নওমুসলিম অলিভার হ্যাল্ডারসনের ইসলাম গ্রহণের কাহিনী (ভিডিও)

- সংগৃহীত

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:২০,  আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:২৭

অলিভার হ্যাল্ডারসন এখন মুহাম্মদ আলী- একজন নওমুসলিম ব্যবসায়ী। তার জন্মভূমি আইসল্যান্ডে-যেখানে মোট জনসংখ্যার মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ মুসলিম।

একসময় মুসলিমদের খুব বিদ্বেষের চোখে দেখতেন তিনি। একদিন ঘর থেকে কলম কিনতে বের হলেন অলিভার এবং ফিরলেন মুসলিম হয়ে- মুহাম্মদ আলী নাম ধারণ করে! তাঁর এই হঠাৎ পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন তিনি আল জাজিরাকে।

মুহাম্মদ আলী বলেন, ‘মরক্কোর রাজধানী রাবাতের একটি মহল্লায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এক যুবকের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়। একদিন সে আমাকে রাবাতের গ্র্যান্ড মসজিদে নিয়ে গেল। সেখানে প্রবেশ করতেই এক বৃদ্ধের কুরআন তিলাওয়াতের সুমধুর আওয়াজ কানে বাজল।

তখন আমার মধ্যে আশ্চর্য রকমের এক অনুভূতি ও প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হলো। বুঝতে পারলাম আমি নতুন কিছু প্রাপ্ত হয়েছি। তখন হৃদয়কে খুব উন্মুক্ত অনুভব করলাম। এক ধরনের প্রশান্তিতে আমার মন ছুঁয়ে গেলো।

মসজিদ থেকে বের হয়ে গেলাম একটি দোকানে-ধর্মীয় বইপত্র কিনতে। দোকানির কাছে পবিত্র কুরআনের অডিও চাইলাম, দোকানি জিজ্ঞেস করলেন— আমি মুসলিম কিনা? নইলে অডিও দিবেন না।

আমি বললাম— আমি মুসলিম নই, তবে আমার মা একজন মুসলিম। পরে দোকানি আমাকে লাগাতার কয়েকটি প্রশ্ন করলেন— আপনি কি ফেরেশতাদের বিশ্বাস করেন? … হ্যাঁ।

পৃথিবীতে নবী-রাসুলগণ এসেছেন— আপনি এটি মানেন? … হ্যাঁ। আসমানি কিতাবসমূহের ওপর আপনার বিশ্বাস আছে? … হ্যাঁ। সব প্রশ্নের উত্তরে ‘হ্যাঁ’ শুনে তিনি আমাকে বললেন— আপনি নিজেই জানেন না যে আপনি একজন মুসলিম!

তিনি এবার আমার থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা চেয়ে প্রশ্ন করলেন, কখনও শাহাদাত পাঠ করছেন? আমি বললাম— জানি না, তবে খুব শিগগির হয়তো। তিনি বললেন— এখন কেন নয়? তখন আমি বুঝতে পারলাম, আল্লাহতায়ালা আমার বিবেক স্থবির করে দিয়ে হৃদয়-দুয়ার খুলে দিয়েছেন। তাই তখন আমি শাহাদাত পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করলাম। আলহামদুলিল্লাহ!

তার সঙ্গে আমার এসব কথাবার্তাকে দোকানি অবশ্য প্রথমে কৌতুক মনে করেছিলেন। পরে আমার সম্পর্কে বললেন— ভাই আমার, আপনি আজিব মানুষ। খাতাকলম কিনতে এসে দেখি মুসলিম হয়ে ফিরে যাচ্ছেন এবং তাই হলো— সত্যিই আমি মুসলিম হয়েই ফিরে এলাম।

এখন আমি ও আমার পরিবার যথাসম্ভব ইসলামি অনুশাসন মেনে চলার চেষ্টা করি। আমার ১২ বছর বয়সি ছেলে ফয়সাল, সেও বিগত রমজানে রোজা রেখেছে। শুধু তাই নয়; ফয়সাল তার মা লাবনী হ্যাল্ডারসনকে জানিয়েছেন, রোজার মৌসুমের লম্বা দিনগুলোতেও রোজা রাখতে তার তেমন সমস্যা হয়নি। শুরুতে নাকি একটু কষ্ট হতো, এখন সে তাতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে।

আমার স্ত্রী লাবনী হ্যাল্ডারসনকে জিজ্ঞেস করেছিলাম— তোমার কি ইসলামি অনুশাসন পরিপালনে খুব কষ্ট হচ্ছে? সে তেমন বড় রকমের সমস্যায় পড়েনি জানিয়েছে। তবে বলেছে— পাকিস্তানে থাকাকালীন রোজায় খুব কষ্ট হতো। কারণ সেখানে প্রচণ্ড গরম। এখন আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা খুব ভালো আছি আলহামদুলিল্লাহ! আমাদের পরিবারের সবাই মুসলিম এবং আমাদের বাড়ি একটি মুসলিম বাড়ি— ব্যাপারটি সত্যিই দারুণ রোমাঞ্চকর।

মানবকণ্ঠ/এমএম


poisha bazar

ads
ads