ইতেকাফের মাসায়েল


poisha bazar

  • মাসউদুল কাদির
  • ২৭ মে ২০১৯, ১১:১০,  আপডেট: ২৭ মে ২০১৯, ১৬:০৪

মনগড়া বা মনমতো যাচ্ছেতাই পদ্ধতিতে ইতেকাফ করা যাবে না। নিয়ম মানতে হবে। ইতেকাফের রুকন হলো মসজিদে অবস্থান করা। ইতেকাফের প্রধান শর্ত দুটি। এক. আবাদ মসজিদে অবস্থান করা। দুই. ইতেকাফের নিয়তে মসজিদে অবস্থান করা। বিশুদ্ধ নিয়ত করতে হবে। ইতেকাফের আমল নিয়ত না করলে কোনোভাবেই বিশুদ্ধ হবে না। বুখারি শরিফে তো প্রথম হাদিসই আনা হয়েছে নিয়তের ওপর। ইন্নামাল আ’মালু বিন নিয়্যাত। প্রত্যেক কাজই নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। [বুখারি শরিফ]

এ ছাড়া যে কোনো মসজিদে ইতেকাফ করলেই হবে না। জামাত অনুষ্ঠিত হয় এমন মসজিদে ইতেকাফ করতে হবে। রোজা আর ইতেকাফ উভয়টি যৌথ এক ইবাদত। একটা ছাড়া আরেকটা হবে না। ইতেকাফের আমল করতে হলে রোজা অবস্থায় থাকতে হবে। মাথা ঠিক নেই, পাগল ব্যক্তি ইতেকাফ করতে পারবে না। কারণ পাগল তো পরিবেশ নষ্ট করবে। তা ছাড়া তার রোজারও কোনো ঠিক ঠিকানা থাকে না। ইতেকাফের পূর্ণ সওয়াব পাওয়ার জন্য ব্যক্তিকে প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে। আর নারীর হায়েস ও নেফাসমুক্ত থেকে পবিত্র হতে হবে। নারী মসজিদে ইতেকাফ করবে না। নারীর ইতেকাফের জায়গা হলো ঘরের অভ্যন্তরে নিবিড় প্রকোষ্ঠে। যেখানে সচরাচর মানুষের যাতায়াত কম থাকে।

ইতেকাফ সাধারণত তিন প্রকার। ওয়াজিব, সুন্নতে মুয়াক্কাদা ও মুস্তাহাব। ওয়াজিব ইতেকাফের জন্য রোজা শর্ত। জাহের বর্ণনানুযায়ী নফল ইতেকাফকারির জন্য রোজা শর্ত নয়। কিন্তু ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর মতে, নফল ইতেকাফকারির জন্যও রোজা রাখা শর্ত। কেউ যদি মান্নত করে রোযা ছাড়া এক মাস ইতেকাফ করবে, তাহলে তার রোজা ছাড়াই এক মাস ইতেকাফ করা ওয়াজিব। আর কেউ রমজান মাসে ইতেকাফের মান্নত করে তা হলে ভিন্নভাবে কোনো রোজা নেই। তবে রমজান ছাড়া এই মান্নত পালন করলে তখন রোজাসহ ইতেকাফ করতে হবে। আর স্ত্রী অথবা ক্রীতদাস-দাসী ইতেকাফের মান্নত করলে স্বামী অথবা মনিব তা নিষেধ করার ক্ষমতা রাখেন।

সুন্নাতে মোয়াক্কাদার ইতেকাফ হলো, রমজানের শেষ দশকের ইতেকাফ। আদদুররুল মুখতার কিতাবে এটিকে সুন্নাতে মুয়াক্কাদায়ে কেফায়াও বলা হয়েছে। তবে রোজা ছাড়া রমজানের শেষ দশকের ইতেকাফ করা যায় না। আর নফল ইতেকাফের জন্য সুনির্দিষ্ট সময় যেমন নেই তেমনি রোজাও শর্ত নয়। আল্লাহ তায়ালা আমাদের নিয়মনীতি মেনে ইতেকাফ করার তাওফিক দিন। আমীন

মানবকণ্ঠ/এসএস




Loading...
ads




Loading...