ভয়াবহ দরপতনে সপ্তাহ শুরু

ভয়াবহ দরপতনে সপ্তাহ শুরু
ভয়াবহ দরপতনে সপ্তাহ শুরু - ফাইল ছবি।

poisha bazar

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১৬ মার্চ ২০২০, ১৮:৫৫

বড় দরপতন দিয়ে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস গতকাল রোববার পার করেছে দেশের শেয়ারবাজার। এদিন লেনদেনের শুরুতেই একের পর এক প্রতিষ্ঠানের পাশে লালচিহ্ন পড়তে থাকে। শেয়ার দামের ইন্ডিকেটে একের পর এক লালচিহ্ন ভেসে ওঠায় শেয়ারবাজার বিনিয়োগকারীদের কাছে অনেকটাই ‘রক্তনদী’তে পরিণত হয়েছিল। দেশের শেয়ারবাজার ভয়াবহ দরপতনের মুখে পড়ায় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশের পক্ষ থেকে দুই সপ্তাহের জন্য লেনদেন বন্ধ রাখার দাবি জানানো হলেও তা নাকচ করে দিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ।

লেনদেনের শুরুতে শেয়ারবাজারে বড় ধস নামলে দুপুরে বিনিয়োগকারীদের সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নিকুঞ্জে অবস্থিত ডিএসইর কার্যালয়ে যান। বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) কাছে শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ রাখার দাবি জানান। এ সময় ডিএসইর প্রধান অর্থ কর্মকর্তা আবদুল মতিন পাটোয়ারী, প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ভয়াবহ দরপতন হওয়ায় আমরা দুই সপ্তাহের জন্য শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছিলাম। তবে ডিএসইর এমডি বলেছেন এ মুহূর্তে লেনদেন বন্ধ করা হবে না। তিনি বলেন, ডিএসইর এমডি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন আজ থেকে বাজার ভালো হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক সবাই শেয়ারবাজার ভালো করতে চেষ্টা করছেন। করণীয় নির্ধারণে আজ সোমবার অর্থমন্ত্রী সকল স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে বসবেন। ডিএসইর এমডির এই আশ্বাসে আমরাও আশাবাদী। আমরা চাই এই বাজার ভালো হোক। এ জন্য আমরা আগামী দুইদিন দেখব। এর মধ্যে যদি বাজার ভালো না হয়, আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব, বলেন বিনিয়োগকারীদের এই প্রতিনিধি।

বিনিয়োগকারীদের প্রতিনিধিদল ডিএসইর উদ্দেশে রওনা হলে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান বলেন, আমি সবসময় অফিসে থাকি না। আমাদের এমডি অফিসে থাকেন। বিনিয়োগকারীদের প্রতিনিধিদল তাদের প্রস্তাব আমাদের এমডির কাছে তুলে ধরবেন। এমডি প্রয়োজন হলে তাদের এ প্রস্তাব পর্ষদে তুলে ধরবেন। তারপর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আমরা ব্যবস্থা নেব। তাছাড়া এমডি চাইলে নিজস্ব ক্ষমতা বলেও কিছু সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

আর ডিএসই পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত হওয়া যাবে না, ধৈর্য ধরতে হবে। আতঙ্কে পেনিক সেল না দিয়ে শেয়ার ধরে রাখতে হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সবাই বাজার ভালো করতে চেষ্টা করছে। সুতরাং আমি বিশ্বাস করি এই বাজার ভালো হবে। শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ রাখতে বিনিয়োগকারীদের দাবির বিষয়টি তুলে ধরা হলে তিনি বলেন, এটা সম্ভব না। কারণ আমাদের এখানে শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ রাখার আইন নেই। ভারতের শেয়ারবাজারে সার্কিট ব্রেকার আছে। পতন অথবা উত্থানের কারণে সূচক সেই সার্কিট ব্রেকার স্পর্শ করলে লেনদেন সাময়িক বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু আমাদের বাজারে সূচকের কোনো সার্কিট ব্রেকার নেই। কাজেই এটি করা যাবে না।

এদিন শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরুর মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ১০০ পয়েন্টের ওপরে পড়ে যায়। সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে পতনের মাত্রা। ফলে একপর্যায়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৩৪ পয়েন্ট পড়ে যায়। তবে শেষ দিকে এসে পতনের মাত্রা কিছুটা কমে। এরপরও ধসের হাত থেকে রক্ষা পায়নি শেয়ারবাজার। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৬০ পয়েন্ট কমে তিন হাজার ৯৬৯ পয়েন্টে নেমে এসেছে। এর মাধ্যমে পাঁচ বছর পর সূচকটি চার হাজার পয়েন্টের নিচে নামল। ২০১০ সালে শেয়ারবাজারে মহাধসের পর ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি ডিএসইর সূচকে পরিবর্তন আনা হয়। বাজারটিতে প্রধান মূল্য সূচক হিসেবে চালু করা হয় ডিএসইএক্স। শুরুর দিন সূচকটির ভিত্তি পয়েন্ট ছিল চার হাজার ৫৫ পয়েন্ট। এরপর কিছুদিন সূচকটি পতন হলে চার হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে আসে।

তবে ২০১৩ সালের ১০ জুন আবার চার হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করে সূচকটি। এরপর ২০১৫ সালে আবার পতন দেখা দিলে ৪ মে সূচকটি আবার চার হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে আসে। অবশ্য পরের কার্যদিবসেই তা চার হাজার পয়েন্ট ছাড়িয়ে যায়। এরপর আর চার হাজার পয়েন্টের নিচে নামেনি ডিএসইএক্স। তবে বড় পতনের কবলে পড়ে রোববার আবার সূচকটি চার হাজার পয়েন্টের নিচে চলে এলো। এই পতনের কবলে পড়ে এদিন ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে মাত্র ১০টি প্রতিষ্ঠান।

বিপরীতে দাম কমেছে ৩৩৮টির। আর সাতটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে পতন হয়েছে প্রধান সূচকের সঙ্গে ডিএসইর অপর দুই সূচকের। এর মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ৪৮ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৩৩৩ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসইর শরিয়াহ্ ৩১ পয়েন্ট কমে ৯২৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

শেয়াবাজারের এই পতনকে রক্তক্ষরণের সঙ্গে তুলনা করে বিনিয়োগকারী আহসান জামাল বলেন, শেয়ারবাজারে প্রতিদিন ভয়াবহ দরপতন হচ্ছে। এতে প্রতিদিনই আমাদের রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। এদিকে দরপতনের সঙ্গে ডিএসইতে দেখা দেয় লেনদেন খরা। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৩৭৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ৪০৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৩৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।

অপর শেয়ারবাজর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্য সূচক সিএএসপিআই ৪৮৯ পয়েন্ট কমে ১২ হাজার ১৫৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেয়া ২৫০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৩৪টির এবং চারটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।




Loading...
ads






Loading...