টানা দরপতন পুঁজিবাজার


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৬ অক্টোবর ২০২১, ২০:৩২

দুই সপ্তাহ ধরেই টানা দরপতনে দেশের পুঁজিবাজার। এর মধ্যে প্রথম সাত কার্যদিবসে ক্রমাগত পতনের পর মাঝে একদিন সূচক কিছুটা বেড়েছিল। এরপর টানা দুদিন ধরে আবারো পতনের মধ্য দিয়ে গিয়েছে বাজার। বিশেষ করে গতকাল পুঁজিবাজারের দরপতন আরো তীব্র হয়ে ওঠে। দিনব্যাপী লেনদেনের এক পর্যায়ে এক ধাক্কায় ১৬৩ পয়েন্ট হারায় সূচক। অবশ্য শেষের দিকে শেয়ারের ক্রয়চাপ বাড়ায় কিছু পয়েন্ট ফিরে পেয়েছে সূচক।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, প্রভাবশালী কিছু কোম্পানির শেয়ারের দাম কমে পুঁজিবাজারের এ দরপতনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে। মূলত মূলধনি মুনাফা তুলে নেয়া, সুকুকে বিনিয়োগ, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়াকড়ি ও বিভিন্ন গুজবের প্রভাবে এ দরপতন হচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার-সংশ্লিষ্টরা।

পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক দরপতনের শুরু ১১ অক্টোবর থেকে। সেদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২২ পয়েন্ট কমে ৭ হাজার ৩৪৫ দশমিক ৫৭ পয়েন্টে দাঁড়ায়। এর পর থেকে টানা ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত সূচকটি কমতে থাকে। ২১ অক্টোবর সূচক প্রায় ৫৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৭ হাজার ৭৬ পয়েন্টে। এর পরের দুই কার্যদিবসে সূচক টানা কমে সর্বশেষ গতকাল দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৮৮৫ পয়েন্ট। ১১ অক্টোবর থেকে গতকাল পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৪৬০ পয়েন্ট হারিয়েছে ডিএসইএক্স।

সূচকের এ পতনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি (বিএটিবিসি) ও বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারের দরপতন। এ পাঁচ কোম্পানির শেয়ারের দরপতনে সূচক কমেছে প্রায় ১৮৮ পয়েন্ট। এর মধ্যে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ারের মূল্য পতনের অবদান ৪৮ দশমিক ৯ পয়েন্ট। এছাড়া বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ারের দরপতনে ৪৪ দশমিক ৬, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের ৪০ দশমিক ২, বিএটিবিসির ২৮ দশমিক ২ ও বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারের দরপতনে ২৬ পয়েন্ট হারিয়েছে সূচক।

পুঁজিবাজারের এ দরপতনের কারণ জানতে কথা হয় বাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে। তারা জানান, গত এক বছরের বেশি সময় ধরে সূচকের যে উত্থান হয়েছে সেটি বিবেচনা করলে দর সংশোধন হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। যারা এরই মধ্যে বিনিয়োগের বিপরীতে মূলধনি মুনাফা অর্জন করেছেন, তারা শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা তুলে নেবেন সেটিও প্রত্যাশিত। এরই মধ্যে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতা দেখা গেছে। তবে আমাদের বাজার এখনো পরিপক্ব না হওয়ার কারণে এখানে টানা দর বৃদ্ধি কিংবা টানা পতনের মতো প্রবণতা বেশি দেখা যায়।

বর্তমানে বেক্সিমকো লিমিটেডের ৩ হাজার কোটি টাকার সুকুকের সাবস্ক্রিপশন চলছে। এক্ষেত্রে সুকুকে বিনিয়োগের জন্যও কেউ কেউ নিজেদের পোর্টফোলিওতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে থাকতে পারেন। এর আগে রবি আজিয়াটার আইপিও সাবস্ক্রিপশনের সময়ও বাজারে কিছুটা ধীরগতি দেখা গেছে। সে সময়ও অনেক বিনিয়োগকারী নিজেদের পোর্টফোলিওতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে সে অর্থে রবির আইপিওতে বিনিয়োগ করেছেন। এটি বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের সাধারণ একটি প্রবণতা।

এছাড়া বেশকিছু অনিয়ম পরিলক্ষিত হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগকে কঠোর নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। ফলে কোনো কোনো ব্যাংক পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে রক্ষণাত্মক অবস্থানে চলে গেছে। এটিও পুঁজিবাজারের দরপতনে কিছুটা ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন তারা।

বিষয়টি নিয়ে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট শরীফ আনোয়ার হোসেন বলেন, সাম্প্রতিক দরপতনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের গুজবের একটা প্রভাব রয়েছে। এছাড়া পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়াকড়ির প্রভাবও এক্ষেত্রে পড়েছে। এর বাইরে কেউ কেউ মূলধনি মুনাফা তুলে নেয়ার জন্যও শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন। এই সবকিছুর প্রভাব পড়েছে সূচকের ওপর। আমাদের পুঁজিবাজারের একটি সহজাত প্রবণতা হচ্ছে শেয়ারের দাম যখন বাড়ে তখন সবাই শেয়ার কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। অন্যদিকে দাম যখন পড়তে থাকে তখন সবাই শেয়ার বিক্রি করতে থাকে। অথচ যখন দাম কমে তখনই কিন্তু শেয়ার কেনার উপযুক্ত সময়। তাই বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত না হয়ে জেনেবুঝে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল সকালে লেনদেন শুরুর পর থেকেই শেয়ারের বিক্রয় চাপে পয়েন্ট হারাতে থাকে সূচক। দুপুর ১২টা ৪০-এর দিকে সূচক নেমে আসে ৬ হাজার ৮৪২ পয়েন্টে। অবশ্য এরপর শেয়ারের ক্রয়চাপ বাড়ায় কিছু পয়েন্ট ফিরে পায় সূচক। যদিও গতকাল লেনদেন শেষে ডিএসইএক্স সূচক আগের দিনের তুলনায় ১২০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৮৮৫ পয়েন্টে। আগের কার্যদিবসে এ সূচক ছিল ৭ হাজার ৬ পয়েন্টে। গতকালের লেনদেনে সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে বেক্সিমকো লিমিটেড, বিএটিবিসি, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ও সামিট পাওয়ারের শেয়ারের দরপতন।


poisha bazar

ads
ads