হজ পালনরত অবস্থায় মৃত্যু


poisha bazar

  • মাহমুদ সালেহীন খান
  • ০৭ জুলাই ২০১৯, ১১:৩৪

প্রতি বছরই হজের সময় সৌদি আরবের মক্কা বা মদিনায় অবস্থানকালে অনেক হজযাত্রী মারা যায়। নিয়ম অনুযায়ী হজ করতে যাওয়া কোনো হজযাত্রী মারা গেলে তার লাশ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয় না। এ সংক্রান্ত একটি ঘোষণাপত্র প্রত্যেক হাজিকে হজের ক্রস্ততিকালেই দিতে হয়। মক্কায় মারা গেলে মক্কায় এবং মদিনায় মারা গেলে মদিনায় দাফন করা হয়।

জান্নাতুল মোয়াল্লা মসজিদুল হারামের পূর্ব দিকে অবস্থিত মক্কা শরিফের একটি বিখ্যাত কবরস্থান। এই কবরস্থানের কোনো কবর বাঁধানো নয়, নেই কোনো কবরে নামফলক। এখানে অনেক সাহাবির কবর আছে। আছে নবী করিম (সা.)-এর স্ত্রীদের কবর। আগে হজ করতে এসে কেউ মক্কায় মারা গেলে এখানে কবর দেয়া হতো। স্থান সংকুলান না হওয়ায় এখন ভিন্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়।

আর কেউ মদিনায় মারা গেলে তাকে ‘জান্নাতুল বাকী’ নামক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এই কবরস্থানটি মসজিদে নববীর সন্নিকটে পূর্ব দিকে অবস্থিত। এখানে অনেক সাহাবি, নবী (সা.) এর পরিবারের অনেক সদস্যদের কবর রয়েছে।

বস্তুত মৃত্যুর জন্য প্রত্যেক হজযাত্রী মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকেন এবং ইহরামের কাপড় পরিধান করে এর স্বীকৃতিও দিয়ে থাকেন। এভাবে হজের সফরে বেরিয়ে মারা গেলে তার আমলনামায় হজের সওয়াব লেখা হয়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি হজের উদ্দেশ্যে বের হয়েছে; অতঃপর সে মারা গেছে, তার জন্য কিয়ামত পর্যন্ত হজের নেকি লেখা হতে থাকবে। আর যে ব্যক্তি ওমরার উদ্দেশে বের হয়েছে; অতঃপর সে মারা গেছে, তার জন্য কিয়ামত পর্যন্ত ওমরার নেকি লেখা হতে থাকবে।’Ñ(তারগিব ওয়াত তারহিব: ১১১৪ )

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। জনৈক মুহরিম (হজের জন্য ইহরাম পরিধানরত) ব্যক্তিকে তার সওয়ারি ভ‚পাতিত করলে তার মৃত্যু হয়। তখন হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমরা তাকে বরই পাতার পানি দ্বারা গোসল দাও এবং তার দুটি কাপড়েই (ইহরামের দুই কাপড়) তাকে কাফন পরাও। তবে তার মাথা ও চেহারা ঢেকো না। কেননা, কিয়ামত দিবসে সে তালবিয়া পাঠ করা অবস্থায় উত্থিত হবে। (সহিহ মুসলিম: ১২০৬)।

আল্লাহ প্রেমের চ‚ড়ান্ত উš§াদনার প্রতিফলন ঘটে হজে। বান্দা যেমন আল্লাহর ভালোবাসায় আল্লাহর পবিত্র আঙিনায় মেহমান হিসেবে হাজির হয়, তেমনি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনও তার বান্দাকে ক্ষমা ও জান্নাতের পুরস্কারের মাধ্যমে সমাদর করেন। মক্কা অথবা মদিনায় মৃত্যুবরণ করা হাজীদের কাছে বরাবরই মর্যাদার বিষয় হিসেবে বিবেচিত। সব ধরনের শিরক থেকে মুক্ত নেককার কোনো বান্দা যদি পবিত্র দুই নগরীর (মক্কা ও মাদিনা) কোনো একটিতে মৃত্যুবরণ করেন, তাহলে তা হবে অতিরিক্ত মর্যাদার বিষয়।

তিনি জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবেন। তার হাশর হবে জান্নাতি মানুষ হিসেবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মক্কা অথবা মদিনায় মৃত্যুবরণ করে, সে (জাহান্নাম থেকে) মুক্তি লাভ করে হাশরের ময়দানে উঠবে।’ (বায়হাকি, শুয়াবুল ইমান: ৩/৪৯০)।

একজন মানুষ হজ থেকে ফিরে এলে যেমন নিষ্পাপ হয়ে ফিরেন, তেমনি হজে গিয়ে মৃত্যুবরণ করলেও তা সৌভাগ্যের মৃত্যু। সৌভাগ্যের দরজাগুলো খুলে যায় হাজীর জন্য। এমনকি সেই মৃত্যু যদি কোনো দুর্ঘটনামুক্ত স্বাভাবিক মৃত্যু হয়, তবুও হজের সফরের সেই মৃত্যু ফজিলতের। কখনো কখনো হজের সফরের মৃত্যু সরাসরি শহীদি মৃত্যুতে পরিণত হয়। ক্রেন ধস অথবা অগ্নিকাণ্ডের মতো কোনো দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে তা শহীদি মৃত্যু বলে গণ্য হবে।

মানবকণ্ঠ/এআইএস




Loading...
ads




Loading...