একাধিক ডিগ্রিধারী ব্যাংক কর্মকর্তা, উচ্চভিলাষী আজরা’র বসবাস এখন ফুটপাতে (ভিডিও)


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২২ জুলাই ২০২২, ১৮:৫৩,  আপডেট: ২২ জুলাই ২০২২, ১৮:৫৯

আজরা পাকিস্তানের লাহোরের অধিবাসী ছিলেন। তিনি (BCCI) ব্যাংক, Bank of credit and commerce international (স্থাপিত-১৯৭২) লন্ডন শাখার অত্যন্ত বিচক্ষণ ও চৌকস মহিলা অফিসার ছিলেন। তৎকালে তার মত শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন নারী ব্যাংক অফিসার খুবই কম ছিল এবং BCCI ব্যাংকও সারা বিশ্বে সেরা ব্যাংক হিসেবে গন্য হতো।

তিনি মোট ৯টি বিষয়ে এম.এ করেছিলেন।

সেগুলো হলো- ১. জিওগ্রাফিয়া ২. চাইনিজ ৩. সাইক্লোজি ৪. জার্নালিজম ৫. ইংলিশ ৬. উর্দু ৭. আরবি ৮. ফারশিয়ান ৯. ইসলামিয়া।

আজরা লন্ডন থেকে Banking এর উপরে ৪ বছরের কোর্সও করে ছিলেন। Qualification ও Banking এর কাজের ব্যস্ততার করনে তিনি বিয়ে পর্যন্ত করেননি।

তার আলাপচারিতা শুনে জানা যায, তার নানা পাকিস্তানের প্রথম ব্রিগেডিয়ার ছিলেন। মা ছিলেন করাচি ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর। পাকিস্তানের অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিত্বদের সাথে তার হৃদ্যতা-সখ্যতা ছিল যেমন ইমরান খাঁন (সাবেক ক্রিকেটার/পি.এম), নেওয়াজ শরীফ (পি.এম), শাহবাজ শরীফ, মরিয়ম নেওয়াজ, আব্দুর রশিদ খাঁন প্রমুখ।

আজরার এক সময় পাওয়ার, ক্ষমতা, দাম্ভিকতা ছিল আকাশচুম্বি। বে-নজির ভুট্টু করাচিতে একটি মেডিকেল করবেন বলে (BCCI) ব্যাংক লন্ডন শাখাতে লোনের জন্য আবেদন করেন ব্যাংকার হিসেবে তার ক্ষমতা বলে তিনি তাকেও Refuge করে দেন।

তিনি মারাত্মক উচ্চভিলাষী জীবন যাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। একদিনেই লন্ডন থেকে উড়োজাহাজে করে করাচিতে আসেন এবং লাঞ্চ সেরে পুন:রায় লন্ডনে চলে যান এমন নজিরও আছে।

আজরা অনেক দেশ ঘুরে বেড়িয়েছেন- অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, সৌদি-আরব, কানাডা, টরেন্ডো আমেরিকা ইত্যাদি। এক সময় তার টাকা-পয়সা, ধন-দৌলত, বাড়ি-গাড়ি, শান-জৌলসের কোন কমতি ছিল না। ১৯৮০-তে লাখ টাকার স্যান্ডেল পড়তেন এখন ৫০/৬০ টাকা দামের প্লাষ্টিকের সেন্ডেল পরেন তিনি।

লন্ডনের জায়গার নামসহ উল্লেখ করে বলেন, তার জায়গা সম্পত্তিরও কমতি ছিল না। লন্ডনে ৩টি ফার্ম-হাউস, ২টি কুঠির ও তিনটি ফ্ল্যাট বাড়ি ছিল। কিন্তু আজ কিছুই নেই পথের ভিখারী, একদম নিঃস্ব।

আজরা একা পাকিস্তানের লাহোরের রাস্তার পাশে ছোট একটি পুরাতন অকেজো গাড়িতে অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

একসময় যাকে প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হকের বাড়িতে ডিনারে গেস্ট হিসেবে দেখা যেতো, আজ তিনি মানুষের উচ্ছিষ্ট খেয়ে জীবন যাপন করেন। অনেক সময় কেউ খাবার না দিলে না খেয়েও থাকতে হয়।

১৯৯১ সালে তৎকালে ইহুদিরা আন্দোলন করে লন্ডনের ও যুক্তরাজ্যের (BCCI) ব্যাংকের সকল শাখা বন্ধ করে দেয়। ব্যাংকের সকল কর্মকর্তাদের টাকা-পয়সা গচ্ছিত জামানত, অলংকার, গাড়ি-বাড়িসহ সকল সম্পত্তি বাজায়াপ্ত ঘোষণা করা হয়। তারা দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হোন। এতে তিনি নিঃস্ব-শূন্য হাতে পাকিস্তানি ফিরে আসেন। রাজকীয় জীবনের সমাপ্ত ঘটে এবং শুরু হয় দারিদ্রতার কষাঘাতে জর্জরিত জীবনের।


poisha bazar