সয়াবিন তেলের দামে নৈরাজ্য


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৬ জানুয়ারি ২০২১, ১১:১৭

বাজারে নিত্যপণ্য চাল, তেলের দাম কমেনি। বরং প্রতিনিয়ত দাম বেড়েই চলছে। আমদানিকারকরা দফায় দফায় দাম বাড়াচ্ছেন বলে খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে গত ১০ দিনে সয়াবিন তেলের দাম কেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে ১৩০ টাকায় অবস্থান করছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। পাম তেলও প্রতি কেজি ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নাভিশ্বাস উঠেছে।

এদিকে শীত মৌসুমে বাজারে যে শীতের শাক-সবজি উঠেছে তাতে দাম অনেক কমার কথা। কিন্তু বিগত বছরের ন্যায় এবার সবজির দাম তেমন একটা কমেনি। মাত্র দু-একটি সবজির দাম কমেছে। তবে বেশিরভাগ শীতকালীন সবজি ২০-৩০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, মুলা, শালগমের সরবরাহ বেড়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোঁজ-খবর নিতে গেলে খুচরা বিক্রেতারা জানান, বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধির কথা বলে আমদানিকারকরা দফায় দফায় দাম বাড়াচ্ছেন। তাই বাধ্য হয়ে বাড়তি দামে তেল বিক্রি করতে হচ্ছে। চালের বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসার কথা বললেও পারতপক্ষে বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের দাবি চালের দাম গত কয়েকদিনের তুলনায় কমেছে। সামনে আরো কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে ক্রেতারা বলছেন, যে হারে চালের দাম বেড়েছিল ঠিক সে হারে কমছে না। নানা পর্যায়ে বাজার পর্যালোচনা করে দেখা গেছে. এই মুহূর্তে সয়াবিন তেল ও চাল ক্রেতাদের নাভিশ্বাস আরো ভারী করে তুলছে। শুক্রবার নগরীর বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, কারওয়ানবাজারে খোলা সয়াবিন তেল প্রতিকেজি ১৩০ টাকায় ও পাম তেল ১১২ টাকায় বিক্রি করছে।

খোলা তেলের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বোতলজাত সয়াবিন তেলেরও। তীর ও বসুন্ধরা ব্র্যান্ডের পাঁচ লিটার সয়াবিন তেলের বোতলের গায়ে খুচরা দাম লেখা হয়েছে ৬৩০ টাকা। কারওয়ানবাজারে এই তেল ৫৮০ টাকায় বিক্রি হলেও পাড়া-মহল্লায় ৬৩০ টাকায়ই বিক্রি হচ্ছে। এসব ব্র্যান্ডের দুই লিটারের বোতলের খুচরা মূল্য ২৫২ টাকা।

সরকার দেশের বাজার নিয়ন্ত্রণে ভারত থেকে বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির সুযোগ করে দিলেও এখনো বাজারে ভারতীয় চালের উপস্থিতি দেখা যায়নি। তবে আমদানির খবরে চালের দাম বস্তায় ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে কমেছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

একাধিক চালের আড়তদার বলেন, ভারতীয় চাল দেখা যায়নি। কোনো আমদানিকারকও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। ‘রশিদ মিনিকেটের বস্তা ২৯৫০ টাকায় নেমেছে, একইভাবে পাইজাম চালের বস্তা ২৪০০ টাকা হয়েছে। ডলফিন, মোজাম্মেল, জোড়া কবুতরসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের চালের দাম একই হারে কমেছে। গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরে চালের বাজার অস্থির ছিল।’

কারওয়ানবাজারে চাল বিক্রেতা আবু রায়হান জগলু বলেন, ‘ভারতীয় চাল বাজারে আসলে দাম কমবে, এই আশায় নতুন করে দেশি চাল তুলছি না। ১০ জানুয়ারির মধ্যে আমদানি করা চাল আসার কথা শুনলেও এখনো কোনো খবর নেই।’

বেশি দাম পাওয়ার আশায় ভারতীয় চালের বস্তা বদলে দেশি চাল হিসেবে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এমন শঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। তবে সে ধরনের কোনো কিছু এখনো হয়েছে বলে মনে হয় না। এমনটি হলে আমরা চাল দেখেই চিনতে পারব। যেহেতু চাল আসতে দেরি হচ্ছে তাই প্রশাসনকে এখনই এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’

