ই-কমার্সের উন্নয়নে কাজ করব: আবু সুফিয়ান নিলাভ


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১০ মে ২০২২, ২২:২২

আবু সুফিয়ান নিলাভ। যিনি বরাবরই ভাবেন ই-কমার্স সেক্টর নিয়ে। কাজ করতে চান এই সেক্টরের মানুষদের জন্য। মানবকণ্ঠ অনলাইনের সঙ্গে ই-কর্মাস এবং ই-ক্যাব নিবার্চন নিয়ে মুখোমুখী হয়েছেন তিনি। বিস্তারিত জানাচ্ছেন- ইমন নাজমুল


মানবকণ্ঠ: দেশের বর্তমান ই-কমার্স নিয়ে আপনার ভাবনা কি?
আবু সুফিয়ান নিলাভ: ই-কমার্স বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান একটি খ্যাত। সময়ের সাথে সাথে এই খ্যাত উন্নতির দিকেই যাচ্ছিল। করোনাকালে ই-কমার্সের যথেষ্ট উন্নতি হলেও কিছু ই-কমার্স কোম্পানির প্রতারণা এই খ্যাতকে আবারো প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। যেটা ই-কমার্সের উন্নয়নের দিকে একটি চরম বাধা। ২০২১ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ই-কমার্স বেশ ভালোর দিকেই ছিল। ২০২১ সালের জার্মান পরিসংখ্যান পোর্টাল স্ট্যাটিস্টা জানিয়েছিল, বাংলাদেশের ই-কমার্স খাতের আকার ফুলে-ফেঁপে দাঁড়াবে ১৯৫ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি, যা টাকার হিসাবে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা। ২০২৩ সাল নাগাদ এই খাতে লেনদেনের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে ২৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি। ই-কমার্স বাণিজ্যের বৈশ্বিক তালিকায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই জায়গা করে নিয়েছে ৪৬তম অবস্থানে। কিন্তু চলতি বছরে আমরা আমাদের লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে গিয়েছি। সর্বপরি ই-কমার্স সাধারণ মানুষের আস্তার জায়গায় ভালোভাবেই ছিল। দারাজ, পিকাবো, চালডালসহ অনেক প্রতিষ্ঠান বর্তমানে দারুণ করছে। শুরুর দিকে সর্বোপরি এই খ্যাতে ডেলিভারি, পেমেন্ট, প্রোডাক্ট ইস্যু নিয়ে কিছু সমস্যা থাকলে তা এখন ঠিক হয়ে গেছে।

মানবকণ্ঠ: ই-কমার্স কি সঠিক দিকে এগুচ্ছে?
আবু সুফিয়ান নিলাভ: আসলে যে কোন ক্রমবর্ধমান খ্যাতের উন্নতির গ্রাফ তার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় উপরের দিকেই যায়। কিন্তু আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় আমরা সেভাবে এই খ্যাতে উন্নতি করতে পারিনি। আমাদের বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরির স্বপ্নে বদ্ধপরিকর এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরিতে যথেষ্ট আন্তরিক। বাংলাদেশের অন্যান্য খ্যাতগুলোর থেকেও আমাদের উন্নতির সময় আমরা অনেক ভালো পরিবেশ পেলেও আমরা তা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারিনি। আপনি যদি প্রবাহমান নদীতে পাল তুলে নৌকা ছেড়ে দেন তবে তা অবশ্যই সামনের দিকে স্রোতের টানে এগিয়ে যাবে কিন্তু সঠিক দিকে যাচ্ছে কিনা এটা সন্দেহ। কারণ কিছু সময় ভালোর জন্য স্রোতের বিপরীতেও যেতে হয়।

