খালেদা জিয়া গণতন্ত্র ও রাজনীতির জন্য হুমকি: তথ্যমন্ত্রী


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১০ জুলাই ২০১৯, ১৮:২৯

বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র ও রাজনীতির জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, বিএনপি যখন ক্ষমতা ছিলেন, তখন দেশ পরপর পাঁচবার দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বলবো আয়না নিজের চেহেরা দেখতে। যে কথাগুলো বলেছেন সেটি আপনাদের জন্য প্রযোজ্য।’

বুধবার সকালে রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বার্তা সংস্থা ইউএনবির বার্তা সম্পাদক মাহফুজুর রহমান প্রণীত ‘সাংবাদিকতা রাত-বিরাতে’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ফখরুল ইসলাম সাহেব বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি নাকি গণতন্ত্রের অংশ! অথচ, তিনি আসলে গণতন্ত্র ও রাজনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ। কারণ, রাজনীতি হচ্ছে জনগণের কল্যাণের জন্য, জনগণকে কষ্ট দেয়ার জন্য নয়। অথচ এই রাজনীতির কথা বলে বেগম জিয়া দিনের পর দিন অবরোধ ডেকে মানুষকে কষ্ট দিয়েছেন, পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে শতশত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, হাজার হাজার মানুষকে আগুনে ঝলসে দেয়া হয়েছে। সমসাময়িক পৃথিবীতে রাজনীতির নামে এ রকম ঘটনা ঘটেনি।’

শেখ হাসিনার সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাসী উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল সংসদীয় কমিটির পুর্ণগঠন করা হয়েছে। সেখানে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যকে যদিও সংখ্যায় কম তারপরও আইন কমিটিসহ গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে তাদের স্থান দেয়া হয়েছে। বিরোধী দলের সদস্যরা সরকারি দলের সদস্যদের চেয়ে অনেক বেশি সময় নিয়ে সংসদে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে। আমরা তর্কভিত্তিক, যুক্তিভিত্তিক গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় বিশ্বাসী।’

উন্নয়নের নামে জনগণের টাকা সরকার পকেটে ভরছে বিএনপির এমন মন্তব্যের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তাহলে গত ১০ বছরে প্রায় দেড় কোটি মানুষ নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্তে উন্নীত হয়েছে, দারিদ্র্য ৪১ শতাংশ থেকে কমে ২০ শতাংশে নেমে এসেছে এবং বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশ উন্নয়শীল দেশে রূপান্তরিত হয়েছে। আমাদের দেশের এই অর্জন এবং উন্নয়নের বিরুদ্ধে যদি কেউ রাজনীতি করে, সেটা তাদের ব্যর্থতা।’

সমালোচনা পথ চলাকে সাধিত করে মন্ত্রী বলেন, ‘সমালোচনা নির্ভুলভাবে পথচলাকে সহায়তা করে। দায়িত্বে থাকলে পৃথিবীর কোনো সরকার পৃথিবীর কোনো ইতিহাসে শতভাগ নির্ভুল কাজ করতে পারেনি। ভবিষ্যতেও কোনো সরকার শতভাগ নির্ভুল কাজ করতে পারবে না। এই ভুলত্রুটি উপস্থাপন করা কিন্তু সাংবাদিকদের দায়িত্ব। সমালোচনাকে সমাদৃত করার মাধ্যমে যুক্তি এবং তর্কের মাধ্যমে সরকারের সমালোচনা মাধ্যমে গণতন্ত্র সংহত হয়, দেশ এগিয়ে যায়, আমরা সেটি বিশ্বাস করি। যেটিতে বেগম খালেদা জিয়া বিশ্বাস করেন না। তার প্রমাণ হচ্ছে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় সংসদে এই নিয়ে কথা বলতে চাওয়া যখন হয় তখন এই নিয়ে কথা বলতে দেয়া হয়নি। হাস্যকর কথা বলে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডকে তারা অন্য খাতে প্রবাহিত করার জন্য চেষ্টা করেছিলেন।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক এমেরিটাস সাখাওয়াত আলী খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আআমস আরেফিন সিদ্দিকী, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য লেখক মো. নজরুল ইসলাম ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, বইয়ের লেখক মাহফুজুর রহমান।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ




Loading...
ads




Loading...