মানবিক বা চুক্তিভিত্তিক বিয়ে হারাম: ৫৫১ আলেম


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৪ এপ্রিল ২০২১, ২১:২১

নিকাহের বিপরীতে মানবিক বা চুক্তিভিত্তিক সাময়িক যৌন সম্পর্ক স্থাপন সম্পূর্ণ হারাম ও ইসলামের দৃষ্টিতে তা শাস্তিমূলক অপরাধ বলে দাবি করেছেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জমাআত বাংলাদেশের শীর্ষ ৫৫১ আলেম।

শনিবার (২৪ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এ দাবি করেন। বিবৃতিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান শাইখুল হাদীছ আল্লামা কাজী মুঈনুদ্দীন আশরাফী ও মহাসচিব আল্লামা সৈয়দ মছিহুদ্দৌলাহসহ ৫৫১ আলেম স্বাক্ষর করেছেন।

বিবৃতিতে আলেমরা বলেন, ইসলামে নারী-পুরুষের বন্ধনের বৈধ পন্থা হলো বিয়ে। আল্লাহ বিয়েকে হালাল করেছেন বিপরীতে যিনা-ব্যভিচারসহ বিবাহবহির্ভূত সব অবৈধ মেলামেশাকে নিষিদ্ধ করেছেন। চার মাযহাবের ইমামসহ সবার ঐকমত্য হলো নিকাহের বিপরীতে মানবিক বা চুক্তিভিত্তিক সাময়িক যৌন সম্পর্ক স্থাপন সম্পূর্ণ হারাম ও ইসলামের দৃষ্টিতে তা শাস্তিমূলক অপরাধ।

তারা বলেন, বর্তমানে ইসলাম রক্ষার কথা বলে হেফাজতের কিছু চিহ্নিত দায়িত্বশীল নেতা হাজার বছর ধরে প্রচলিত ইসলামের মৌলিক বিধানের উপর হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছে। শরয়ী শাশ্বত বিধান পাল্টে দিয়ে চুক্তিভিত্তিক সাময়িক বিয়ের প্রবর্তন করার দুঃসাহস দেখাচ্ছে। যা সমাজে অবাধ অনাচার, যৌনাচার ও যুবসমাজকে বিকৃত পথে চলতে উৎসাহ দেবে। ইসলাম সম্পর্কে ভুল বার্তা পৌঁছাবে। অন্যদিকে ইসলামি সামাজিক রীতিনীতি ও পরিবার প্রথা ভেঙে দিয়ে সামাজিক অশান্তি সৃষ্টির পথ দেখাবে।

বিবৃতিতে শীর্ষ আলোমরা বলেন, হেফাজতের তথাকথিত দায়িত্বশীল মূলত নিজের কৃত জঘন্য অপরাধ ঢাকতেই ইসলামকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কখনো মানবিক বিয়ে বা কখনো চুক্তিভিত্তিক বিয়ের কথা বলে নিজেকে রক্ষা করতে চাইলেও সবকিছু বিবেচনা ও পর্যবেক্ষণ করে শরয়ী ফয়সালা হলো ইসলামে চুক্তিভিত্তিক বিয়ে হারাম সুতরাং যে বা যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকবে বিবাহিত হলে প্রমাণ সাপেক্ষে তাদেরকে পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিষয়ে ইসলামে ফয়সালা দেয়া হয়েছে।

আহলে সুন্নাত নেতারা আরো বলেন, এভাবে ইসলামের নামে সামাজিক অনাচারে যুক্ত হওয়াসহ রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করা, জানমালের ক্ষতিসাধন করাও ইসলাম সমর্থন করে না। এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি বা সংগঠনের কাছে দেশ-মিল্লাত-মাযহাব কখনো নিরাপদ নয়।২০১০ সালে হেফাজতের জন্মের পর হতেই তারা সহিংসতা ছড়িয়ে দিচ্ছে। কখনো ইসলাম প্রচারক আল্লাহর ওলিদের মাজার খানকাহ শরিফ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়ার হুমকি আবার কখনো দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ সুফিবাদি জনতাকে প্রকাশ্যে হামলার হুমকি দিয়ে তারা এদেশে উগ্র জঙ্গিবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তাদের সাথে ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের দূরতম সম্পর্কও নেই। ইসলাম হেফাজতের নামে উগ্র হেফাজতিদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের উচ্চ বিলাস ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে গোটা আলেম সমাজ আজ লজ্জিত হয়েছে।

আহলে সুন্নাত নেতারা দেশবাসীকে আলেম লেবাসধারী এ জঙ্গীগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানানোসহ দেশে প্রচলিত শিক্ষা আইন বা নীতিমালা বিরোধী কওমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-বোর্ডগুলোর উপর পরিপূর্ণ সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও হেফাজতকে উগ্র জঙ্গি সংগঠন আখ্যায়িত করে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। নেতারা দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সর্বস্তরের জনসাধারণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

মানবকণ্ঠ/এসকে


poisha bazar

ads
ads