করোনায় আবারও নতুন সিমট্রম


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১১:৪২

শুরু থেকে কয়েকবার রূপ পাল্টেছে করোনা। এরমধ্যে নতুন নতুন সিমট্রমও দেখা যাচ্ছে। জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, গন্ধ না পাওয়ার পাশাপাশি এখন রক্তে প্লাটিলেট কমে যাওয়া, শক সিনড্রোমসহ করোনাভাইরাসের অস্বাভাবিক কিছু লক্ষণও দেখা যাচ্ছে।

আগের তুলনায় এখন রোগীদের মধ্যে বিভিন্ন ধরণের জটিলতা বাড়ছে। করোনাভাইরাসের মিউটেশনের ফলে ভাইরাস আরো মারাত্মক হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন করোনাভাইরাস আরো মারাত্মক হয়েছে এমন কোন প্রমাণ নেই।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ও সরকারের করোনাভাইরাস চিকিৎসা ও গাইডলাইন কমিটির সদস্য ডা রোবেদ আমিন বলেন, করোনাভাইরাসের নতুন কোন স্ট্রেইন আসছে সম্ভবত। কারণ এখন যে রোগীরা আসছেন তাদের অনেকের ব্লাড প্রেশার কম পাওয়া যাচ্ছে। আগে শকে চলে যাওয়া রোগী কম পাওয়া যেত, এখন বেশি হচ্ছে। রোগীদের রক্তে প্ল্যাটিলেটও কম থাকছে।

তিনি বলেন, এখন যে রোগীরা আসছেন তাদের শারীরিক সমস্যাগুলো অন্যরকম। বিশেষ করে কিডনিতে সংক্রমণের মাত্রা বেশি পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়াও আরও বেশি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংক্রমিত হচ্ছে। এখন কিছু পরবর্তনও দেখা যাচ্ছে, যেগুলো আগে পাওয়া যায়নি। করেনাভাইরাসের অনেকগুলো মিউটেশন হয়েছে। একেকটা মিউটেশন স্ট্রেইন যখন আসে তখন তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বদলে যেতে পারে। সেটির ওপর ভিত্তি করে মানুষ যখন সংক্রমিত হচ্ছে তার লক্ষণগুলোও বদলে যেতে পারে।

রোবেদ আমিন বলেন, ক্রিটিক্যাল পেশেন্ট সব সময় ছিল। কিন্তু এখন যে রোগীরা আসছেন, তাদের অনেকেরই হাসপাতালে আসার পরে অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যাচ্ছে। আগে রোগীরা হাসপাতালে আসলে আর খারাপ হতো না। আমাদের কাছে মনে মনে হচ্ছে এবার ভাইরাসের যে স্ট্রেইনটা আছে সেটি একটু আগ্রাসী ধরনের। এখন প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই হবে সবচাইতে ভালো। কারণ আক্রান্ত হলে আগে থেকে বলা যায় না কার অবস্থা খারাপ হবে বা কে ভালো থাকবে।

দেশে এক মাসে কোভিড-১৯ রোগী বেড়েছে ৩০%ও মৃত্যু বেড়েছে ৭.৩%। অক্টোবর মাসে দেশে কোভিড-১৯ রোগী ছিলো ৪৪,২০৫ জন ও মারা গেছেন ৬৭২ জন। নভেম্বরে কোভিড-১৯ রোগী বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭,২৪৮ জন ও মারা গেছে ৭২১ জন।

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ২৬৮ তম দিনে কোভিড-১৯ পজেটিভ রোগীর সংখ্যা দাড়িয়েছে ৪, ৬৪,৯৩২ জন। এখন পর্যন্ত দেশে কোভিড-১৯ এ মারা গেছে ৬,৬৪৪ জন।

দেশে করোনাভাইরাসের ইনফেকশন রেট বাড়ছে। অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত ইনফেকশন রেট ১০% থেকে ১২% এ উঠানামা করলেও এখন সেটি ১৩% থেকে ১৬% এর মধ্যে উঠানামা করছে।

কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসা দেয়া চিকিৎসকেরা জানান, কোভিড-১৯ রোগীরা গন্ধ পাচ্ছে না এমন কেস এখন কম পাওয়া যাচ্ছে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডা মোহাম্মদ তন্ময় দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, আগেও অস্বাভাবিক লক্ষণ নিয়ে রোগীরা আতেন। এখন সেটি আরো বেড়েছে। এখন দেখা যাচ্ছে জ্বর নেই কিন্তু অন্যান্য লক্ষণ বেশি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সদ্য সাবেক প্রধান প্রফেসর মুজিবর রহমান বলেন, জ্বর, কাশির পাশাপাশি এখন অস্বাভাবিক কিছু লক্ষণ নিয়ে আসছেন রোগীরা। মাথা ঘুরে পরে যাওয়া, ডেঙ্গুর সাথে মিল আছে এমন কিছু লক্ষণের কিছু রোগীরাও আসছেন। অনেক রোগী আসছে যাদের লক্ষণগুলো সন্দেহজনক হওয়ায় আমরা ডেঙ্গুর টেস্টও করাচ্ছি। এখন শুধু ঢাকা মেডিকেল কলেজ নয়, কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড সব হাসপাতালে রোগী বাড়ছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভাইরোলজী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নুসরাত সুলতানা বলেন, বর্তমানে করোনার যে স্ট্রেইনটি কাজ করছে, সেটিকে মারাত্মক সংক্রামক মনে হচ্ছে।

তবে চিকিৎসকেরা করোনাভাইরাসের ভিরুলেন্ট হওয়ার কথা বললেও বিজ্ঞানীরা বলছেন তেমন কোন তথ্য নেই।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এর পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা শিরিন বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, জুলাই পর্যন্ত করোনাভাইরাসের মিউটেশন নিয়ে আমরা গবেষণা করেছি। সেসময় আমরা দেখেছি অন্যান্য দেশে করোনাভাইরাসের যে ধরণ আমাদেরও তেমন আছে। তবে ভাইরাসটি এখন আরো ভিরুলেন্ট হয়েছে কিনা সে বিষয়ে আমাদের কোন গবেষণা নেই। আমাদের রিএজেন্ট শেষ হয়ে গেছে, রিএজেন্ট আসলে আমরা আবার করোনাভাইরাসের মিউটেশন নিয়ে কাজ শুরু করবো।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সঠিকভাবে মাস্ক পড়া, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও দূরত্ব বজায় রাখার বিকল্প নেই বলে মনে করেন অধ্যাপক তাহমিনা শিরিন।

ঢাকা শিশু হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান এবং শিশু স্বাস্থ্য গবেষণা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সমীর কুমার সাহা বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত করোনাভাইরাসের জিনোম সিকুয়েন্সিং করছি। করোনাভাইরাস আরো ভিরুলেন্ট হয়ে উঠেছে তেমন কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর লক্ষণ বদলে যাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। এককজন মানুষের শারীরিক কার্যক্ষমতা একেক রকম, তাই একেক রকম লক্ষণ হতেই পারে।

মানবকণ্ঠ/এনএস






ads