ইন্টারনেটের দাম মোটেই বেশি না: মোস্তাফা জব্বার

- ফাইল ছবি

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৪ মে ২০২১, ১৬:১৩,  আপডেট: ১৪ মে ২০২১, ১৬:১৮

দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি, মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন এবং বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানি ইন্টারনেটের ওপর ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক ও সারচার্জ কমানোর দাবি জানিয়ে আসছে। তবে দেশে ইন্টারনেটের দাম বেশি বলে দাবি করছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ইন্টারনেটের যে দাম, তা মোটেই বেশি না। এটা এক ধরনের পুরনো ধারণা থেকেই তৈরি হয়েছে যে ইন্টারনেটের দাম বেশি।’

একটি অনলাইন গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, ইন্টারনেটের দাম বেশি এ বক্তব্যের সঙ্গে আমি একমত না। আপনি এ ব্যাপারে যদি তুলনা করেন একমাত্র ভারতের জিওর (মোবাইল নেটওয়ার্ক, ব্রডব্যান্ড ও ডিজিটাল সার্ভিস প্রোভাইডার) সঙ্গে তুলনা করতে পারবেন। একটি বিষয় আমরা ভুলে যাই, ভারতে ১২০ কোটি লোক বসবাস করে। তাদের ইন্টারনেটের পরিধি এবং অন্যান্য বিষয়গুলো যে পরিমাণ বড় সেই পরিমাণ বড় ইনফ্রাস্ট্রাকচার আমাদের দেশে গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) যে প্রাইসগুলো আছে এখন আমরা সেগুলো জেলা পর্যায়ে এমনকি ১২ থেকে ১৬ ইউনিয়ন পর্যন্ত কানেকশনগুলো দেই। সেগুলোর চার্জ মোটেই বেশি না।

এক প্রশ্নের জবাবে মোস্তাফা জব্বার বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যেটা কমানোর দরকার সেটা কমানো হয়েছে। আমরা ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ৫৮৭ টি ফ্রি ওয়াইফাই জোন করে দিয়েছি। টেলিটক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন পরিচালিত বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন নেটওয়ার্ক (বিডিরেন) থেকে মানুষ বিনামূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে। আমি পারলে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে ইন্টারনেট দিতে চাই। পারলে সাবসিডি দিতে চাই। কিন্তু ইন্টারনেটভিত্তিক বিজনেসের ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের দাম বেশি বলে আমার মনে হয় না। আপনি যদি একটি দিনমজুরের ক্যাপাসিটি থেকে দেখেন, তাহলে ইন্টারনেটের দাম একটু বেশি হবেই।

মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা কেবল মোবাইল ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে আছি। আমরা এটাকে ক্যাবল ইন্টারনেটে রূপান্তরের চেষ্টা করছি । ২০২০ সাল থেকে এই সময়ের মধ্যে এক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। আমি মনে করি, যদি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের কথা বলি তাহলে আমাকে অবশ্যই ক্যাবলভিত্তিক ইন্টারনেটের কথা চিন্তা করতে হবে। এর মূল্যটা তুলনামূলক অনেক কম। আর যদি আপনি মোবাইলের সাথে তুলনা করেন সেটা ঠিক না। কারণ তারা স্পিড কিনে বিক্রি করে। সেই ডাটা মূলত ইন্টারনেট সিস্টেম না, সেটা স্পিড।

‘আইএসপিগুলো যে ব্যান্ডউইথ বিক্রি করে ওটার সঙ্গে তুলনা করেন, তাহলে সব ঠিক আছে। আপনারা সবাই কেবলমাত্র মোবাইল ডাটার হিসাব করেন । মোবাইল বেসিক্যালি ইন্টারনেটের কম্পোনেন্ট না। আমার ইন্টারনেট দেয়ার কথা হচ্ছে আইএসপির মাধ্যমে। আইএসপি লাইনের ক্ষেত্রে গ্রাম পর্যায়ে এক মাসে এমবিপিএস ৫০০ টাকার ওপরে হয় না।’

মোস্তফা জব্বার বলেন, বিদেশিরা সার্টিফিকেট দিলো যে, আমরা বেশি দামে ইন্টারনেট বিক্রি করি এবং সেটা নিয়ে সবাই চিন্তা করতে থাকেন। আমাদের তৃণমূলের প্রকৃত খবর না নিয়েই বিদেশিরা রিপোর্ট বানিয়ে ছাড়িয়ে দেয়।

মানবকণ্ঠ/এসকে


poisha bazar

ads
ads