ডিম-মুরগির দামের পেছনেও সিন্ডিকেট


poisha bazar

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০ নভেম্বর ২০২০, ০৯:১৫

অকারণে হঠাৎ ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম বেড়ে গেলে অস্থিরতা শুরু হয় সবজি ও মাছের বাজারেও। কারণ নিম্ন আয়ের মানুষের আমিষের যোগান আসে ব্রয়লার মুরগি ও ফার্মের ডিম থেকেই। এমন অস্থিরতার জন্য ব্যবসায়ীর ‘সরবরাহ কম’, ‘আজ বৃষ্টি বেশি’, ‘আজ বেশি রোদ’- এসব অজুহাত দাঁড় করান। তবে সরেজমিনে ঘুরে পাওয়া তথ্য বলছে, বাস্তবতা ভিন্ন। মূলত দামের চাবিটা নাড়ায় হাতেগোনা কয়েকজন। গুটিকয়েক পোলট্রি কোম্পানির কারসাজিতেই হুটহাট দাম যায় বেড়ে।

জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছোটবড় পোল্ট্রি শিল্প আছে। তবে রাজধানীর অদূরে টঙ্গী, বোর্ড বাজার, জয়দেবপুর ও গাজীপুর এলাকাকে ঘিরে দেশের সবচেয়ে বড় পোল্ট্রি শিল্প গড়ে উঠেছে। মূলত এখান থেকেই নিয়ন্ত্রিত হয় ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের বাজার। প্রতিদিন সকালে এখানকার ব্যবসায়ীরা ফোনে একে অপরের সঙ্গে পরামর্শ করে দর নির্ধারণ করেন। যার প্রভাব পড়ে প্রায় সারা দেশে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের পোল্ট্রি ব্যবসায়ীরাও প্রতিদিন সকালে টঙ্গী, বোর্ড বাজার, জয়দেবপুর ও গাজীপুরের বাজারের দর দেখে নিজেদের বিক্রয়মূল্য ঠিক করে।

একই সঙ্গে এসব শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত পোলট্রি খাদ্য ও ওষুধ আমদানিকারক তিন-চারটি কোম্পানিও এর সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, এসব কোম্পানি যে দামে ফিড ও ওষুধ আমদানি করে তার তুলনায় অনেক বেশি দামে বাজারে ছাড়ে। বাজার তো অস্থির হবেই। সারা দেশের চারটি কোম্পানি এসব পণ্য আমদানি করে বলে সিন্ডিকেট করা খুব সহজ।
গাজীপুর-জয়দেবপুর এলাকার তিনটি পোল্ট্রি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক রাজধানীর পোল্ট্রি বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ পাইকারি পোল্ট্রি ব্যবসায়ীর।

তারা গাজীপুর এলাকায় সোনার বাংলা পোল্ট্রি খামারের মালিক ইদ্রিস আলী, বোর্ড বাজার এলাকায় সাবিহা-সাহানা পোল্ট্রি খামারের মালিক মকবুল হোসেন ও জয়দেবপুরের আকাশ পোল্ট্রির মালিক গোলাম সরোয়ারের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, এই তিনজনই যোগসাজশ করে প্রতিদিনের ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দর নির্ধারণ করেন। টঙ্গী, বোর্ড বাজার, জয়দেবপুর ও গাজীপুর থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা মুরগি ও ডিম রাজধানীর গুলিস্তানে জড়ো করে। সেখান থেকে ভোর ৬টার আগেই রাজধানীর বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় ছড়িয়ে পড়ে।

গুলিস্তানের পোল্ট্রি ব্যবসায়ী তোশারফ আলী জানিয়েছেন, গাজীপুর, বোর্ড বাজার ও জয়দেবপুর থেকেই ডিম-মুরগির দর ঠিক করা হয়। দাম বাড়ার জন্য বোর্ড বাজার, গাজীপুর ও জয়দেবপুরের ব্যবসায়ীরা দায়ী। তাদের নির্ধারিত দরের বাইরে কেনার সুযোগ নাই। তাদের কাছ থেকে আমরা যে দামে মাল কিনি, সেই দামের সঙ্গে পরিবহনসহ অন্যসব খরচ বাদ দিয়ে কেজিতে সর্বোচ্চ ৩ টাকা মুনাফা করি। অনেক সময় মুনাফা আরো কম হয়। কারণ অতদূর থেকে আনতে গিয়ে অনেক মুরগি মারা যায়। ডিমও ভেঙে যায়।

এ বিষয়ে সোনার বাংলা পোল্ট্রি খামারের মালিক ইদ্রিস আলী জানিয়েছেন, সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াই-এমন অভিযোগ ঠিক নয়। আমরা ব্যবসায়ীরা আলাপ আলোচনা করে দর ঠিক করি। কারণ, মুরগির বাচ্চা, মুরগির খাবার ও ওষুধের দাম, শ্রমিকের বেতনসহ সব খরচ মিটিয়ে আমাদেরও তো বেঁচে থাকতে হবে। উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে মুনাফার বিষয়টি নিশ্চিত করতেই পরামর্শ করি। এটাকে সিন্ডিকেট বলা ঠিক নয়।

এদিকে পোল্ট্রি খামারিদের অভিযোগ, পোল্ট্রি শিল্প বর্তমানে অনিশ্চয়তার বেড়াজালে বন্দি। এর জন্য বাচ্চা ও খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দায়ী। তাদের একচেটিয়া ব্যবসার কারণে ব্যবসায়ীরা পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার পথে। তাদের অভিযোগ কাঁচামাল আমদানিকারক ও সয়াবিন মিল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো পোল্ট্রি ফিডের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। এতে পোল্ট্রি পণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে বাজার অস্থির হয়।

 






ads