অ্যাসপিরিনের নিয়মতি ডোজ করোনায় মৃত্যুঝুঁকি কমায়: গবেষণা


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৮ অক্টোবর ২০২০, ১০:০৪

বিশ্বের সবচেয়ে সহজলভ্য ওষুধে নাম বলতে হলে অ্যাসপিরিন বললে ভুল হবে না। যা হয়তো সাধারণ মুদি দোকানেও পাওয়া যায়। ওষুধটি মাংসপেশীর চোট, সর্দি বা ফ্লু এবং আর্থ্রাইটিস দ্বারা সৃষ্ট সামান্য মাথাব্যথা, জ্বর এবং প্রদাহ দূর করতে ব্যবহৃত হলেও পাওয়া গেছে নতুন তথ্য।

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড স্কুল অব মেডিসিনের বিশেষজ্ঞরা গবেষণা করে বলছেন, নিয়মিত অ্যাসপিরিনের ব্যবহার করোনায় মৃত্যু ঝুঁকি কমায়। দৈনিক অ্যাসপিরিন গ্রহণকারী রোগীর মৃত্যুঝুঁকি ৪৭ শতাংশ হ্রাস পায়।

গবেষকরা দেখেন যে, রোগীদের মধ্যে যারা দৈনিক স্বল্পমাত্রায় অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ গ্রহণ করেছেন- তাদের গুরুতর অসুস্থ হয়ে আইসিইউ'তে ভর্তি হওয়া বা শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য ভেন্টিলেটর যন্ত্রের সাহায্য নেওয়ার পরিমাণ ৪০ শতাংশের বেশি কমে। যেসব রোগী অ্যাসপিরিন গ্রহণ করেন না, তাদের চাইতে মৃত্যুঝুঁকি অর্ধেক কম থাকে এটি নিয়মিত সেবনকারী রোগীদের।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়াদের মধ্যে মাত্র ২৫ শতাংশ ছিলেন দৈনিক ও স্বল্পমাত্রায় (৮০ মিলিগ্রামের কম) অ্যাসপিরিন সেবনকারী।

অ্যাসপিরিন গ্রহণের ফলে হাসপাতালে ভর্তি কোভিড -১৯ রোগীদের মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়া বা মৃত্যুর ঝুঁকি কমতে পারে। নতুন একটি গবেষণা এমন ইঙ্গিত দিয়েছে।

মেরিল্যান্ড স্কুল অব মেডিসিনের বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, কোভিড-১৯ জনিত মারাত্মক স্বাস্থ্যগত সমস্যা এড়াতে নতুন দিগন্ত যোগ করতে পারে এ আবিষ্কার। তবে আরও অনুসন্ধানের আগে বিষয়টি নিয়ে অতি-উৎসাহ না দেখাতে সতর্ক করেছেন তারা।

অ্যাসপিরিন বিশ্বব্যাপী একটি সহজলভ্য ওষুধ। সুপার মার্কেট বা মুদি দোকান সবখানেই মেলে সহজে। নারীদের ঋতুকালীন সমস্যা, মাংসপেশীর চোট, সর্দি বা ফ্লু এবং আর্থ্রাইটিস দ্বারা সৃষ্ট সামান্য মাথাব্যথা, জ্বর এবং প্রদাহ দূর করতে ব্যবহৃত হয় অ্যাসপিরিন।

তাছাড়া, হৃদযন্ত্রের সমস্যা এবং উচ্চ-রক্তচাপে ভোগা রোগীরা এটি রক্ত পাতলা রাখার জন্যেও সেবন করেন। রক্ত জমাট বাধা নিয়ন্ত্রণে থাকলে, তাতে করে আকস্মিক হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকিও অনেকটা কমে যায়।

গুরুতর কোভিড রোগীদের অনেকের দেহের শিরা ও ধমিনীতে রক্ত জমাট বাঁধতে দেখা যায়। মেরিল্যান্ডের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রক্ত জমাট বাধা হ্রাসের এই গুণটির কারণেই কোভিড-১৯ রোগীর জন্য উপকারী হয়ে উঠেছে অ্যাসপিরিন।

এরপরও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। কারণ, অ্যাসপিরিন হচ্ছে 'নন-স্টেরিওডাল অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি' (এনসেইড) শ্রেণিভুক্ত ওষুধ। অতিমারি হানা দেওয়ার পর থেকেই এধরনের ওষুধের কারণে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর অবস্থার অবনতি হতে পারে, এমন উদ্বেগ জোরালো হয়ে ওঠে।

ইতোপূর্বের কিছু গবেষণায়; প্যারাসিটামল এবং আইবোপ্রোফেন গোত্রের এনসেইড ওষুধ হাসপাতালে ভর্তি করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ায়- এমন দাবি করা হয়। গবেষণাগুলোর নির্ভরযোগ্যতা এখনও প্রশ্নবিদ্ধ। এবং নানা দেশের জনস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধানেরা এবিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো প্রমাণ মেলেনি, বলে জানিয়েছেন।

মেরিল্যান্ডের বিশেষজ্ঞদের সাম্প্রতিক গবেষণায় অবশ্য শুধু অ্যাসপিরিন ব্যবহারের ফলাফল বিশ্লেষণ করা হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি যেসব কোভিড রোগী নিয়মিত ওষুধটি গ্রহণ করছেন বা করেননি- তারাই ছিলেন নমুনা জনসংখ্যা।

৪১২ জন এমন রোগীর মেডিকেল রেকর্ড পর্যালোচনা করেন বিশেষজ্ঞরা। এদের প্রায় সকলেই মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার এবং যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের নানা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়াদের মধ্যে মাত্র ২৫ শতাংশ ছিলেন দৈনিক ও স্বল্পমাত্রায় (৮০ মিলিগ্রামের কম) অ্যাসপিরিন সেবনকারী। তাদের আইসিইউ'তে যাওয়ার পরিমাণ ছিল ৪৩ শতাংশ কম। পাশাপাশি নিয়মিত অ্যাসপিরিন গ্রহণ হাসপাতালে অবস্থানকালে তাদের মৃত্যুঝুঁকি ৪৭ শতাংশ হ্রাস করে। আর ভেন্টিলেটরে যাওয়া কমায় ৪৪ শতাংশ।






ads