সবরের বিনিময়ে জান্নাত

সবরের বিনিময়ে জান্নাত - ফাইল ছবি

poisha bazar

  • মাওলানা এম. এ. করিম ইবনে মছব্বির
  • ১৬ মে ২০২০, ০৩:১৯,  আপডেট: ১৬ মে ২০২০, ১০:০৩

আজ ২২তম রমজান ১৪৪১ হিজরি। নবীয়ে করিম (সা.) বলেন, রমজান মাস হল সহানুভূতির মাস। অর্থাৎ গরিব-দুঃখীদের প্রতি নম্র ব্যবহার করবে। নিজের ইফতারির জন্য ১০টি জিনিস তৈরি হলে তাদের জন্য কমপক্ষে দু’চারটা ব্যবস্থা করবে বরং উচিত হলো তাদের জন্য নিজের চেয়ে ভালো সাহরি ও ইফতারের ব্যবস্থা করা।

সহানুভূতি ও আত্মত্যাগের অসংখ্য ঘটনাবলি সাহাবায়ে কেরামদের জীবনে পরিলক্ষিত হয় যা দেখে হতবাক হতে হয়। রমজান মাস সবরের মাস। আর সবরের বিনিময়ে আল্লাহপাক জান্নাত রেখেছেন। এ মাস পরস্পরে সহানুভূতি ও সদ্ব্যবহার করার মাস।

এ মাসে মুমিনদের রিজিক বৃদ্ধি করে দেয়া হয়। যে ব্যক্তি রোজাদারকে ইফতার করাবে, তার গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হয়। এতে রোজাদারের সওয়াবের কোনো কমতি হয় না।

সাহাবায়ে কেরামগণ নবীয়ে করিম (সা.) কে আরজ করলেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ। আমাদের মাঝে সকলে তো রোজাদারদের ইফতার করানোর সামর্থ্য রাখেন না। তদুত্তরে প্রিয় নবী (সা.) বললেন, শুধু একটি খেজুর বা একটু দুধ বা পানির শরবত দ্বারা ইফতার করালেও চলবে। যে ব্যক্তি তার অধীনস্থ লোকদের প্রতি সদয় ব্যবহার করে তার গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হয়।

রমজান মাসকে হাদিস শরীফে ‘শাহরুল মুওয়াসাতি’ বা ‘সহানুভূতি’র মাস বলা হয়েছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলে পাক (সা.) সমগ্র মানব জাতির মধ্যে সবচেয়ে বড় উদার ও দানশীল ছিলেন।

রমজান মাসে হজরত জিব্রাঈল (আ.) যখন নিয়মিত আসতেন তখন নবীয়ে করিম (সা.) এর দানশীলতা আরো বহুগুণে বৃদ্ধি হয়ে যেত। (বুখারী ও মুসলিম)।

রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি নিজের পেটভরে আহার করে অথচ তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত অবস্থায় থাকে, সে প্রকৃত ঈমানদার নয়। (বায়হাকী)

রাসূলে পাক (সা.) উম্মতদের বাস্তব শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে রমজান মাসে সদকা-খয়রাত ও বদান্যতার হাত বেশি করে প্রসারিত করতেন এবং এ মাসটিকে মহানবী (সা.) দানশীলতার ব্যাপারে বিশেষ প্রশিক্ষণের মাস হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক ঘোষণা করেন, তোমাদের অর্থ সম্পদে প্রার্থী ও বি তদের অধিকার রয়েছে। (সুরা আযযারিয়াত আয়াত-১৯)

সুতরাং প্রত্যেক রোজাদার মুমিনের একান্ত কর্তব্যে রোজা পালনের সঙ্গে সঙ্গে স্বীয় অর্থ সম্পদ দুস্থ মানবতার সেবায় ব্যয় করা গরিব-দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহানুভূতি প্রদর্শন করা। তাহলেই রোজার সফল সার্থকতা আসবে ইনশাআল্লাহ।

মনবকণ্ঠ/এমএইচ




Loading...
ads






Loading...