নাজাতের দিন শুরু আজ

নাজাতের দিন শুরু
নাজাতের দিন শুরু - ছবি: সংগৃহীত

poisha bazar

  • মাওলানা এম. এ. করিম ইবনে মছব্বির
  • ১৫ মে ২০২০, ০৯:২০

আজ একুশে রমজান ১৪৪১ হিজরি। শুরু হলো নাজাতের দিন। রমজানের ত্রিশটি দিবস আমরা রোজা পালন করে থাকি। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আমরা কিছু খাই না, পান করি না।

কিন্তু কেন খাই না, কেন পান করি না? কে আমাদের হাত ধরে রাখে, পানাহার থেকে মুখ বন্ধ করে রাখে? ক্ষুধায় যখন পেট পুড়ে যায়, পিপাসায় যখন বুকের ছাতি ফেটে যায়, খাবার ও পানীয় সামনে থাকা সত্ত্বেও কেন খাই না?

কে আমাদের বাধা দেয়? লোক ভয়ে? লোক লজ্জায়? কিন্তু যখন কোনো লোকই আমাদের সামনে থাকে না, গৃহ কোনে আমি একা রয়েছি, আমার সামনে রয়েছে অঢেল পরিমাণ খাবার ও পানি তখন আমাকে কে বাধা দেয়?

তখন আমাকে কেউ বাধা দেয় না সত্য, কিন্তু আমি বুঝতে পারি কেউ না দেখলেও আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাকে দেখছেন। তিনি আমার অতি নিকটে, তাকে ফাঁকি দেয়ার ক্ষমতা আমার নেই।

তিনি আমার বুকের মধ্যে অবস্থান করেই আমার প্রতিটি কথা ও কাজ অবলোকন করছেন। এভাবে আমাদের ইমানের পরীক্ষা হয়ে যায়। আমার বিবেক সচকিত হয়ে উঠে, আত্মা জিন্দা হয়ে যায়। এভাবে এক মাসের সিয়াম সাধনার অগ্নি পরীক্ষার ভেতর দিয়ে আল্লাহর অস্তি ও ত্বকে বাস্তব ও সত্য করে তোলে মানুষের জীবনে পবিত্র মাস মাহে রমজান।

রমজান মাসে অনেক হালাল বস্তুকে অস্থায়ীভাবে দিনের বেলা রোজাদারের জন্য হারাম ঘোষণা করেছেন। যাতে এর দ্বারা স্থায়ী হারাম বস্তু যা সারা বছরের জন্য হারাম করা হয়েছে। রমজান মাসে তার থেকে বাঁচার শিক্ষা অর্জন হয়।

রমজানে অস্থায়ী হারামকে ছেড়ে আমরা স্থায়ী হারাম পরিত্যাগ করার শিক্ষা অর্জন করতে হবে। আমরা আমাদের পরিবারবর্গকে এটাই উদ্বুদ্ধ করব যে, এই এক মাসে আমাদের পরিবারবর্গকে তথা দেশ ও জাতিকে সর্বপ্রকার নাফরমানির কাজ থেকে বাঁচাতে হবে।

সকল পাপ কর্ম থেকে বাঁচার জন্য মুসলিম উম্মাহকে উৎসাহিত করতে হবে। রমজানের দিবসগুলো কিভাবে কাটাবেন? কোন সময় যেন কোন পাপ কর্ম না হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। সুতরাং সকল দিক বিবেচনায় রমজানে বেশি বেশি করে কোরআন তেলাওয়াত করা, তাহাজ্জুদ পড়ার চেষ্টা করা।

বেশি বেশি করে কালেমায়ে তাইয়্যিবা পড়ব এবং আল্লাহর দরবারে জান্নাতের প্রার্থনা করব এবং দোজখ থেকে পানাহ চাইব। ইসলামে সিয়াম শুধু কতগুলো নিষেধাজ্ঞার সমষ্টি নয় যে, মানুষ পানাহার করবে না, জৈবিক চাহিদা পূরণ করবে না, পরনিন্দা করবে না, সন্ত্রাসী কার্যকলাপে লিপ্ত হবে না।

বরং এরই সঙ্গে আদেশাবলি নিহিত, যেমন- রমজান মাস হলো ইবাদত, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, তাসবিহ ও পারস্পরিক সহানূভূতি সংবেদনশীলতার বসন্তকাল।

 





ads






Loading...