সাঁতারু ডলি এখন মেতেছেন ভলিবলে


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৬ জুলাই ২০২১, ১৭:০৯

ডলি আক্তার। সাঁতারু হিসেবেই যার বড় পরিচয়। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা মিলে যার গলায় উঠেছে দুই শতাধিক পদক। দেশের হয়ে তিন তিনটি অলিম্পিক গেমসে অংশ নিয়েছেন রাজবাড়ীর এ জলকন্যা। ২০০০ সালে সিডনি, ২০০৪ সালে এথেন্স ও ২০০৮ সালে বেইজিং অলিম্পিকে সাঁতারে অংশ নেয়া ডলি বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। অন্যান্য খেলায়ও পারদর্শী। এর মধ্যে সাঁতারের পরই ডলির প্রিয় খেলা ভলিবল। সেই ভলিবলই এখন মাতাচ্ছেন সাঁতারু ডলি।

নতুন পরিচয়েও বেশ স্বাচ্ছন্দ্য রাজবাড়ীর এই মেয়ের, ‘সাঁতারু ডলিই আমার মূল পরিচয়। সাঁতার আমার ধ্যান জ্ঞান ছিল। আর ভলিবল নেশা। সাঁতারের পাশাপাশি আমি ভলিবল খেলতাম। ২০১৬ সালের দিকে সাঁতার ছাড়ার পর পুরোপুরি ভলিবলে সময় দিচ্ছি।’

ভলিবলে জাতীয় দলেও খেলেছেন ইতোমধ্যে। ২০১৯ কাঠমান্ডু সাফে বাংলাদেশ ভলিবল দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সত্তর আশির দশকে আব্দুস সাদেক, কাওসার আলী, প্রতাপ শঙ্কর হাজরারা ফুটবল হকি দুটোতেই দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। হাল আমলে পুরুষদের উভয় ডিসিপ্লিনে অংশগ্রহণ কম হলেও কয়েকজন নারী ক্রীড়াবিদ রয়েছেন যারা দুটো ডিসিপ্লিনে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

বছর পাঁচেক আগে সাঁতারকে বিদায় জানালেও ডলির সাঁতারের কীর্তি শুধু সাঁতারেই বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে দিয়েছে বিশেষ স্থান। তিনি তিনবার অলিম্পিক খেললেও দেশের পতাকা বহনের সুযোগ পাননি। ২০১২ লন্ডন গেমসে সাঁতারু মাহফিজুর রহমান সাগর অবশ্য পতাকা বহনের গৌরব অর্জন করেন।

অলিম্পিকে অংশ নেয়া ছাড়াও সাফে রয়েছে একাধিক পদক। জাতীয় পর্যায়ে রয়েছে অসংখ্য রেকর্ড। ক্রীড়াঙ্গনের অনেকের ধারণা কিছুটা অভিমানেই সাঁতার ছেড়েছেন ডলি। তবে তার কন্ঠে কোনো অভিমান আক্ষেপ শোনা গেল না, ‘সাফে স্বর্ণ পাইনি। এটা একটু অপূর্ণতা রয়েছে। সাঁতার আমাকে অনেক দিয়েছে। অলিম্পিকে তিন বার অংশগ্রহণ যেমন রেকর্ড, তেমনি ৮ম বাংলাদেশ গেমসে রেকর্ড সহ নয় স্বর্ণ জয়ের কৃতিত্ব এখনো আমার দখলে।’

বয়স চল্লিশের কাছাকাছি হলেও ভলিবল ভালোই উপভোগ করছেন। আরো কয়েক বছর ভলিবল খেলতে চান, ‘এখনো ফিট ও ফর্মে রয়েছি। যত দিন পারি খেলে যাব।’ দুই-তিন বছরের বেশি সময় ভলিবলে খেলা কঠিন হবে ডলির জন্য।

ভলিবল ছাড়ার পর সাঁতার ও ভলিবল দুটো নিয়েই কাজ করতে চান এই ক্রীড়াবিদ, ‘সাঁতার আমার ভালোবাসার জায়গা। সেখানে অবশ্যই কাজ করতে চাই। পাশাপাশি ভলিবলেও সময় দিতে চাই।’ সাবেক জাতীয় সাঁতারু নিবেদিতা দাস অবশ্য তার সামনে উদাহরণ। নিবেদিতা সাঁতার ফেডারেশনেও আছেন আবার ভলিবলে মহিলা টুর্নামেন্ট কমিটির সম্পাদক।

সাঁতার ছেড়ে ভলিবলে মনোযোগ দিলেও এখনো নিজের সংসার শুরু করেননি ডলি। ভলিবল ক্যারিয়ার শেষ করেই এ নিয়ে ভাবতে চান, ‘এখনো খেলার মধ্যেই আছি। খেলোয়াড়ী জীবন শেষ করেই এটা নিয়ে ভাবব।’



poisha bazar

ads
ads