করোনায় আশার আলো এলি-লিলি’র অ্যান্টিবডি মিশ্রণে

করোনায় আশার আলো এলি-লিলি’র অ্যান্টিবডি মিশ্রণে
- ছবি : সংগৃহীত

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৮ অক্টোবর ২০২০, ১১:২০,  আপডেট: ০৮ অক্টোবর ২০২০, ১৩:৪১

করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তরসে প্রাকৃতিকভাবে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। আর মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি হচ্ছে, তারই রাসায়নিক সংস্করণ। মানবদেহের মূল রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জৈব-রাসায়নিক গুণাগুণ গবেষণাগারে সম্পূর্ণ রাসায়নিক মাধ্যমে রুপান্তর করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা-এলি লিলি বুধবার জানিয়েছে, তাদের তৈরি মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি মিশ্রণ আক্রান্তের দেহে কোভিড-১৯ সৃষ্টিকারী করোনাভাইরাসের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সংখ্যাও হ্রাস করতে সাহায্য করছে পদ্ধতিটি।

ইতোপূর্বে, মাত্র একটি অ্যান্টিবডি দ্বারা গঠিত ওষুধের ফলাফল প্রকাশ করেছিল লিলি। সে সময় বিশেষজ্ঞরা একে 'সম্ভাবনাময় সমাধান' বলে মন্তব্য করেছিলেন। এরপর সম্প্রতি দুইটি অ্যান্টিবডি একসঙ্গে মিশ্রিত করে তা পরীক্ষা করে মার্কিন কোম্পানিটি।

সেই পরীক্ষার ফলাফলই বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত আকারে জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মিশ্রণটি আরও বেশি কার্যকর বলে দাবি করা হয়েছে।

গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রিজেনেরন ফার্মার তৈরি একটি পরীক্ষামূলক মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি মিশ্রণ জরুরি ভিত্তিতে দেওয়া হয়। এরপরই হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে হোয়াইট হাউজে ফিরে এসেছেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি।

লিলির অ্যান্টিবডি মিশ্রণটির পরীক্ষার ফলাফলও প্রায় একইরকম চিকিৎসা ব্যবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির দেহের রক্তরসে এক সময়ে প্রাকৃতিকভাবে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। আর মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি হচ্ছে, তারই রাসায়নিক সংস্করণ। মানবশরীরের প্রধান প্রতিরোধ ব্যবস্থার জৈব-রাসায়নিক গুণাগুণ গবেষণাগারে সম্পূর্ণ রাসায়নিক মাধ্যমে রুপান্তর করা হয়।

এটি নিয়ে গবেষণাকারী বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, মিশ্রণটি ইঞ্জেকশনের মানবদেহে প্রবেশ করানো হলেই মিলবে করোনা থেকে মুক্তি।

এলি লিলি কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের দেহেই তাদের প্রাথমিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অংশ হিসেবে মিশ্রণটি প্রয়োগ করে। তবে এসব রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন না। প্রয়োগের মাত্র ১১ দিন পরই রোগীদের নাসারন্ধ্রে করোনাভাইরাসের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমেছিল, বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।

অবশ্য, গবেষণার কিছু মূল তথ্য যেমন; পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী রোগীদের শরীরে কী পরিমাণ জীবাণু আগে থেকেই ছিল এবং কিভাবে গবেষণার আওতাধীন জনসংখ্যা নির্বাচন করা হয়েছে- তা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।

তবে জানানো হয়, এতে প্রায় ২৬৮ জন রোগী অংশ নেন। তাদের মধ্যে ১১২ জনকে ২.৮ গ্রাম অ্যান্টিবডি মিশ্রণ দেওয়া হয়। বাকিদের ঔষধি গুণবিহীন একটি মিশ্রণ দেওয়া হয়।

১১দিন পর উভয় জনসংখ্যার মধ্যে ভাইরাসের পরিমাণ হ্রাস পাওয়ার গণনায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে। এলি লিলির প্রথম অ্যান্টিবডি ককটেলের তুলনায় যা আরও বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়।

যেসব ব্যক্তি মাত্র তিনদিন বা সাতদিন আগে ভাইরাস আক্রান্ত হন, তাদের শরীরেই সবচেয়ে বেশি কমেছে জীবাণুর উপস্থিতি।

মিশ্রণটি নেওয়ার ফলে আক্রান্তদের উপসর্গগুলোও অনেকটা সেরে যায়। তাদের মধ্যে খুব কম সংখ্যককেই পরবর্তীতে হাসপাতালে বা প্রাণসংশয়ের মতো পরিস্থিতিতে আইসিইউ শয্যায় ভর্তি হতে হয়।

সেই তুলনায় গবেষণার আওতায় যাদের মিশ্রণটি দেওয়া হয়নি, তাদের মধ্যে ৫.৮ শতাংশকে হাসপাতাল এবং আইসিইউ'তে ভর্তি হতে হয়েছে। মিশ্রণ প্রাপ্তদের ক্ষেত্রে যা ছিল মাত্র ০.৯ শতাংশ। এই সংখ্যা চিকিৎসা বিজ্ঞানের গাণিতিক হিসাবে উল্লেখযোগ্য সাফল্য তুলে ধরে।

সফলতার প্রেক্ষিতে লিলি জানায়, ইতোমধ্যেই তারা বিশ্বব্যাপী নানা দেশের ওষুধ প্রশাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের অ্যান্টিবডি চিকিৎসার অনুমোদন পাওয়ার জন্য যোগাযোগ করা শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রেও তারা মার্কিন খাদ্য এবং ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) কাছে জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন চেয়েছে।

আগামী মাসের মধ্যেই এফডিএ'র কাছে তারা এব্যাপারে আনুষ্ঠানিক আবেদনপত্র জমা দেওয়ার আশা করছে। ওই সময়ে তারা আরও বেশি সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবী কোভিড রোগীর মধ্যে বড় পরিসরের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করবে। জরুরি ব্যবহারের সবুজ সংকেত পেলে উৎপাদনে গতি আনার পাশাপাশি আগামী বছরের মধ্যভাগ নাগাদ এর পূর্ণাঙ্গ স্বীকৃতির জন্য আবেদন করবে কোম্পানিটি।

লিলি জানিয়েছে, বর্তমান সক্ষমতায় ইতোপূর্বের LY-CoV555 নামের একটি অ্যান্টিবডির ১০ লাখ ডোজ চলতি বছরের শেষ নাগাদ তারা উৎপাদন করতে পারবে। চলতি মাসের শেষে পাওয়া যাবে এক লাখ ডোজ। কিন্তু, নতুন মিশ্র অ্যান্টিবডিটি উৎপাদনে গতি আনতে অনেক সময় লাগবে। চলতি বছরের শেষ প্রান্তিক নাগাদ তারা এটির মাত্র ৫০ হাজার ডোজ তৈরি করতে পারবে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads







Loading...