আওয়ামী লীগ-বিএনপিতে বাড়ছে ভোটের ব্যবধান


  • জাহাঙ্গীর কিরণ
  • ০৯ মার্চ ২০২১, ১৫:৫৭

প্রতিনিয়ত আওয়ামী লীগ-বিএনপিতে ভোটের ব্যবধান বাড়ছে। এ অবস্থায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অনেকটাই ক্ষমতাসনীন আওয়ামী লীগ ও তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির অবস্থান পাকাপোক্ত হয়ে গেছে। প্রত্যেক ভোটে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ আনা বিএনপির থেকে সিট কিংবা আসন প্রাপ্তিতে বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।

সর্বশেষ অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকারের অন্যতম প্রতিষ্ঠান পৌরসভার নির্বাচনে দুই দলের মাঠের অবস্থানের এমন চিত্র অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পাঁচটি ধাপের ফলাফল বিশ্লেষণে আসনের দিক থেকে বিএনপির চেয়ে ১৭ গুণ বেশি পেয়েছে আওয়ামী লীগ। অথচ ভোটের দিক থেকে এ ব্যবধান মাত্র আড়াই গুণের একটু বেশি। যদিও গত নির্বাচনের চেয়ে এবার বিএনপির প্রাপ্ত ভোট ৬ শতাংশ কমেছে। তবে এবারের ভোটে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের অনেকেই জামানত খুইয়েছেন। জামানত হারানোতে সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছে বিএনপির।

ইসি সূত্র জানায়, চলমান পৌরসভা নির্বাচনের শেষ ধাপের ভোট আগামী ১১ এপ্রিল হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পাঁচটি ধাপে দেশের ২৩০টি পৌরসভার ভোটে ১৮৫টি পৌরসভায় মেয়র পদে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। আর প্রতিদ্ব›দ্বী বিএনপি প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন মাত্র ১১টি পৌরসভায়। এছাড়া জাতীয় পার্টি ও জাসদ একটি করে পৌরসভা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন ৩২টি পৌরসভায়। এ হিসেবে বিএনপির চেয়ে ১৯ গুণ বেশি সিট পেয়েছে আওয়ামী লীগ।

তথ্যানুযায়ী, পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত ২৩০টি পৌরসভার ভোটে কাস্টিংকৃত গড় ভোটের হার ৬৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এসব পৌরসভায় ৭৭ লাখ ২৪ হাজার ৮৯৭ ভোটারের মধ্যে ৪৯ লাখ ৭২ হাজার ৯৬৭ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এই কাস্টিং ভোটের ৫৯ দশমিক ৯২ শতাংশ পেয়েছে ক্ষমতাসীনরা। নৌকা প্রতীকে তাদের মোট প্রাপ্ত ভোটের পরিমাণ ২৯ লাখ ৭৯ হাজার ৮২৫ ভোট।

অপরদিকে নানা কারণে বিভিন্ন পৌরসভায় নির্বাচন বর্জন করে ভোটের মাঠ থেকে সরে আসা বিএনপির প্রাপ্ত ভোট ১০ লাখ ৪৬ হাজার ৩৬ ভোট। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরা কাস্টিং ভোটের মধ্যে ৯ লাখ ৪৭ হাজার ১০৬ ভোট পেয়েছে। এহিসেবে আওয়ামী লীগ প্রতিদ্ব›দ্বী বিএনপির চেয়ে ২ দশমিক ৮৫ শতাংশ ভোট বেশি পেয়েছে।

এবার ১০৩টি পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী জামানত হারিয়েছে। অপরদিকে নৌকার প্রার্থীরা জামানত হারিয়েছেন তিনটি পৌরসভায়। ২০১৫ সালের ভোটে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২ জন এবং বিএনপির ৩৫ জন মেয়র প্রার্থী জামানত হারান। নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের ১ ভাগ ভোট না পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।

