আত্মসংযমের মাস রমজান

আত্মসংযমের মাস রমজান - ফাইল ছবি

poisha bazar

  • মাওলানা এম. এ. করিম ইবনে মছব্বির
  • ১৪ মে ২০২০, ০০:১৭,  আপডেট: ১৪ মে ২০২০, ০৮:৫৩

আজ বিশতম রমজান। মাগফিরাতের দশটি দিবস অতিবাহিত হতে চলেছে। আত্মসংযম প্রদর্শনের মাস রমজান। নবী করীম (সা.) বলেন যে, ইহা ধৈর্যধারণ ও আত্মসংযমের মাস প্রতিফল নিশ্চিতভাবে জান্নাত।

মাহে রমজানের রোজা নফসের কামনা বাসনাকে নিয়ন্ত্রিত করে। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছে রোজা তাকে সম্বোধন করে বলে যে, আল্লাহপাক রাব্বুল আলামীন আজ সারা দিনের জন্য খানা-পিনা তোমার উপর হারাম করেছেন।

এ সময় হালাল উপার্জিত খাদ্য এবং পানীয় তোমার জন্য জায়েজ নয়। রোজা বলে আজ তোমার মালিক তোমার যৌন ক্ষুধার উপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন। অতএব এ সময়ের মধ্যে তোমার বৈধ স্ত্রীর সাথে সহমিলনকে হারাম ঘোষণা করেছেন।

রোজা আরো বলে যে, সারা দিনের দুঃসহ ক্ষুধা পিপাসার পর যখন তুমি ইফতার করবে তখন তুমি পরিশ্রান্ত হয়ে আরাম করার পরিবর্তে উল্টো এবং বছরের অন্যান্য দিনের চাইতেও বেশি বেশি ইবাদত কর।

রোজা আমাদেরকে এটাও শিক্ষা দেয় যে, দীর্ঘস্থায়ী নামাজ আদায়ের পর যখন বিশ্রাম করতে যাবে তখন সকাল পর্যন্ত বেহুঁশ হয়ে ঘুমিয়ে থাকবেন না। শেষ রাতে উঠে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় কর, ছুবহে ছাদিকের পূর্বে সাহরি খেয়ে দেহকে শক্তিশালী কর, আরেকটি পূর্ণ দিবসে দাসত্ব করার মুক্ত জীবনের ট্রেনিং তোমাকে গ্রহণ করতে হবে।

এভাবে পুরো একমাস ক্রমাগত নফসের তিনটি সবচেয়ে বড় এবং সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী দাবি ও লোভ-লালসাকে একটি কঠিন নিয়মের বাঁধনে আবদ্ধ করে রাখা হয়। ইহার ফলে ব্যক্তি স্বত্বার মধ্যে এক বিরাট শক্তি যুক্ত হয়, যা নফস ও দেহের উপর শাসন ক্ষমতা চালাতে সক্ষম হয়, সারা জীবনে শুধু একবারের জন্য এ ট্রেনিং ব্যবস্থা করা হয় নাই।

বরং বালক হওয়ার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিবছর দীর্ঘ এক মাস এ কাজে ব্যয় হয়। কু-প্রবৃত্তির উপর আপন ব্যক্তিত্বের বাঁধন বছরে বছরে নবায়িত ও শক্ত হয়। ফলে আল্লাহর নির্ধারিত প্রতিটি কাজে সে তার দেহ ও যাবতীয় শক্তি নিযুক্ত করতে পারে।

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয় এমন সব ভালো কাজের চেষ্টা সে করতে পারে। আল্লাহর নিষিদ্ধ প্রত্যেকটি পাপ কর্ম রুখে দাঁড়াতে পারে এবং যাবতীয় লোভ লালসা, আবেগ উচ্ছ্বাসকে আল্লাহর নির্ধারিত সীমার মধ্যে আবদ্ধ রাখতে পারে। সে নিজের লাগাম নফসের হাতে ছেড়ে দেয় না, তাই নফস তাকে যে দিকে ইচ্ছা সে দিকে টেনে নিতে পারে না।

নফসের যে সব লালসা যে সময় যতখানি এবং যেভাবে পূর্ণ করার অনুমতি আল্লাহপাক দিয়েছেন, সে তা নিয়ম অনুসারেই পূর্ণ করে। সে নিজ দেহ রাজ্যের উপর এক শক্তিশালী শাসনকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। বস্তুত মানুষের মধ্যে এ শক্তি সৃষ্টি করা রোজার মূল উদ্দেশ্য।

তা অর্জিত না হলে নবী কারীম (সা.) বলেছেন যে, শুধু খানা-পিনা পরিত্যাগের মধ্যে আল্লাহর কোনো আবশ্যকতা নেই। আর এ জন্য বলা হয়েছে রোজা আত্মসংযমের মাস। আর এ আত্মসংযম অর্জনের অনিবার্য ফলশ্রুতি হচ্ছে বেহেশত। আর এ জন্য রোজাদারের উপর আল্লাহপাক এত খুশি হয়ে থাকেন যেন রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধ তার নিকট মৃগনাভীর সুগন্ধির চেয়েও উত্তম।

মানবকণ্ঠ/এমএইচ





ads






Loading...