দেশে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি শুল্ক ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করে বেশ কিছু শর্তসাপেক্ষে আমদানির সুযোগ করে দিয়েছে সরকার। বেসরকারি পর্যায়ে গত ৬ জানুয়ারি থেকে তিন ধাপে ১৮৫টি প্রতিষ্ঠানকে চার লাখ ৮৭ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি দেয়া হয়। সরকারিভাবেও ৩৪ টাকা কেজি দরে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টন চাল আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। চাল আমদানি ও বিপণন পর্যবেক্ষণ করতে একটি মনিটরিং সেলও গঠন করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, সরু মিনিকেট চাল ৬০-৬২ টাকা, নাজিরশাইল ৬০-৬২ টাকা, বিআর-২৮ চাল ৫৩-৫৪ টাকা এবং মোটা গুটি স্বর্ণা চাল মানভেদে ৪৮-৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। বাবুবাজারের চাল ব্যবসায়ী কাওসার রহমান বলেন, আমদানির চাল আসা শুরু হলে দাম আরো কমবে। এমন মনোভাবের কারণে বেচাকেনা কমে গেছে। ফলে দামও সামান্য কমেছে।

বাদামতলী ও বাবু বাজার চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন বলেন, চালের দাম আরো কমবে। আমদানি হওয়া চাল বাজারকে শান্ত করতে সহায়তা করবে। সরবরাহ বাড়লে দাম আরো কমে আসবে। কারওয়ান বাজারের একাধিক বিক্রেতা বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে চালের দাম কমছে। গত ৯ দিনের ব্যবধানে চিকন ও মাঝারি চালের কেজিতে ৩-৪ টাকা কমেছে।

পাইকারিতে এক বস্তা চাল (৫০ কেজি) ৫০-৬০ টাকা কমে বিক্রি করা হচ্ছে। সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির হিসেবে, গত ১১ জানুয়ারি থেকে সরু ও মাঝারি চালের দাম কমেছে ২ শতাংশেরও বেশি। যদিও টিসিবির হিসেবে ১ জানুয়ারি চিকন চাল বিক্রি হয় ৬৬-৬৭ টাকা কেজি দরে। আর মাঝারি চাল বিক্রি হয় ৬০-৬২ টাকা কেজিতে।

কাঁচা পণ্যের চিত্র: ভারত রফতানির নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়ার পর দেশের বাজারে ঢুকতে শুরু করেছে আমদানি করা পেঁয়াজ। এর প্রভাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা কমে ৩৪ টাকায় অবস্থান করছে। গতকাল একাধিক বাজার ঘুরে ভারতীয় পেঁয়াজ দেখা যায়নি। কারওয়ান বাজারে মাত্র একটি দোকানে ভারতীয় বড় আকারের ক্রস জাতের পেঁয়াজ দেখা গেলেও এর দাম চাওয়া হচ্ছিল প্রতিকেজি ৪২ টাকা। ৬০ টাকা কেজি আলু এখন ২০-২৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগেও এই আলু ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।

বাজারে শীতের দু-একটি সবজির দামও কমেছে। তবে বেশিরভাগ শীতকালীন সবজি ২০-৩০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, মুলা, শালগমের সরবরাহ বেড়েছে। ফুলকপি ও বাঁধাকপির প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ টাকা, ১০ টাকা কেজি শালগম, মুলা ১০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে, ৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে বড় লাউ। গাজর বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা কেজি। বেগুনের কেজি ২০-৩০ টাকা, করলার কেজি ৩০ টাকা। সব ধরনের শাক বিক্রি হচ্ছে ৫-১০ টাকা আটি। শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে এখনো ২০-৪০ টাকা।

দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে চিনি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, খুচরা বাজারে প্রতি কেজি খোলা চিনির দাম ৪-৫ টাকা বেড়ে ৬৬-৬৮ টাকায় দাঁড়িয়েছে। অবশ্য অনেক দোকানে এখনো আগে কেনা চিনি ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টিসিবি বাজারদরের তালিকা অনুযায়ী, খুচরা দোকানে চিনি বিক্রি হয় ৬৫-৭০ টাকা দরে। যা এক সপ্তাহ আগে ৬৪-৬৫ টাকা ছিল।

পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী গোলাম মাওলা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার কথা বলে কোম্পানিগুলোর মিল গেটে বেশি দাম নিচ্ছে। যে কারণে পাইকারি বাজারে এর প্রভাব পড়ছে। দুই মাস আগে পাইকারি বাজারে ৫২ টাকা কেজি চিনি এখন ৬২ টাকার কিছু বেশি।

 

 






ads
ads