পাপকারির গুনাহ মোচন করে রমজান


  • ২৮ এপ্রিল ২০২১, ১২:৫০

আজ ১৫ রমজান। ইহকাল এবং পরকালের কল্যাণের মাস রমজান। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত নবীয়ে আকরাম (সা.) ঘোষণা করেন, রমজান শরিফ আল্লাহপাকের মাস (অর্থাৎ রমজান মাসের রোজা আল্লাহ পাক ফরজ করেছেন) আর শাবান হলো আমার মাস (অর্থাৎ এ মাসে প্রিয়নবী (সা.) রোজা ও নফল ইবাদত বেশি বেশি করেছেন), তাই শাবান মাসের ইবাদত গুনাহ থেকে পরিত্রাণকারী আর রমজান গুনাহ মোচনকারী।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন রাসূলে আকরাম (সা.) বলেন, ‘শাবান আমার মাস, আর রজব আল্লাহ পাকের মাস এবং রমজান আমার উম্মতের মাস। শাবান মাস মানুষের গুনাহ দূর করে। আর রমজান গুনাহ থেকে পবিত্র করে।

হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত নবীয়ে আকদাছ (সা.)-এর সাহাবায়ে কেরামরা (রা.) শাবান মাসের চাঁদ দেখার পরই কোরআন পাঠে মশগুল হয়ে যেতেন। ধনীরা জাকাত দান করতেন, যাতে দুস্থ, অসহায় ও গরিব লোকজন রমজানের রোজা রাখতে প্রস্তুত হতে পারে। শাসনকর্তারা বন্দিদের এনে শাস্তির উপযুক্তদের শাস্তি প্রদান করতেন এবং অন্যদের ছেড়ে দিতেন। এরপর রমজানের চাঁদ দেখলেই গোসল করে এতেকাফে বসে যেতেন।

হজরত উম্মে সালমা (রা.) বর্ণনা করেন ‘আমি নবী করিম (সা.)-কে রমজান ও শাবান মাস ছাড়া ধারাবাহিকভাবে দুই মাস রোজা রাখতে দেখিনি। তিনি শাবান মাসে অধিকাংশ দিন রোজা অবস্থায় অতিবাহিত করতেন।

অন্য একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, হুজুরেপাক (সা.)-কে আরজ করা হয়েছিল ইয়া রাসূলাল্লাহ (সা.) রমজান মাসের পর সর্বোত্তম রোজা কোনটি? নবী করিম (সা.) ইরশাদ করলেন, ‘রমজান মাসের সম্মানার্থে শাবান মাসে রোজা রাখা (তিরমিজি)। সুতরাং রজব মাস পাপ-পঙ্কিলতা থেকে আত্মরক্ষার মাস এবং শাবান মাস ইবাদত করা এবং রমজানের মাহাত্ম্য অবলোকনের মাস। যে ব্যক্তি রজব মাসে পাপ-পঙ্কিলতা পরিহার করল না এবং শাবান মাসে ইবাদত ও রমজানের মাহাত্ম্য অবলোকন করল না, সে অনর্থক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রইল। রজব মাস শস্যক্ষেত্রে বীজ রোপণের মাস, শাবান মাস সেই শস্যক্ষেত্রে পানি ঢালার মাস এবং রমজান মাসে সেই শস্যক্ষেতের ফসল বা মেহনতের লাভ ওঠানোর মাস। অর্থাৎ রহমত, মাগফিরাত এবং দোজখ থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাতে যাওয়ার মাস। ইহকাল এবং পরকালের কল্যাণের মাস।

লেখক: মাওলানা করিম ইবনে মছব্বির


poisha bazar

ads
ads