ঈদের ছুটিতে রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা বলয়

ঈদের ছুটিতে রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা বলয় - ফাইল ছবি

poisha bazar

  • শাহীন করিম
  • ২৩ মে ২০২০, ০৩:৩৩,  আপডেট: ২৩ মে ২০২০, ১০:৩০

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারাদেশে নানামুখী নিরাপত্তা ছক এঁকেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ বছর বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে তুলনামূলক কমসংখ্যক মানুষ ঈদ করতে ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন।

তারপরও ঈদের ছুটিতে ও শিথিল লকডাউনে যে কোনো ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় গড়ে তোলা হচ্ছে কয়েক স্তরের কঠোর নিরাপত্তা বলয়। পুলিশ ও র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের অন্তত ১০-১২ হাজার সদস্যের সমন্বয়ে এ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এবার খোলা ময়দানের না হলেও ঈদের নামাজ কেন্দ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিমানবন্দর, বিভিন্ন টার্মিনাল ও বিপণি বিতানসহ স্পর্শকাতর স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব, আর্মড পুলিশ, কমিউনিটি পুলিশ ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা মোতায়েন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

একই সূত্র মতে, যেকোন ধরনের উস্কানি, নাশকতামূলক ও জঙ্গি অপতৎপরতা বন্ধে নজরদারি ও চেকপোস্ট বৃদ্ধি করা হয়েছে। রিজার্ভ ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পুলিশ ও র‌্যাবের বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

পুলিশ ও র‌্যাব সূত্র জানায়, রাজধানীসহ সারাদেশের পাড়া-মহল্লা, সোসাইটি ও বিভিন্ন বিপণি বিতানের মালিক সমিতির সঙ্গে কথা বলে সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। তাছাড়া স্থানীয় থানার মাধ্যমে ফ্ল্যাট বাড়ির প্রহরীদের নিয়েও নিরাপত্তার বিষয়টি সমন্বয় করা হচ্ছে।

বিপণি বিতান ও অফিস-আদালতগুলো সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রাজধানীতে ঈদের আগে ও পরে কয়েক দিন এ বাড়তি নিরাপত্তা বলয় বজায় থাকবে। এ ছাড়া ব্যাংক ও এটিএম বুথ নিরাপদ রাখতে নজর রাখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

র‌্যাব মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, আমরা প্রত্যেক বছর খোলা আকাশের নিচে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করে থাকি। কিন্তু এবার করোনা ভাইরাসের সংক্রমণরোধে সরকারি নির্দেশনা মতে মসজিদগুলোতে একটা নির্দিষ্ট সময় বিরতিতে একাধিক ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

এই ঈদের নামাজকে ঘিরে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ন্যায় র‌্যাবও নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। র‌্যাব প্রধান বলেন, ঈদুল ফিতরের নামাজকে ঘিরে ও এই করোনার মধ্যে উগ্রবাদী, সন্ত্রাসী কিংবা জঙ্গিবাদী কোনো হুমকি বা হামলার ব্যাপারে শঙ্কা নেই। তবে সব বিষয় মাথায় রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কোনো সন্ত্রাসী, উগ্রবাদী কিংবা জঙ্গিগোষ্ঠীর অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির অপতৎপরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে। সেজন্য র‌্যাবের গোয়েন্দা টিম কাজ করছে। নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ ও র‌্যব সদর দফতর সূত্র জানায়, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থান ও ভিভিআইপিদের নিরাপত্তা বাড়াতে পুলিশ ও র‌্যাব এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের মোতায়েন ও টহল শুরু হয়েছে।

এ ছাড়াও পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশেরাজধানীর কূটনীতিকপাড়া, মন্ত্রীপাড়া মিন্টো রোড, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন, বিচারপতিদের বাসভবন, সচিবালয়, বিভিন্ন দেশের দূতাবাস, হাইকোর্ট ও সিএমএম কোর্ট, টার্মিনালগুলো, প্রতিটি জেলার অফিস-আদালত, চট্টগ্রাম ও মংলা পোর্ট এলাকায় নিরাপত্তার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

এ ছাড়া করোনা ও ঈদের ছুটির কারণে রাজধানীরসহ বড় শহরের নিরাপত্তা বেশী জোরদার করা হচ্ছে। কারণ এই সুযোগে মাথাচারা দিয়ে উঠতে পারে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র। আসন্ন ঈদে রাজধানীর নিরাপত্তার বিষয়ে ঢাকা মহনগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপস) কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ঈদের ছুটিতে রাজধানীতে নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতির পাশাপাশি বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়েছে।

এবার খুব সংখ্যক নগরবাসী গ্রামে ঈদ করতে যাওয়া গিয়েছেন বা যাচ্ছেন তাদের বাড়ি-ঘর যেভাবে রেখে গিয়েছিলেন, ঈদের পর সেভাবেই যেন ফেরত পান সেই ব্যবস্থাই করছে পুলিশ। এ ছাড়াও ব্যাংকমুখী নিরাপত্তাব্যবস্থা আরো জোরদার করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার এক কর্মকর্তা জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানীসহ সারাদেশে প্রায় অন্তুত ৬ হাজার র‌্যাব সদস্য নিরাপত্তার জন্য মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা ক্যাম্প স্থাপনসহ বিশেষ-বিশেষ স্থানে থাকছে র‌্যাবের ডগ স্কোয়াড। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় থাকছে র‌্যাবের বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি।

মানবকণ্ঠ/এমএইচ

 

 





ads






Loading...