করোনা প্রতিরোধের কৌশল জানালেন দেশের তিন গবেষক

মানবকণ্ঠ
তিন গবেষক - মানবকণ্ঠ।

poisha bazar

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • ২৫ মার্চ ২০২০, ১৩:৪২,  আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২০, ১৪:১৮

করোনাভাইরাস প্রতিরোধের কৌশল জানালেন ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন অধ্যাপক। তাঁরা এ ভাইরাসের বিভিন্ন প্রোটিনসমূহ পর্যবেক্ষণ করে করোনার প্রকৃতি ও তার নেতিবাচক দিকসমূহ নিয়ে গবেষণা করছেন।

ওই তিন গবেষক অধ্যাপকেরা হলেন- যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আবদুস সাহিদ ও কম্পিউটার সাইন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবুল কাশেম।

তাঁরা জানান, করোনাভাইরাসের প্রোটিনগুলো পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে যে, ভাইরাসটিতে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান রয়েছে যা শ্বাসনালীসহ মানবদেহের ক্ষতি করতে সক্ষম। ডেকে আনতে পারে মৃত্যুও। ভাইরাসের রাসায়নিক উপাদানসমূহ পরীক্ষা করে কার্বোক্সিল (-COOH) এবং এমাইনো (-NH2) গ্রুপ পাওয়া গেছে। যার উপাদানগুলোকে অকার্যকর করতে হাইড্রোক্সিল (-OH) গ্রপের প্রভাব রয়েছে।

অধ্যাপকত্রয়ী আরো জানান, তাঁরা দেশীয় ও সহজলভ্য হাইড্রোক্সিল (-OH) গ্রুপের বিভিন্ন উৎস নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করছেন। পরীক্ষায় দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন উদ্ভিদের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে হাইড্রোক্সিল (-OH) গ্রুপ রয়েছে।

বাংলাদেশের এই গবেষকেরা মনে করেন, সেসব উদ্ভিদকে 'এক্সট্র্যাক্ট' করে তার সঙ্গে আরও কিছু প্রাকৃতিক উপাদানযুক্ত করে বিশ্বমানের করোনা নিরোধক ওষুধ তৈরী সম্ভব হতে পারে।

গবেষকদল তাদের গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। অচিরেই গবেষণার ফল করোনা নিরোধক ওষুধ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

গবেষকত্রয়ী জানান, তাঁরা প্রাথমিকভাবে গবেষণায় লিকোরিজ বা যষ্টি মধুকে ব্যবহার করা হয়েছে যা করোনা ভাইরাসের খারাপ প্রোটিনগুলোর উপর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম। 

গবেষণার অব্যাহতভাবে চলবে জানিয়ে তাঁরা বলেন, করোনার ওষুধ তৈরির আগেই পুষ্টিবিদদের মাধ্যমে দ্রুতই  হাইড্রোক্সিল (-OH) গ্রপের একটি তালিকা প্রকাশ করতে পারবে সরকার। এতে সাধারণ মানুষ এই খাদ্যগুলি তাদের খাদ্য তালিকায় রেখে করোনার বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে পারবে। এছাড়া এ গবেষণার ফলে এন্টি-ভাইরাল পোশাক, গ্লাভস ও মাক্সসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপাদান তৈরিকে সহজ করবে।

ইতোমধ্যে গবেষক দলটি তাদের গবেষণা ফলাফল আন্তর্জাতিক জার্নালে সাবমিট করেছেন। তাঁরা আশাবাদী তাদের এই পরিবেশ ও মানববান্ধব আবিষ্কার আমাদের দেশ সহ পৃথিবীর মানুষের সুরক্ষা ব্যবস্থাকে নিশ্চিত করবে। সাথে সাথে তাঁরা গবেষণাটির বিভিন্ন দিক নিয়ে অন্যদেরও কাজ করার আহ্বান জানান।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads






Loading...