেলেও দাম বাড়ার তুলনায় দাম কমার তালিকায় রয়েছে বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠান।

ডিএসইতে ৩৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১০১টির। আর ৭৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এরপরও ডিএসইর প্রধান সূচক বেড়েছে দশমিক শূন্য ৫ পয়েন্ট। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক বেড়েছে ১ পয়েন্ট। আর ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক কমেছে দশমিক ১২ পয়েন্ট। এ সময় পর্যন্ত ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩ পয়েন্ট বেড়েছে। লেনদেন হয়েছে ৩৬ লাখ টাকা। লেনদেন অংশ নেওয়া ২৯ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১০টির, কমেছে ১০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৯টির।

এর আগে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার ডিএসইতে লেনদেন হয় মাত্র ২৮৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে চলতি বছরের ৮ জানুয়ারির পর ডিএসইতে তিনশ কোটি টাকার কম লেনদেন হয়। সেই সঙ্গে প্রধান মূল্যসূচক কমে ১৮ পয়েন্ট। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ কমে ২ পয়েন্ট। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক কমে ৪ পয়েন্ট।

অন্যদিকে গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন কার্যদিবসেই শেয়ারবাজারে দরপতন হয়। এতে সবকটি মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি কমে লেনদেনের পরিমাণ। সেই সঙ্গে কমে বাজার মূলধন।

গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়ায় সাত লাখ ৬৩ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা। যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল সাত লাখ ৬৭ হাজার ৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমে তিন হাজার ২০২ কোটি টাকা।

অন্যদিকে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স কমে ৩৭ দশমিক ১০ পয়েন্ট বা দশমিক ৫৯ শতাংশ। বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক গত কমে ১১ দশমিক ১৬ পয়েন্ট বা দশমিক ৫০ শতাংশ। ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচক কমে ৫ দশমিক ২৭ পয়েন্ট বা দশমিক ৩৮ শতাংশ।

সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয় ৪২২ কোটি ২৩ লাখ টাকা। তার আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৬৪৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমে ২২৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা বা ৩৪ দশমিক ৯১ শতাংশ।

মানবকণ্ঠ/এফআই


poisha bazar