দলীয় ভিত্তিতে প্রথম অনুষ্ঠিত ২০১৫ সালের পৌরসভা নির্বাচনের ফলাফলেও ভোটের চেয়ে সিটের হিসেবে অনেকগুণ বেশি এগিয়েছিল আওয়ামী লীগ। ওই বছরের ৩০ ডিসেম্বর থেকে ২০১৬ সালের ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ২৩৫টি পৌরসভায় আওয়ামী লীগ ভোট পেয়েছিল ৫৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ। বিএনপির ভোটের হার ছিল ২৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ। মেয়র পদে আওয়ামী লীগ ১৮২টিতে এবং বিএনপি ২৪টিতে বিজয়ী হয়েছিল। এছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে একজন এবং স্বতন্ত্র ২৮ জন মেয়র পদে নির্বাচিত হন।

পৌর ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ: এবার অনুষ্ঠিত ২৩৫টি পৌরসভার মধ্যে গতবারের চেয়ে আওয়ামী লীগ মেয়র পদে তিনটি পৌরসভায় বেশি জয় পেয়েছে। অপরদিকে বিএনপির জয়ের সংখ্যা নেমে এসেছে অর্ধেকে। গতবার ২৪টিতে জিতলেও এবার জিতেছে ১১টিতে। প্রথম ধাপের ভোটে মেয়র পদের ২৪টির মধ্যে ১৯টিতেই বিজয়ী হয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। কাস্টিং হওয়া মোট ভোটের ৬৪ দশমিক ০৬ শতাংশ ভোট পেয়েছেন দলটির প্রার্থীরা।

অপরদিকে বিএনপির প্রার্থীরা পেয়েছেন ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ ভোট। দুটিতে বিজয়ী হয়েছেন তারা। আর ১২টিতে জামানত হারিয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। এ ছাড়া তিনটিতে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। ২৪টি পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের পাওয়া ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৬১ হাজার ২৫১টি। অপরদিকে এসব পৌরসভায় বিএনপি প্রার্থীদের পাওয়া ভোটের সংখ্যা ৫৪ হাজার ৩৯৯টি।

দ্বিতীয় ধাপের ভোটে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ৪৫টিতে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। অপরদিকে বিএনপি থেকে নির্বাচিত হন মাত্র চারজন। এ ধাপে ১২ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৬ জন ভোট দিয়েছেন। এরমধ্যে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে ভোট পড়েছে ৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬১২টি; যা প্রদত্ত ভোটের ৬০ দশমিক ০৩ শতাংশ। অপরদিকে বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা পেয়েছেন ২ লাখ ৩১ হাজার ৯৮২টি, যা প্রদত্ত ভোটের ১৭ দশমিক ৯১ শতাংশ।

তৃতীয় ধাপে ৬১টি পৌরসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা পেয়েছেন ৮ লাখ ৩১ হাজার ৩৬৯ ভোট। যা মেয়র পদে পড়া ভোটের ৬১ দশমিক ৮৫ শতাংশ। দলটির দুজন মেয়র প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থীরা পেয়েছেন ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৯১১ ভোট; যা প্রদত্ত ভোটের ২৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ। জামানত হারিয়েছেন ২৭ জন প্রার্থী।

চতুর্থ ধাপে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা পেয়েছেন ৬ লাখ ৭ হাজার ৬১৮ ভোট। যা প্রদত্ত ভোটের ৫৭ দশমিক ৬২ শতাংশ। অপরদিকে বিএনপির প্রার্থীরা পেয়েছেন এক লাখ ৭৩ হাজার ৩৭৮ ভোট। যা প্রদত্ত ভোটের ১৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এ নির্বাচনে বিএনপির ২৩ জন মেয়র প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছেন।

সর্বশেষ পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে কাস্টিং হওয়া ৮ লাখ ৭১ হাজার ৭৭৩ ভোটের মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৫ লাখ এক হাজার ৯৭৫ ভোট। যা প্রদত্ত ভোটের ৫৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ। অপরদিকে বিএনপি পেয়েছে এক লাখ ৮৬ হাজার ৩৬৬ ভোট। যা প্রদত্ত ভোটের ২১ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

 


poisha bazar

ads
ads