লাইলাতুল কদর হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ

মাওলানা করিম ইবনে মছব্বির


  • ০৫ মে ২০২১, ১৩:৪১

আজ বাইশ রমজানের দিন অতিক্রম করছে। রমজান মাসে এমন একটি পুণ্যময় রজনী রয়েছে। যে রজনীকে খুঁজে পাবার জন্য, তালাশ করার জন্য নবীয়ে করিম (সা.) রমজান মাসের শেষ দশকে এতেকাফ করতেন।

সেই রজনীকে আরবিতে বলা হয় লাইলাতুল কদর, ফার্সিতে বলা হয়, শবে কদর এবং ইংরেজিতে বলা হয় the night of supreme  power. The night of holy cast আর বাংলাতে বলা হয় ভাগ্যর রাত। ওই রাতেই মহান আল্লাহপাক মানবজাতির ভাগ্যর বাজেট প্রদান করে থাকেন।

মহাগ্রন্থ আল কোরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, আপনি কি জানেন লাইলাতুল কদর বা ভাগ্যর রজনী কি? আমি কুরআনুল করিম নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। লাইলাতুল কদর সম্পর্কে আপনি কি জানেন? লাইলাতুল কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এতে প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেশতাদের বাহিনী এবং রুহ অবতীর্ণ হয় তাদের রবের নির্দেশক্রমে। এটা নিরাপত্তা শান্তি যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। (সুরায়ে কদর)

সহীহ বুখারী শরীফের এক রেওয়াতে রাসূলে পাক (সা.), ইরশাদ করেন যে, রমজানের শেষ দশকের রাতে শবে কদরকে অনুসন্ধান করতে থাকো। মুসলিম শরীফের আরেকটি রেওয়াতে আছে যে, শবে কদর শেষ দশকের বেজোড় রাতে তালাশ করতে থাকো। মহান আল্লাহপাক রাব্বুল আলামিন পবিত্র শবে কদরের রাতে লাওহে মাহফুজ থেকে আখেরি নবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) ওপর পবিত্র আল কোরআন নাজিল করেন এবং দীর্ঘ তেইশ বছরে ধীরে ধীরে রাসূল (সা.) ওপর সম্পূর্ণ কোরআন শরীফ নাজিল করেন।

মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তাঁর আসমানী সব ঐশী বাণীসমূহ পবিত্র রমজান মাসে অবতীর্ণ করেন। হজরত মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) এর ওপর কুরআনুল করিম নাজিল হয় পবিত্র রমজান মাসে। হজরত ইব্রাহিম (আ.) এর ওপর ছহিফা নাজিল হয় পবিত্র রমজান মাসে। হজরত মূসা (আ.) এর ওপর ছিনিন পাহাড়ে পবিত্র রমজান মাসে তাওরাত কিতাব নাজিল হয়। হজরত ঈসা (আ) এর ওপর রমজান মাসে বেথেলহাম পাহাড়ে বাইবেল বা ইঞ্জিল কিতাব নাজিল হয়। হজরত দাউদ (আ.) এর ওপর পবিত্র রমজান মাসে নাজিল হয় জাবুর কিতাব। আর আখেরি নবী এবং রাসূল হজরত মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) এর ওপর পবিত্র রমজান মাসের শবে কদরের রজনীতে গারে হেরাতে অবতীর্ণ হয় মহা ঐশী বাণী পবিত্র আল কুরআনুল করিম।

মানবকণ্ঠ/এসকে


poisha bazar

ads
ads