মানবকণ্ঠ: আসছে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন সেই নিয়ে আপনার চিন্তা কি?
আবু সুফিয়ান নিলাভ: দেশের ই-কমার্সের অভিভাবক অ্যাসোসিয়েশন ই-ক্যাব তার সৃষ্টির পর প্রথম এক অভিজ্ঞতার দিকে যাচ্ছে। ই-ক্যাব ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করলেও পরিচালনা পরিষদ এখন পর্যন্ত সিলেকশনের পথেই ছিল। এবার নির্বাচন হবার প্রক্রিয়া শুরু হবার পরেও অনেক সাধারণ সদস্য প্রশ্ন তুলে যাচ্ছে নির্বাচন আদৌ হচ্ছে তো? আপনি মনে হয় নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের স্বপ্ন কতটুকু? হ্যাঁ তবে, এবার নিশ্চয়ই নির্বাচন হবে এবং তা যথেষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হতে যাচ্ছে বলে আমি মনে করি। বর্তমান পরিচালনা বিগত বছরগুলোতে বেশ ভালো কিছু কাজ করলেও কিছু বিষয়ে তারা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। পূর্বের মত এবারের এজিএমেও আমি উপস্থিত ছিলাম। সাধারণ সদস্যদের বিভিন্ন যৌক্তিক প্রশ্নে বর্তমান কমিটি এক রকম দায়সারা উত্তর দিয়ে এডিয়ে গিয়েছিল। এবারের মত এজিএম আমি আগে কখনো দেখিনি। তাই সর্বোপরি আমি মনে করি এবারের ই-ক্যাব নির্বাচনে ভালো কিছুই হতে যাচ্ছে।

মানবকণ্ঠ: পরিচালক পদের জন্য আপনি কি নির্বাচন করবেন?
আবু সুফিয়ান নিলাভ: হ্যাঁ আমি লড়বো। ই-কমার্সের উন্নতির জন্য আমরা তৈরি করেছি “দ্য চেঞ্জ মেকারস”। “দ্য চেঞ্জ মেকারস” এর পক্ষ হয়ে আমি আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদন্তিতা করব এবং আমরা বিশ্বাস করি ই-কমার্সের স্বার্থে “দ্য চেঞ্জ মেকারস” বিজয়ী হবে ইনশাল্লাহ। তবে এই বিজয়ের স্বার্থে আমার থেকে যোগ্য কারো জন্য যদি আমাকে নির্বাচন থেকে সরেও দাঁড়াতে হয় ই-কমার্সের স্বার্থে আমার প্যানেলের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে আপত্তি নেই।

মানবকণ্ঠ: আপনি পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিলে কি কাজগুলো আগে করবেন?
আবু সুফিয়ান নিলাভ: ব্যক্তিগতভাবে আমি যে সেক্টরে এক্সপার্ট সেই দিকেই কাজ করব সবার আগে। ফটোগ্রাফি, ভিডিওগ্রাফি, ব্র্যান্ডিং ও মার্কেটিং নিয়ে আমি আমার মেধাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করব। আমি মনে করি এই বিষয়গুলোতে আমাদের ই-কমার্স এখনো অনেক পিছিয়ে আছে। যে কোন স্টার্টআপ শুরুতে ভালো করলেও পরবর্তীতে ব্র্যান্ডিং ও মার্কেটিংয়ে পিছিয়ে পরছে। তাছাড়া আমি পার্সোনালি ই-ক্যাবকে মেম্বারদের সংগঠন করতে চাই। বাৎসরিক চাঁদা দেওয়া ছাড়া মেম্বাররা এই অ্যাসোসিয়েশনের সাথে সংযুক্ত থাকেন না, বা থাকতে পারে না। অনেকেই ই-কমার্সের স্বার্থে তাদের মেধা দিতে চায়, আমি এবং আমাদের প্যানেল এই মেধাগুলোকে কাজে লাগাতে চাই। এছাড়া আমাদের প্যানেলেরও কিছু নির্বাচনী ইশতেহার থাকবে। সেটাও আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে সকলের সামনে খুব দ্রুতই তুলে ধরব।

মানবকণ্ঠ: “দ্য চেঞ্জ মেকারস” বলতে কারা আছে আপনাদের সাথে?
আবু সুফিয়ান নিলাভ: আমি তো আপনাকে জিজ্ঞাসা করতে পারি কারা নেই? এরই মাঝে ১৫০ জনেরও বেশি সাধারণ সদস্য আমাদের সাথে সরাসরি কাজ করছে। দেশের ই-কমার্সের সাথে শুরুর দিক থেকে কাজ করছেন এবং এই সেক্টরে প্রতিষ্ঠিত সকলেই আমাদের সাথে আছেন। আমরা বিশ্বাস করি যে সমস্যায় পরেছে এবং সেই সমস্যা উত্তরণের পথ তৈরি করেছেন নেতৃত্বে আসলে সেই সাধারণ সদস্য ও ই-কমার্সের সমস্যা বুঝবে এবং সমস্যা সমাধানে কাজ করা যাবেন।

 


poisha bazar


ads